ভারতে তৈরি নিম্নমানের কাশির সিরাপই গত বছর গাম্বিয়ায় ৬৬টি শিশু মৃত্যুর কারণ বলে জানিয়েছিল আমেরিকার শীর্ষ স্বাস্থ্য সংস্থা, সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং গাম্বিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সিডিসি এবং গাম্বিয়ার যৌথ তদন্তে এই তথ্য প্রকাশের পর পরই দেশ জুড়ে কাশির সিরাপের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালানো শুরু করে ভারত সরকার। এসব পরীক্ষায় দেশটির ৫০টিরও বেশি ওষুধ কোম্পানি দ্বারা তৈরি কাশির সিরাপ গুণমানগত পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, ২১০৪ টি পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা গিয়েছে ১২৮ টি ওষুধ কোম্পানির মধ্যে ৫৪ টি ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি কাশির ওষুধের গুণমান পরীক্ষায় সফল হয়নি। দেশের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে কাশির ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল।
এ ছাড়া গুজরাটের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ পরীক্ষাগারেও নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে কিছু দিন আগেই। সেখানে ৩৮৫টি সংগৃহীত নমুনার মধ্যে ২০টি ওষুধ কোম্পানির ৫১ টি কাশির সিরাপ গুণমান পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।
মুম্বাইতেও চালানো হয়েছে একই রকম সমীক্ষা। সেখানেও ৫২৩টি নমুনার মধ্যে ১০টি ওষুধ কোম্পানির ১৮টি ওষুধই গুণমান পরীক্ষায় সফল হয়নি।
গাম্বিয়ায় ভারতের তৈরি কাশির সিরাপ খেয়ে শিশু মৃত্যুর পর থেকে গত ১ জুন থেকে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (DGFT) রপ্তানিকারকদের জন্য তাদের কাশির সিরাপ সরকারি পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা এবং রপ্তানির আগে বিশ্লেষণের প্রশংসাপত্র (COA) নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে।
এরপরও ভারতজুড়ে ভেজাল ও নিম্নমানের শিশুদের কাশির সিরাপ দিয়ে সয়লাব। আর তাই এবার ভেজাল ঠিক করতে মাঠে নেমেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
আমেরিকার শীর্ষ স্বাস্থ্য সংস্থা সেন্টার ফল ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি)-র রিপোর্টে বলা হয়েছিল, গাম্বিয়াতে আমদানি করা কাশির ওষুধে ডাইথিলিন গ্লাইকল বা ইথিলিন গ্লাইকলের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল, যা শিশুদের কিডনিতে সংক্রমণের জন্য দায়ী।