গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি নতুন টেকনোক্র্যাট প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছে হামাস। গত বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন তদারককারী বোর্ড অব পিস-এর সঙ্গে হওয়া সমঝোতার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
হামাসের মুখপাত্র ইসমাইল আল-থাওয়াবতা বলেন, সরকারের জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফারা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্ব নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর সহজ করতে জরুরি কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এনসিএজি গঠিত হয় গত বছর হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি সম্পন্ন হয়।
তবে প্রশাসন হস্তান্তর কবে এবং কীভাবে হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল কয়েক মাস ধরে এনসিএজির সদস্যদের গাজায় প্রবেশে বাধা দিয়ে আসছে।
এদিকে শান্তি চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এখনো মতবিরোধ রয়েছে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে। এর মধ্যে হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্যতম।
এ ছাড়া গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব ইস্যুতে দুই পক্ষের বিরোধের কারণে চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনো অনিশ্চিত।
উল্লেখ্য, হামাস ২০০৬ সালের নির্বাচনের পর থেকে প্রায় দুই দশক ধরে গাজা শাসন করছে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গাজাকে এখনো দখলকৃত ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০০৫ সালে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা ও বসতি প্রত্যাহার করলেও সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের সময় ইসরায়েলি সেনারা আবারও গাজায় প্রবেশ করে।