জাবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৯ এএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় একই বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শনিবার (৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

‎অফিস আদেশে বলা হয়, গত ৩ জুলাই দিবাগত রাত ১১টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (৫৪তম ব্যাচ) কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অকথ্য ভাষায় গালাগালি, কান ধরানো এবং ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে র‍্যাগিং করেন।

‎বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ঘটনাটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৫(৫) ধারা লঙ্ঘনের শামিল। ওই ধারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, বিভাগ কিংবা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে যেকোনো স্থানে টিজিং, র‍্যাগিং বা নির্যাতনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

‎এ ঘটনায় অভিযুক্ত ১২ শিক্ষার্থীকে অধ্যাদেশের ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

‎সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন  নাছিম উদ্দিন মজুমদার, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, আব্দুল্লাহ মাহদী, শুভাশীষ রায় প্রান্ত, মো. আবু আবতাহী অনিক, মো. রায়হান খান, মো. নাঈমুল হাসান, মো. ইসফাক হাদী, নাঈম আহমেদ সজিব, কার্তিক চন্দ্র রায়, কাজী শাহ জামশেদ আলম নাবিল এবং সাইফুল্লাহ মানসুর আনান।

‎এর আগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তারা দাবি করেন, ‘ম্যানার শেখানোর’ কথা বলে গভীর রাতে তাদের জাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি, কান ধরানোসহ বিভিন্নভাবে র‍্যাগিং করা হয়। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

উল্লেখ্য, গত ৩ জুলাই দিবাগত রাতে ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের ১৩ জন নবীন শিক্ষার্থীকে ‘ম্যানার’ শেখানোর কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে নিয়ে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে একই বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর প্রক্টরিয়াল টিম অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করে। পরে ভুক্তভোগীরা প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন এবং অভিযুক্তরাও লিখিতভাবে র‍্যাগিংয়ের বিষয়টি স্বীকার করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত