এইডস নিয়ে ৭ টি ভ্রান্ত ধারণা  

আজ ‍১ ডিসেম্বর, বিশ্ব এইডস দিবস।এইডস-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্ব সম্প্রদায় ১৯৮৮ সাল থেকে বিশ্ব এইডস দিবস পালন করে আসছে। ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় এ ব্যাধি সম্পর্কে জনসচেতনা বেড়েছে। তবে এখনো এইডস নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে:

আক্রান্তদের কাছেও ঘেষা যাবে না!

এইচআইভি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। বিবিসি জানায়, ২০১৬ সালেও যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মানুষের ধারণা ছিল এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে বা তার ত্বক ও মুখের লালা দ্বারা অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারে। কিন্তু একই বাতাসে নিঃশ্বাস নিলে, হাত মেলালে, জড়িয়ে ধরলে, একই পাত্রে খাবার খেলে কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তির জিনিসপত্র ব্যবহার করলে, তার ব্যবহৃত টয়লেট শেয়ার করলেও বাকিরা এইচআইভিতে আক্রান্ত হবেন না।

মশা কিংবা রক্তচোষা কীটে এইডস ছড়ায়!

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মশা এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ে যদি অন্যকে কামড়ায় তাহলেও এটি ছড়াতে পারে সেটি ভুল ধারনা। যদিও রক্তদ্বারা এইচআইভি ভাইরাস ছড়ায় কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে মশা বা রক্ত খায় এমন কিট দ্বারা আপনি আক্রান্ত হবেন না। তার দুটি কারণ। একটি হল একজনের শরীর থেকে রক্ত খেয়ে সে সেই রক্ত দ্বিতীয় কোন ব্যক্তির শরীরে ইনজেকশন দেওয়ার মতো করে রক্ত ঢুকিয়ে দেয়না। আর মশা বা অন্য কিটের শরীরে এই জীবাণু খুব সামান্য সময় বেঁচে থাকে।

এইচআইভি পজেটিভ মানেই এইডস রোগী!

এইডস ব্যাধি যখন মারাত্মক আকারে ছড়িয়ে পড়ছিল তখন নানা রকমের ধারণা ছড়াচ্ছিল। যার একটি হলো এইচআইভি পজেটিভ মানেই এইডস। কিন্তু পরবর্তীকালে বিস্তারিত গবেষণায় জানা যায়, প্রাথমিক অবস্থায় এইচআইভি পজেটিভ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেলে এই ভাইরাস এইডসে পরিণত হওয়া ঠেকানোও সম্ভব।  

আপনার সঙ্গী এইডসে আক্রান্ত হতে পারে না!  

ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণকারী, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী বা অতীতে এমন ছিলেন কিন্তু সম্প্রতি ছেড়ে দিয়েছেন, এমন কেউ আপনার সঙ্গী হলে তিনি কেবল আপনার সঙ্গেই যৌন সম্পর্ক রাখছেন ভেবে তার দেহে যে এইচআইভি থাকতেই পারে না, তা ভাববেন না। এখনও অনেক সমাজে প্রচলিত আছে কারও এইচআইভি ইনফেকশন আছে কি না তা মুখ দেখে বোঝা যায়। অথচ এই ইনফেকশনের সাধারণত কোনো লক্ষ্মণ থাকে না। তাই মুখ দেখে বোঝা যাওয়ার ধারণাটি ভ্রান্ত।

এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী সবার নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা। এইচআইভি পরীক্ষার মাধ্যমেই আপনার সঙ্গী এতে আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত হতে পারবেন।

দুজন এইচআইভি পজেটিভের সুরক্ষিত যৌন মিলনের দরকার নেই!  

অনেকে ভাবেন নিজের এবং সঙ্গীর দুজনেরই এইচআইভি পজেটিভ, তাই আর কনডম ব্যবহার করে কী হবে! কিন্তু এটাই বড় ভুল। মনে রাখা বাঞ্চনীয় সব এইচআইভি স্ট্রেইন এক রকম হয় না। এক সঙ্গে একাধিক স্ট্রেইনে আক্রান্ত হলে জটিলতা বাড়ে। যাকে বলা হয় সুপারইনফেকশন। এছাড়া অন্যান্য যৌনতাবাহিত রোগতো হতেই পারে।

দেহে এইচআইভি, বাঁচবে আর কতদিন!

এইচআইভিতে আক্রান্তরা অল্প বয়সে মারা যায়- এ ধারণাটিও ভুল। বর্তমানে নানা ধরনের চিকিৎসার মাধ্যমে এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তিও দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করতে পারছেন।জাতিসংঘের এইডস বিষয়ক সংস্থা বলছে আক্রান্তদের মধ্যে ৪৭ শতাংশের ক্ষেত্রে এইচআইভি ভাইরাসের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রাখা সম্ভব। এমনকি অনেক সময় রক্ত পরীক্ষায়ও ভাইরাস আর ধরা পড়ে না। তবে তারা যদি চিকিৎসায় অবহেলা করেন তবে এর মাত্রা আবার শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

আক্রান্ত নারী কোনো শিশু জন্ম দিলে সেই শিশুও আক্রান্ত!  

প্রচলিত ধারনা হচ্ছে এইচআইভি আক্রান্ত নারী সন্তান জন্ম দিলে তার শিশুরও শরীরে এই ভাইরসা চলে যাবে। কিন্তু সবসময় সেটি নাও হতে পারে। আক্রান্ত মায়ের শরীরের এইচআইভির মাত্রা যদি নিয়ন্ত্রণে থাকে তবে সন্তান জন্মদানের সময় সে শিশুকে আক্রান্ত নাও করতে পারে।

আক্রান্ত নারী বা পুরুষের সাথে অনিরাপদ যৌন সম্পর্কে স্থাপন করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবেন। অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত নিলে, এরকম কারো ব্যবহৃত একই সিরিঞ্জ শরীরে প্রবেশ করলেও আপনি এই জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হবেন। এগুলোই এইচআইভি সংক্রমণের আসল ও সবচাইতে বড় কারণ। এইচআইভি থেকে নিরাপদ থাকার সহজ উপায় সচেতন থাকা এবং অবশ্যই নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা।