তিনবিত্ত
তুমি কমে যাচ্ছো,
কমে কমে হ্রাস হয়ে যাচ্ছো!
দাস হচ্ছো, ক্রীতদাস।
থেমে যাচ্ছো,
নেমে যাচ্ছো জলসিঁড়ির সর্ব শেষ ধাপে
স্নায়ুযুদ্ধের চাপে,
পাসপোর্ট সাইজ হয়ে যাচ্ছো
তুমি দুপুর থেকে দুই টুকরো বিকেল হয়ে যাচ্ছো।
কমতে কমতে
জমতে জমতে
মিশে যাচ্ছো মৌন বরফে।
নিচে নামতে নামতে ন্যূনতম এবং নিম্নবিত্ত হয়ে যাচ্ছো,
সংখ্যালঘু হয়ে যাচ্ছো। যোগ-পূরণের বদলে ভাগ-বিয়োগ হয়ে যাচ্ছো, আমাদের ছোট নদীর হাঁটুজল হয়ে যাচ্ছো, নদীর তলদেশে নৌকার মতো।
আই.কম, বি.কম হয়ে যাচ্ছো। বনসাই হয়ে যাচ্ছো।
আকাশ থেকে মাটিতে, মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়ে ঝরছো
ঘন সর হয়ে যাচ্ছো, লিকুইড। পাউডারের গুঁড়োদুধ হয়ে যাচ্ছো।
ক্ষুদ্র এবং সংক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছো; কর্পূর হয়ে যাচ্ছো
সরলরেখা থেকে বিন্দু হয়ে যাচ্ছো, বিলুপ্ত ভাষার মতো হিব্রু হয়ে যাচ্ছো
হরপ্পা হয়ে যাচ্ছো
স্বপ্ন হয়ে যাচ্ছো।
ক্রমশ হয়ে যাচ্ছো
ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বিরল নৃ-গোষ্ঠী হয়ে যাচ্ছো।
অমানুষ হয়ে যাচ্ছো।
বিলুপ্ত ভাষার মতো হিব্রু হয়ে যাচ্ছো
খাট-পালঙ্ক থাকা সত্ত্বেও পছন্দ গৃহপরিচালকের চৌকি উচ্চবিত্ত।
খাটের কথা চিন্তা করে মাঝপথে গতি থামিয়ে দেওয়াই মধ্যবিত্ত।
চকি নেই। মেঝেই মানবজীবন, মাটিতেই চাষবাসের নাম নিম্নবিত্ত।
৫০৬ স্ট্রিটকার
তোমাকে পাওয়া মানে পৃথিবীর বাইরে (ব্ল্যাকহোলে) যাওয়া, দূরত্বের ওপারে।
ঈশ্বরের সমান্তরাল তুমি, তোমরা উভয়ের এক প্রকার কিংবা দুই প্রকার রূপকথা, তবে তুমি মাঝেমধ্যে মৃত, মাঝেমধ্যে বিবাহিত, তোমাকে মাঝেমধ্যেই ডিম ভাজতে হয়।
মেইন ট্রিস্ট থেকে ৫০৬ স্ট্রিটকার
শুধু তোমার বাড়িতেই যায়!
আমার জাহাজ, উড়ো জাহাজ, প্রাইভেট ট্রেনট্রাম কিছুই নেই।
আমাদের নিজস্ব একটি ডাকঘরও নেই,
ভবিষ্যৎ নেই, অথবা আছে।
ফোর-ও-ওয়ান হাইওয়েতে
৮০-৯০ থেকে ১০০, ১৫০ স্পিড দিয়েও তোমার বাড়ি যাওয়া যায় না,
সাত আসমানেও না।
ঈশ্বর অদৃশ্য। ভবিষ্যৎও তাই।
তোমার ডিম ভাজার ঘ্রাণগন্ধসুবাস ছড়িয়ে পড়ছে
প্রতিবেশী ভাষায়।