পেনশনের জন্য পেরেশানি আর নয়

দেশের সকল পেনশনারের আর অহেতুক পেরেশানি ও ঘোরাঘুরি করতে হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) মো. নুরুল ইসলাম। পেনশন সেবা আরও সহজ ও জনবান্ধব করার পাশাপাশি তিনি অডিটেও যেন কেউ সমস্যার সম্মুখীন না হন সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

আজ সোমবার (০৪ নভেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে অডিট ভবনে সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন সংক্রান্ত সেবা আরও সহজ ও জনবান্ধব করতে মনিটরিং ও সেবা প্রদান সংক্রান্ত হেল্প ডেস্ক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সিএজি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সারা জীবনের চাকরি শেষে পাওয়া পেনশনকে আরও সহজ, সাবলীল, গতিশীল ও উন্নত করার জন্য প্রতিটি কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই, দেশের উন্নতি জনগণের উন্নতি।

বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) মো. নুরুল ইসলাম।

সিএজি বলেন, পেনশনগ্রহীতার সেবা পেতে যেন কোনো বিলম্ব না হয়, পেরেশানি না হয়, কষ্ট না হয়— এটা সহজ করতেই এ হেল্প ডেস্ক উদ্বোধন করা হলো। হেল্প ডেস্কের একটি হট নম্বর থাকবে, সেখানে পেনশন সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় ফোন করা যাবে। পেনশনগ্রহীতাদের সমস্যা জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পেনশনগ্রহীতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো সমস্যা হলে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন, প্রয়োজনে আসতে পারলে আসবেন, আমরা সংশ্লিষ্ট অফিসের সঙ্গে কথা বলে সময় বেধে দেব, বিধিমত কাগজপত্র ঠিক থাকলে সব সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু অহেতুক পেরেশানি ও ঘোরাঘুরি আর হবে না ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে পেনশনারের সব ধরনের পেমেন্ট প্রক্রিয়ায় ইএফটি পদ্ধতিতে প্রবর্তন করা হয়েছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ বিধিগতভাবে প্রাপ্য সব সুবিধা নির্ধারিত হচ্ছে, যথাসময়ে সব পেনশনারের পেমেন্ট নিশ্চত করা সম্ভব হচ্ছে, পেনশনারদের ভোগান্তি লাঘব করা সম্ভব হয়েছে এবং পেনশন ভাতাদি গ্রহণের সময় ও ব্যয় হ্রাস পেয়েছে।

দেশের সকল পেনশনারদের আর অহেতুক পেরেশানি ও ঘোরাঘুরি করতে হবে না।

হেল্প ডেস্ক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কন্ট্রোলার জেনারেল অব অ্যাকাউন্টস (সিজিএ) ফাহমিদা ইসলাম, ডেপুটি কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (এএন্ডআর) এস এম রেজভী, সিনিয়র ফাইন্যান্স কন্ট্রোলার (নেভি) ডা. তানজিনা ইসলাম, সিনিয়র ফাইন্যান্স কন্ট্রোলার (ডিপি) আফরোজা সালেহ, ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট একাডেমির (ফিমা) মহাপরিচালক মো. মোস্তফা কামালসহ নিরীক্ষা ও হিসাব বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

সম্প্রতি পেনশন সেবাপ্রত্যাশীদের যথাযথ সেবা প্রদান এবং সেবাগ্রহীতাগণের নিকট থেকে সরাসরি ফিডব্যাক প্রাপ্তি আরও সুসংহতকরণের লক্ষ্যে এডিসিএজি (পরীক্ষা ও পরিদর্শন) কামরুজ্জামানকে দলনেতা করে ২০ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং টিম গঠন করা হয়। 

সিএজি অফিস বলছে, ফিডব্যাক ও মনিটরি সফটওয়্যারের মাধ্যমে এ হেল্প ডেস্কের তদারকি কন্ট্রোলার জেনারেল অব অ্যাকাউন্টসের কার্যায় (সিজিএ), কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্স (সিজিডিএফ) ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অর্থ) বাংলাদেশ রেলওয়ের দেশব্যাপী বিভিন্ন হিসাবরক্ষণ অফিস হতে লাম্প গ্রান্ট, জিপিএফ চূড়ান্ত পরিশোধ ও আনুতোষিকসহ অন্যান্য সেবা প্রদান এবং নিরীক্ষা সংক্রান্ত সেবা আরও সহজ ও জনবান্ধব করবে। এ জন্য দুটি হেল্প হেল্প লাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। নম্বর দুটি হলো- ০১৩০২-৫৮৯৮৫২০১৮৫৮-৭৫০৬০৬

হেল্প ডেস্ক উদ্বোধন শেষে ফটোসেশন।

হেল্প ডেস্কের টিম লিডার কামরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা সারা দেশে মাঠ পর্যায়ের সকল হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে সম্মানিত পেনশন সেবাপ্রত্যাশীদের যথাযথ সেবা প্রদান এবং সম্মানিত সেবাগ্রহীতাগণের নিকট থেকে টেলিফোনের মাধ্যমে সেবা প্রাপ্তির বিষয়ে সরাসরি ফিডব্যাক গ্রহণ করে থাকি। সিএজি কার্যালয়ের মনিটরিং ফিডব্যাকের মাধ্যমে সেবা প্রদান যথাযথ হচ্ছে কি না তা মনিটরিং করারও ব্যবস্থা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সারা দেশে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী রয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমানে প্রায় সাড়ে আট লাখ পেনশনার রয়েছেন।