চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে উত্তর গাজা ধূলিসাৎ হয়েছে, সেখানকার বাসিন্দাদের দক্ষিণ গাজায় আশ্রয় নিতে বলেছিল ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে শুরু আগ্রাসনে এবার ধ্বংসযজ্ঞ দেখছে দক্ষিণ গাজা। বলতে গেলে গাজায় আর বেসামরিকদের জন্য নিরাপদ কোনো জায়গা নেই। দক্ষিণ গাজায় হামলা শুরুর আগে তাই প্রায় ২০ লাখ গাজাবাসীকে বিমানবন্দরের চেয়েও ছোট এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছে ইসরায়েলি সেনারা।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ফিলিস্তিনিদের এই হাঁসফাঁস অবস্থার কথা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন লাখো গাজাবাসীকে যেখানে আশ্রয় নিতে হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ মরু এলাকা এবং এর আয়তন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের চেয়েও ছোট।
আল-মাওয়াসি নামের এই এলাকার আয়তন মাত্র সাড়ে ৮ বর্গকিলোমিটার। সেখানেই বিবিসির কথা হয়েছে রিম আবদ রাবু নামের এক ফিলিস্তিনি নারীর সঙ্গে। তিনি জানান, উত্তর গাজায় ইসরায়েলি ধ্বংসলীলা থেকে বাঁচতে দক্ষিণের খান ইউনিসে পালিয়ে আসেন। এরপর সেখানেও বাড়ির আশপাশে যখন বোমা পড়ছিল তখন তিনি বাধ্য হন ইসরায়েলি সেনাদের বলে দেওয়া তথাকথিত নিরাপদ আশ্রয় এই আল-মাওয়াসিতে আসতে।
আল-মাওয়াসি কেমন? সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে এই ফিলিস্তিনি নারীর সোজাসাপ্টা উত্তর ,’এই জায়গা মানুষ বসবাসের অনুপযোগী।’ কারণ এখানে জীবনযাপনের মৌলিক চাহিদা পূরণের কিছুই নেই।
পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে রিম বলেন, ‘পানি একবার আসলে বাকী ১০ দিন আসে না। এমনকি বাথরুমেও পানি থাকে না। বিদ্যুতের বেলাতেও একই অবস্থা।’
তবু এখানেই ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় নিতে অন্তত ১৫ বার সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, সর্বশেষ সতর্কবার্তা পাঠানো হয় ২ ডিসেম্বর।
১৮ অক্টোবর আল-মাওয়াসিকে ‘মানবিক আশ্রয়স্থল’ ঘোষণা করে আইডিএফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তখন বলা হয়, ‘আইডিএফ গাজাবাসীকে আল-মাওয়াসিতে আশ্রয় নিতে নির্দেশ দিচ্ছে। এখানেই প্রয়োজন পড়লে আন্তর্জাতিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলো কাজ করবে।’
এরপর ২১ অক্টোবর আইডিএফ আরেক হুঁশিয়ারিতে বলে, ‘আপনার কাছে যদি নিজের জীবন প্রিয় হয় এবং আপনজনদের জীবন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় তাহলে দক্ষিণে ওয়াদি গাজার দিকে যান, আমরা আপনাদের আল-মাওয়াসি এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।’
প্রসঙ্গত, ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলের হামলার পর থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে ১৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫০ হাজার মানুষ। যার অধিকাংশই নারী ও শিশু। বোমা-ট্যাংকের গোলায় বিধ্বস্ত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। পানি ও বিদ্যুৎ, জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের যোগান বন্ধ হয়ে গেছে।