মুশফিকের অদ্ভুতুড়ে আউট নিয়ে বিভ্রান্তি

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে গতকাল মুশফিকুর রহিমের অদ্ভুতভাবে আউট হওয়া নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন অনেকেই। ম্যাচের প্রথম দিনের দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে কাইল জেমিসনের বলে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলেন তিনি। মাটিতে বাউন্স খেয়ে স্টাম্প থেকে দূরের দিকে চলে যাওয়া বলটি হাত দিয়ে সরিয়ে দেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। তখনই আবেদন করেন নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডাররা। রিপ্লে দেখে ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ আউট দেন আম্পায়ার। ৮৩ বলে ৩৫ রান করে থিতু হয়ে যাওয়া মুশফিকের এমন বিদায়ে হতভম্ব তখন সবাই। এভাবে হাত দিয়ে বল সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ১৮ রানে থাকাকালীনও একবার করেছিলেন মুশফিক। তখন বল হাতে লাগেনি ভাগ্যক্রমে। তবু তার হুঁশ ফেরেনি। ফের একই চেষ্টা করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে ফেলেন মুশফিক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এভাবে আউট হওয়া বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান তিনি।

মুশফিকের এই আউটকে ‘হ্যান্ডলড দ্য বল’ বলছেন অনেকেই। যদিও নিয়মটি এখন ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ আইনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। আগেও মুশফিক ‘হ্যান্ডলড দ্য বল’ আইনে আউট হতেন না বলে দেশ রূপান্তরকে দেশের সাবেক ক্রিকেটার ও আইসিসির ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে, ‘হ্যান্ডলড দ্য বল হলো, (শট খেলার পর) উইকেটের দিকে বল আসছে, আপনি উইকেট বাঁচানোর জন্য হাত দিয়ে বল ঠেকালেন। কিন্তু এখানে মুশফিক তো আসলে উইকেট বাঁচানোর জন্য বল ধরেননি। বলটা ছিল উইকেটের থেকে অনেক দূরে এবং সে বলটাকে সরিয়ে দিয়েছেন। এটাকে বলে অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড, কারণ বল তখনো রানিং। বল ব্যাটে নেওয়ার পর ফিল্ডারের কাছে না যাওয়া পর্যন্ত কিংবা একটা সময়ের মধ্যে বলটা ডেডবল না হওয়া পর্যন্ত যদি বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে সেটা অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড।’

ওই বল থেকে মুশফিকের আউট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। কিন্তু তবুও কেন অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড আউট হলেন মুশফিক, নিজেদের ওয়েবসাইটে পরে সেই ব্যাখ্যা দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসিও। ২০১৭ সাল থেকে হ্যান্ডলড দ্য বল আউটকে অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড আউটের ধারায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আইসিসির ৩৭.১১ ধারা অনুযায়ী, ‘বল খেলার মধ্যে থাকাকালে ব্যাটসম্যান যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কথা বা কাজের মাধ্যমে ফিল্ডিং দলকে বাধা দেন কিংবা মনোযোগ নষ্ট করেন, তবে আউট হবেন।’ তবে ৩৭.২ ধারা মতে, চোট থেকে বাঁচতে এমন কিছু করলে ব্যাটসম্যান আউট হবেন না। বল হাত দিয়ে ধরা কতটা গুরুতর সেটা ৩৭.১২ ধারায় ব্যাখ্যা করেছে আইসিসি, ‘বোলার বল করার পর ব্যাটসম্যান যদি যে হাতে ব্যাট ধরা নেই সেই হাত দিয়ে বলে আঘাত করেন বা ছুঁয়ে সরিয়ে দেন তবে আউট ঘোষিত হবেন (ব্যতিক্রম ৩৭.২ ধারা)। সেটি প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা আরও পরে ছোঁয়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বল খেলার সময় যেমন তেমনি এরপর ব্যাটসম্যান কিংবা নন স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যান উইকেট বাঁচানোর চেষ্টা করার সময়েও এই আইন প্রযোজ্য।’