অডিটরদের অবস্থান কর্মসূচির মঞ্চ-প্যান্ডেল ভেঙে আন্দোলন নস্যাৎ করার চেষ্টা

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৮:১০ পিএম

অডিটরদের ১০ম গ্রেড দাবির শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিকে বিতর্কিত ও নস্যাৎ করার জন্য বহুমুখী ষড়যন্ত্র ও প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস (নন-ক্যাডার) কর্মকর্তা-কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ। তারা বলছে, রাতের অন্ধকারে তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির মঞ্চ ও প্যান্ডেল ভেঙে ফেলা হয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের কিছুসংখ্যক অনুসারী ও সর্বোচ্চ সুবিধাভোগীরা তাদের বিরুদ্ধে কাল্পনিক, ভিত্তিহীন এবং অন্যায় আচরণ করছে। 

অডিটররা বলছেন, অডিটর পদের ১০ম গ্রেড তাদের দাবি নয়, এটা তাদের অধিকার। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদ মোতাবেক, কর্মক্ষেত্রে কারও প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। কিন্তু অডিটরদের প্রতি এই বৈষম্য সংবিধানের উক্ত অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সকল ডিপার্টমেন্টের সংস্কারমূলক কাজের জন্য তাগিদ প্রদান করলেও তাদের ডিপার্টমেন্ট আমাদের প্রতি বৈষম্যমূলক অর্থাৎ একই পদে বিদ্যমান দুই গ্রেড বৈষম্যটি দূরীকরণে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। 

আজ বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

‌এতে বলা হয়েছে, বৈষম্যহীন বাংলাদেশে আমরা যখন আমাদের ন্যায্য অধিকার দাবী করছি তখন বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের কিছুসংখ্যক অনুসারী ও সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী কর্তৃক আমাদের বিরুদ্ধে কাল্পনিক, ভিত্তিহীন এবং অন্যায় আচরণ করছে। আমরা লক্ষ্য করছি আমাদের ন্যায্য অধিকারের প্রতি মহামান্য উচ্চ আদালতের রায় ও মাননীয় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল স্যারের সদয় সম্মতি থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক অবস্থান কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্থ করে বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমাদের ন্যায্য অধিকারের বিষয়ে বাংলাদেশের প্রায় সকল ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া অবগত আছে। আমরা আশা করি বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার আমাদের অডিটর পদকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করে দ্রুত 'জিও' জারির মাধ্যমে বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করবেন।

প্রেস রিলিজ বলা হয়েছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) কার্যালয় ও তার অধীনস্থ দপ্তরসমূহের অডিটরগণের ক্ষেত্রে একই পদে দুই ধরনের বৈষম্যমূলক বেতন গ্রেড বিদ্যমান অর্থাৎ অডিটরগণদের মধ্যে কেউ কেউ ১১তম গ্রেডে বেতন গ্রহণ করছেন আবার কেউ কেউ ১০ম গ্রেডে বেতন গ্রহণ করছেন। যা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের মূলনীতির পরিপন্থি।

রাষ্ট্রের আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সর্বদা সচেষ্ট ও আন্তরিক। বিশ্বব্যাপী মহামারী কোভিড-১৯ চলাকালে নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লকডাউন থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রের সকল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি প্রদানের মাধ্যমে স্বীয় কর্তব্য পালন করেছে।

মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের রায় (পূর্ণাঙ্গ আপীল এবং রিভিউ নিষ্পত্তি) ও তিনটি কনটেম্পট পিটিশন (৭৫৯/২০১৯, ২৬৪/২০২১ ও ৫৬৯/২০২১) এর গুরুত্বপূর্ণ রায় থাকা সত্ত্বেও অডিটরদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সমগ্র বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূরীভূত হলেও অডিট এন্ড একাউন্টস ডিপার্টমেন্ট এর অডিটরগণ এখনো স্বৈরাচারের দোসরদের দ্বারা চরমভাবে বৈষম্যের স্বীকার।

বৈষম্যবিরোধী অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস (নন-ক্যাডার) কর্মকর্তা-কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের প্রেস রিলিজে আরও বলা হয়েছে, আমরা নিজ নিজ অধিকার আদায়ের জন্য স্বেচ্ছায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে আমাদের অফিস চত্ত্বরে সুদীর্ঘ এক মাস যাবত গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছি (গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে) এবং ডিপার্টমেন্টের সকল পর্যায়ের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ (অডিট এন্ড একাউন্টস অফিসার, এসএএস সুপার, অডিটর, জুনিয়র অডিটর) অডিটরদের ন্যায্য অধিকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সহিত বলতে হয়, আমাদের এই শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির মঞ্চ ও প্যান্ডেল গত ১১/০৯/২০২৪ খ্রি. তারিখ মধ্যরাতে একদল দুষ্কৃতিকারী ভেঙ্গে দেয় এবং আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিকে বিতর্কিত করার প্রয়াসে বহুমুখী ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমাদের সংযত আচরণের বিপরীতে বিভিন্ন প্রকার শৃঙ্খলা ভঙ্গের বানোয়াট অভিযোগ এনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। আমরা এ ধরণের প্রোপাগান্ডাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি।

এদিকে নিরীক্ষা ও হিসাব বিভাগে কর্মরত কতিপয় কর্মচারীগণ কর্তৃক বিভিন্ন সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাডার কর্মকর্তাগণকে জড়িয়ে বিভিন্ন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং অশোভনীয় শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিসিএস অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অ্যাসোসিয়েশন।

সংস্থাটি বলছে, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা এবং বাধা প্রদান করার কারণে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টের ভাবমূর্তি ও ক্যাডার কর্মকর্তাগণের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করাসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত