যুদ্ধবিরতি শেষ, গত শুক্রবার থেকেই আবার গাজায় ইসরায়েলি ‘বোমা-বৃষ্টি’ শুরু হয়েছে। বিরতি শেষে প্রথম দিনেই গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১০০ ছাড়িয়েছিল। গাজায় ইসরায়েলের নিশানা করায় কাজে লাগানো হচ্ছে অত্যাধুনিক আর্টফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং। ইসরায়েলি এই মারাত্মক প্রযুক্তির নাম রাখা হয়েছে ‘দ্য গসপেল’।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেকান হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালেই ‘অপারেশন গার্ডিয়ানস অফ দ্য ওয়াল’ চালু করেছিল ইসরায়েল। সেই সময় এআই টুলের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতেই গাজায় হামলা চালিয়েছিল তেল আভিভ। ইতিহাসে ওই ১১ দিনের লড়াই ‘প্রথম এআই যুদ্ধ’ নামে পরিচিত পেয়েছে।
এবারের লড়াইয়েও ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) ‘গসপেল’, ‘অ্যালকেমিস্ট’ ও ‘ডেপথ অব উইজডমে’র মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এগুলো এআইয়ের মাধ্যমে টার্গেটকে চিহ্নিত করেছে। ফলে সেখানে ইসরায়েলি হামলা চালানো সহজ ও দ্রুততর হয়েছে। এর মধ্যে ‘গসপেল’ দ্রুতগতিতে স্বয়ংক্রিয় টুলের সাহায্যে টার্গেটকে চিহ্নিত করতে পারে। এই গসপেলের সহায়তায় আগে বছরে যেখানে ৫০ টি টার্গেট করতে পারতে সেখানে এখন দিনে কমপক্ষে ১০০ টার্গেট করতে পারছে ইসরায়েল।
গত ২ নভেম্বর আইডিএফ দাবি করে, তারা মাত্র ২৭ দিনে ১২ হাজার টার্গেটে হামলা চালিয়েছে। দৈনিক ৪৪৪ আক্রমণ। আর এই পুরোটাই সম্ভব করতে পেরেছে এআই।
ডেকান হেরাল্ডের প্রতিবেদন বলছে, ফিলিস্তিনে গসপেল প্রযুক্তির সহায়তায় ইসরায়েল যে নিশানা করছে তার সবই যে একেবারে নির্ভুল তা নয়। ইসরায়েক গসপেল দিয়ে কেবল ‘সন্ত্রাসী’ আস্তানাকে নিশানা বানাচ্ছে বললেও গাজায় বেসামরিক, নিরপরাধ মানুষই বেশি শিকার হচ্ছে।