হামাসের শীর্ষ নেতার বাড়ি ঘিরে রেখেছে ইসরায়েলি সেনারা

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের বাড়ি ঘিরে রেখেছে ইসরায়েলি সেনারা। এমনটাই জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।

ভিডিও রেকর্ড করা এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, "গত রাতে আমি বলেছিলাম যে আমাদের বাহিনী গাজা উপত্যকার যে কোনো জায়গায় পৌঁছাতে পারে। এখন তারা হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের বাড়ি ঘিরে রেখেছে।"

তিনি আরও বলেন, "তার বাড়িটি তার দুর্গ নাও হতে পারে এবং আমরা ধারণা করছি সে এখানে নেই। তবে তাকে ধরা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।"

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনোয়ারের বাড়ি দক্ষিণ গাজায় খান ইউনিস শহরে। গতকাল বুধবার সেখানে ইসরায়েলের সেনারা খুবই তৎপর ছিল। ইসরায়েলের ধারণা, হামাসের নেতারা এখন দক্ষিণ গাজায় আছেন।

বিবিসির ফ্রাঙ্ক গার্ডনারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনওয়ার বর্তমানে লুকিয়ে আছেন। তবে ড্রোন, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হাজার হাজার ইসরায়েলি সৈন্য তার অবস্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

এদিকে ইসরায়েলি সেনাদের ঘিরে রাখা বাড়িতে হামাসের শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইডিএফের একজন মুখপাত্র।

অক্টোবরের ৭ তারিখে ইসরায়েলে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ইয়াহিয়া সিনওয়ার বলে বিশ্বাস দেশটির। বর্তমানে সিনওয়ারের অবস্থান অজানা থাকলেও অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজা উপত্যকার নীচে হামাসের সুড়ঙ্গে তিনি লুকিয়ে আছেন বলে মনে করছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী।

৬১ বছর বয়সী সিনওয়ার, আবু ইব্রাহিম নামেও পরিচিত। ১৯৮২ সালে প্রথম ১৯ বছর বয়সে "ইসলামী কার্যকলাপের" জন্য ইসরায়েল দ্বারা প্রথম গ্রেপ্তারের শিকার হন সিনওয়ার। দুই দশকের বেশি সময় ইসরায়েলের জেলে ছিলেন তিনি।

২০১১ সালে ইসরায়েলের সেনা জিলাদ শালিটের মুক্তির বিনিময়ে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয় ইসরায়েল। তার মধ্যে সিনোয়ারও ছিল। ২০১৭ সালে সিনোয়ার গাজায় হামাসের প্রধান হন।

এদিকে বার্তাসংস্থা বিবিসি আরও জানিয়েছে যে, উত্তর গাজা উপত্যকার জাবালিয়া ক্যাম্পকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। পাশাপাশি ক্যাম্পে বিমান হামলা জোরদার করছে দেশটি। এতে করে নিহতের পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপে নীচে আটকে পড়েছেন অনেকে।