ফেনী-৩

একই আসনে প্রার্থী বাবার সঙ্গে ছেলে ও স্বামীর সঙ্গে স্ত্রী

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে বাবা-ছেলে এবং স্বামী- স্ত্রীর মনোনয়ন পত্র জমা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

তাঁরা হলেন যুবলীগের সাবেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. আবুল বাশার, তাঁর ছেলে কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা ইশতিয়াক আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য রহিম উল্যাহ ও তাঁর স্ত্রী পারভীন আক্তার। চারজনের মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মো. আবুল বাশার। বাকিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী।

তবে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে নয় বরং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শঙ্কায় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতেই ভোটে দাঁড়িয়েছেন তারা।

হাজী রহিম উল্যাহ এটা রাজনৈতিক কৌশল বললেও আবুল বাশার নিজের ছেলের ব্যাপারে দলীয় সিদ্ধান্ত বলে জানান। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মনে করে, নিজেদের প্রার্থিতা ঝুঁকিপূর্ণ ও ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও গুরুত্বহীন করতে একই পরিবারের দুজন প্রার্থী হয়েছেন।

গত নির্বাচনে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে আসন ছেড়ে দিতে গিয়ে প্রার্থী প্রত্যাহার করেছিল আওয়ামী লীগ। এবারও সেই ‘শঙ্কা’ থাকায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. আবুল বাশারের সঙ্গে প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা ইশতিয়াক আহমেদ সৈকত। কোন কারনে নিজের প্রার্থিতা বাতিল হলে সেই ক্ষেত্রে স্ত্রী ও ছেলের জন্য নির্বাচন করবেন পিতা ও স্বামী।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ছেলের মনোনয়ন দাখিলের বিষয়ে জানতে চাইলে নৌকা মার্কার প্রার্থী মো. আবুল বাশার বলেন, এটা দলীয় সিদ্ধান্ত, শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো আসনে কেউ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া যাবে না। নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে স্বতন্ত্র পদে দলের যে কোনো নেতা–কর্মী অংশ নিতে পারবেন। তাই ইশতিয়াক আহমেদ ফেনী-৩ আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছে।

তবে এ আসনে এত প্রার্থী হবেন তা কল্পনা করেননি জানিয়ে তিনি বলেন, এটা আমাদের রাজনৈতিক কৌশলও বলতে পারেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হয়ে সাবেক সংসদ সদস্য রহিম উল্যাহর প্রার্থীতা বাতিলের শঙ্কায় স্বামীর সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন তার স্ত্রী পারভীন আক্তারও।

সাবেক সংসদ সদস্য রহিম উল্যাহ জানান, তিনি দলীয়ভাবে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন চেয়ে পাননি। তিনি বলেন, এটা আমার একটা রাজনৈতিক কৌশল, দল যাকে ভালো মনে করেছে, তাঁকেই মনোনয়ন দিয়েছে। স্বতন্ত্র পদে ভোট করার জন্য দল থেকে বলা হয়েছে তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।

রহিম উল্যাহর স্ত্রী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী পারভীন আক্তার বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে সবাইকে নিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাসহ এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন। তার বিশ্বাস, জনগণ তাকে অথবা তার স্বামীকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য পদে বিজয়ী করবেন। দুইজনের কোন একজনকে বিজয় দেখতে চান তিনি।

সুজন ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন একই পরিবারের স্বামী স্ত্রী ও পিতা পুত্র প্রার্থী হলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা কমে যায়। তারা মূলত একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে সহযোগী হয়ে কাজ করবেন। এক্ষেত্রে তিনি তিনটি কারণ মনে করেন, নিজেদের প্রার্থিতা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে পরিবারের অন্য কাউকে ডামি প্রার্থী করেছেন, নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করা ও যার কারনে নির্বাচনকে প্রশ্নবিত্ত ও গুরুত্বহীন করা।

সোনাগাজী উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, যে কেউ যেকোনো জায়গা থেকে একাধিক মনোনয়ন নিতে পারেন, এক্ষেত্রে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ও প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ নেই।

এছাড়া ফেনী-৩ আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, জাতীয় পার্টির বর্তমান সাংসদ লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) জেড এম কামরুল আনাম, স্বতন্ত্র (সাবেক জাতীয় পার্টি প্রার্থী) আনোয়ারুল কবির ওরফে রিন্টু আনোয়ার, তৃণমূল বিএনপি'র আজিম উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) তবারক হোসেন, জাকের পার্টির আবুল হোসেন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আবু নাসের, বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্টের নিজাম উদ্দিন, সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের জোবায়ের ইবনে সুফিয়ান, স্বতন্ত্র আবদুল কাশেম আজাদ।

জাতীয় সংসদে ফেনী জেলার আসন তিনটি। এসব আসনে এবার মোট ৩৮ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বলে জানিয়েছেন ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোসাম্মৎ শাহীনা আক্তার।

তিনি আরও জানান, ফেনীর তিনটি আসনে ৪৪টি মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৮টি ফরম জমা পড়েছে।

এর মধ্যে ফেনী-১ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাসদসহ ১৪জন, ফেনী-২ আসনে আওয়ামী লীগ, তৃণমূল বিএনপিসহ ১০জন এবং ফেনী-৩ আসনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ ১৪জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্র জানায়, ফেনী-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের আলা উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, জাসদ (ইনু) থেকে বর্তমান সংসদ শিরিন আখতার, জাতীয় পার্টি থেকে শাহরিয়ার ইকবাল পাটোয়ারী, জাকের পার্টির রহিম উল্যাহ ভূইয়া, তৃণমূল বিএনপির মো. শাহজাহান সাজু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আনোয়ার কামরান মোর্শেদ ও মো. আলমগীর আলম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের মাহবুব মোর্শেদ মজুমদার, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের কাজী মো. নুরুল আলম, স্বতন্ত্র হিসেবে আওয়ামী লীগের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রউফ, স্বতন্ত্র মিজানুল হক, স্বতন্ত্র তাজুল ইসলাম মজুমদার, স্বতন্ত্র মো. ফখরুল ইসলাম মজুমদার, স্বতন্ত্র আবুল হাশেম মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

ফেনী-২ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, জাতীয় পার্টির খন্দকার নজরুল ইসলাম, স্বতন্ত্র হিসেবে আওয়ামী লীগের এ এস এম আনোয়ারুল করিম ফারুক, তৃণমূল বিএনপি আ. ঈ ম আমজাদ হোসেন সবুজ, জাকের পার্টির নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের মাহবুব মোর্শেদ ও মো. নুরুল ইসলাম ভূইয়া, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের মাওলানা নুরুল ইসলাম, খেলাফত আন্দোলনের আবুল হোসেন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোহাম্মদ হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।