ওপেনারের নতুন অভিষেক

মুশফিকের এমন আউটে হতাশ তামিম

মুশফিক তখন ব্যক্তিগত ৩৫ রানে। জেমিসনের করা ওভারের চতুর্থ বলটি ব্যাকফুটে খেলেছিলেন তিনি। বল ব্যাটে লেগে মাটিতে পড়ে বাউন্স খেয়ে ওপরে উঠল। তবে এমন নয় যে সেটি স্টাম্পের দিকে আসছিল বা তাতে তার আউটের কোনো সম্ভাবনা ছিল। মুশফিক তবু ইচ্ছাকৃতভাবে বলটি ডান হাত দিয়ে সরিয়ে দেন।

নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা সুযোগটা নিতে ভুল করেননি। ‘হ্যান্ডলড দ্য বল’ আউট ছিলেন তিনি। যা বর্তমানে অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড-এর আওতায় পড়ে। সেটারই আবেদন করেন কিউই ফিল্ডাররা। ভিডিও রিপ্লে দেখে থার্ড আম্পায়ার মুশফিককে আউট ঘোষণা করেন।

৪১তম ওভারে কাইল জেমিসনের বলে যেটা করে মুশফিক নিজের উইকেটটা নিজেই শেষ করে দিয়ে এলেন, সেটা দেখে রীতিমতো বিস্মিত জাতীয় দলের ওপেনার। মুশফিকের আউট দেখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আজই প্রথম ধারাভাষ্য দিতে মাইক্রোফোন হাতে নেওয়া তামিমের মুখ দিয়ে প্রথমেই বেরিয়ে এল, ‘মুশফিকের এমন আউট খুবই হতাশাজনক।’

ধারাভাষ্যে ওই সময় ছিলেন আতহার আলী খান, তবে মুশফিকের ওরকম আউট দেখে চুপ থাকতে পারেননি ধারাভাষ্য কক্ষে তার পাশেই থাকা তামিম। মুশফিকের আউট দেখে বিস্মতি তামিম বলেন, ‘৮০টিরও বেশি টেস্ট খেলেছে মুশফিক। তার জানা উচিত ছিল এটা করা যায় না।’

মুশফিক কেন ওরকম একটা কাজ করতে গেলেন, একজন খেলোয়াড় হিসেবে সেটারও ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তামিম। যার সারমর্ম হলো, এটা হয়তো মুশফিক নেট প্র্যাকটিসের অভ্যাস থেকেই করে ফেলেছেন। নেটে ব্যাটিংয়ের সময় ব্যাটসম্যানের পেছনে কেউ থাকে না। ব্যাটসম্যান শট খেলার পর বল আশপাশে থাকলে অনেক সময় নিজেই হাত দিয়ে সেটা থামিয়ে দেন। মুশফিক হয়তো সে অভ্যাসবশতই ভুলটা করে ফেলেছেন। তবে কোনো অজুহাতই তাঁর অমন বোকার মতো আউট হওয়াটাকে সমর্থন করে না। তামিমও বলেছেন, ‘এ ধরনের আউটে এটা কোনো অজুহাত হতে পারে না।’

বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ ধরনের আউট হলেন মুশফিক। বিশ্ব ক্রিকেটে যা অষ্টমবারের মতো ঘটল।