বিএসএমএমইউর ৫ শিক্ষককে গণভবন যাওয়ায় শোকজ

গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রদান অনুষ্ঠানে যাওয়ায় শোকজ নোটিস পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পাঁচজন চিকিৎসক। তাদের গত ২৭ নভেম্বর এ নোটিস দেওয়া হয়। নোটিসে তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তার কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৬ নভেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সব সদস্য এবং আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সব প্রার্থীকে (জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, মনোনয়নপত্রের রিসিভ কপি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইন ফরমের ফটোকপিসহ) যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ওইদিন গণভবনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ৩ হাজার ৩৬২ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর ডাক পড়েছিল।

জানা গেছে, গণভবনে মনোনয়ন বোর্ডের সভায় যোগদান করতে গিয়েছিলেন ক্ষমতাসীন দলের চিকিৎসক নেতা বিএসএমএমইউর অর্থোপেডিক্স বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরুসহ পাঁচ চিকিৎসক। বিষয়টি জানতে পেরে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন ওই পাঁচ শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং পরদিন ২৭ নভেম্বর তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়।

যাদের নোটিস দেওয়া হয় তারা হলেন, বিএসএমএমইউ’র সাবেক প্রক্টর ও ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফ্ফর আহমেদ, অর্থোপেডিক্স বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাদিউজ্জামান সেলিম, ইউরোলজি বিভাগের ডা. রেজওয়ানুল হক রাব্বানী ও অর্থোডনটিক্স বিভাগের ডা. মাহফুজুর রহমান উজ্জ্বল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. হাদিউজ্জামান সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, আমি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসন থেকে মনোনয়নপত্র কিনেছি। যারা প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। সেদিন আমিও গণভবনে গিয়েছিলাম। বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন হয়তো বিষয়টি অবগত ছিলেন না। তাই তারা নোটিস দিয়েছেন, আমার জানিয়ে যাওয়া উচিত ছিল।