জাতীয় সংগীতের স্বপ্নকে ছারখার করে উন্নয়ন করছে সরকার: আনু মুহাম্মদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতে বটের, মাঠের, ঘাটের ছায়ার, মানুষের কথা আছে। জাতীয় সংগীতের মধ্যে যে যে চিত্র আছে, উপমা আছে, স্বপ্ন আছে, প্রতিশ্রুতি আছে, সেগুলোকে ছারখার করে দিয়ে উন্নয়ন করা হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের ৩২তম সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের আজ ছিল প্রথম দিন। আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত  চলবে এ সম্মেলন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, আমরা বর্তমানে এমন একটা বিশ্বে বাস করছি যেখানে মানুষ হিসেবে যাদের মানুষের প্রতি, প্রাণের প্রতি নূন্যতম সংবেদনশীলতা রয়েছে তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক সময় পার হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের উপর বর্বর হত্যাকাণ্ড দেখছি, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের দর্শন দেখছি। তারা নিজেদের নৃশংসতার রেকর্ড নিজেরাই ভাঙছে প্রতিনিয়ত। গত কয়েকদিনে ফিলিস্তিনে যত মানুষ হত্যা করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। যাদের সশস্ত্র তৎপরতার সঙ্গে কোন সম্পৃক্ততা নেই। সেখানে যাদেরকে সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করা হচ্ছে  তারা মূলত দেশের জন্য, দেশকে উপনিবেশবাদের হাত থেকে রক্ষার জন্য লড়াই করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিনের মতো নৃশংসতা আমরা ভারতের কাশ্মীর, মণিপুরসহ  বিভিন্ন অঞ্চলে দেখছি। পাকিস্তান, আফ্রিকা ল্যাটিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমরা ফ্যাসীবাদী আগ্রাসন লক্ষ্য করছি। পুঁজিবাদী শাসন ব্যবস্থার শক্তি হলো অস্ত্রের ক্ষমতার উপর টিকে থাকা। এই ব্যবস্থা ভিন্ন মতকে বিভিন্নভাবে দমন করে নিজেকে বৈধতা প্রমাণ করার চেষ্টা করে থাকে।’

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘ফ্যাসীবাদ স্বৈরাচারদের একটা ফ্যাশন, একটা পদ্ধতি।  যার অবস্থান বাংলাদেশও দেখতে পাচ্ছি। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতে বটের, মাঠের, ঘাটের ছায়ার, মানুষের কথা আছে। ক্ষমতাসীন সরকার তাদের কাজের মাধ্যমে এটা দেখাই যে তারা জাতীয় পতাকার, জাতীয় সংগীতের, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একক দাবিদার এবং এগুলোর রক্ষাকর্তা তারাই। কিন্তু বাংলাদেশের উন্নয়নধারা পুরোটাই জাতীয় সংগীতকে ছারখার করে দেওয়ার ধারা। জাতীয় সংগীতের মধ্যে যে যে চিত্র আছে, উপমা আছে, স্বপ্ন আছে, প্রতিশ্রুতি আছে, সেগুলোকে ছারখার করে দিয়ে উন্নয়ন করা হচ্ছে। নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, বায়ু দূষণ হচ্ছে, মানুষের খোলা জায়গাগুলো বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এটা কি ধরনের উন্নয়ন যাত্রা যা জাতীয় সংগীতের প্রতিশ্রুতিকে ছারখার করে দেয়? ’

আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, ‘যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান একটা দেশের প্রধান ভিত্তি যেমন, মানবাধিকার কমিশন, নির্বাচন কমিশন-বিশ্ববিদ্যালয় যা নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া, বুদ্ধিবৃত্তিক সৃষ্টিশীলতা তৈরি করে, মত প্রকাশের ভিন্নতাকে তৈরি করার স্বাধীনতা নিশ্চিত কাজ করে সেই প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে ভয়ঙ্কর আক্রমনের শিকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোকে বানানো হয়েছে নির্যাতনের কারখানা। ছাত্রলীগকে দেওয়া হয়েছে স্বেচ্ছাচারীতার ক্ষমতা। ছাত্রলীগ চাঁদাবাজি করছে, নিয়োগ বাণিজ্য করছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের মানুষের উপর শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক নির্যাতন চালাচ্ছে। ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও তারা হলে অবস্থান করে তাদের কুকীর্তি চালিয়ে যাচ্ছে। ’