মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে মনোনয়নপত্রে সংযুক্ত ১ শতাংশ ভোটারের তালিকার তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ফাঁস করা ওই তালিকার ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সোহানা তাহমিনা সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সফিউদ্দিন আহমেদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি। এতে তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনযুক্ত কাগজ দাখিল করেছি। যাচাই-বাছাই করার লক্ষ্যে ওই তালিকা থেকে ১০ জন ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়। আর সেই ১০ জনের তালিকা ইউএনও মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কাছে ফাঁস করে দেন। এরপর সেই ১০ ভোটারকে হুমকি-ধমকি দিয়েছেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাহিদ খান। এ ঘটনায় প্রার্থী সোহানা তাহমিনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে সোহানা তাহমিনা জানান, তার সমর্থক তালিকার ভোটার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সেরজাবাদ গ্রামের ফাতিমা, সোনারং-টঙ্গীবাড়ি ইউনিয়নের ভোটার জুলহাস ও লৌহজং উপজেলার বেজগাঁও ইউনিয়নের হাটভোগদিয়া গ্রামের ভোটার জাহিদ হাসানকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির সমর্থক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাহিদ হুমকি দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গীবাড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও সোনারং-টঙ্গীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মানিক মিয়া বাচ্চু মাঝি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন লিটন মাঝি, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা আক্তার প্রমুখ।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থনযুক্ত ভোটার তালিকার তথ্য ফাঁস করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউএনও মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাহিদ খান বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আজ এ পর্যন্ত এসেছি। নৌকার পক্ষে রয়েছি, থাকব। তাই বলে আমি এ কাজ করব কেন। যেখানে নৌকার জয় সুনিশ্চিত।’