মনোনয়ন পেতে ৫০ লাখ খোয়ালেন আ.লীগ নেতা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সচিব, পিএস টু ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ডেপুটি ডাইরেক্টর (ডিডি) পরিচয়ে যোগাযোগ করলে ৫০ লাখ টাকা দেন ঠাকুরগাঁওয়ের এক আওয়ামী লীগ নেতা। কিন্তু মনোনয়ন না পাওয়ায় পরে বুঝতে পারেন তিনি প্রতারকের খপ্পড়ে পড়েছেন। এরপর তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁওয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চল ও ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার একজনের কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- প্রধানমন্ত্রীর সচিব পরিচয়ধারী নুরুল হাকিম (৩১), একান্ত সচিব-২ পরিচয়দানকারী হাসানুল ইসলাম জিসান (২২) এবং এসএসআইয়ের ডিডি পরিচয়দানকারী মো. হারুন অর রশিদ (২৯)। 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার শাহবাগ এলাকায় অবস্থানকালে ওয়াটসআপে মনোনয়ন প্রত্যাশী ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়কে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনএসআইয়ের ডিডি মাহমুদুল হাসান পরিচয়ে কল করেন। তিনি জানান জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কাজ করছেন এবং অনেকের মনোনোয়ন নিশ্চিক করেছেন। তার মনোনয়ন নিশ্চিত করার জন্য ৫০ লাখ দাবি করেন। ওই সময় মোবাইল ফোনে অপর প্রান্ত থেকে একজন মহিলা কণ্ঠে বললেন আপনার মনোনয়ন ঠিক হয়ে গেছে সমস্যা নাই। তার পরিচয় জানতে চাইলে ওই নেতাকে জানানো হয়, ওই নারী প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে ’সায়মা ওয়াজেদ পুতুল’। আসলে ওই নারীও ছিল প্রতারকদের একজন। প্রতারক চক্রটি তার কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মনোনয়ন প্রকাশ হলে ওই নেতা মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি বুঝতে পারেন যে, তিনি প্রতারকের ফাঁদে পড়েছেন। এরপর বিষয়টি তাদের জানালে ডিবি’র সাইবার দল কাজ শুরু করে। এরপর তারা গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।’ 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে উল্লেখ করে ডিবি প্রধান বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের টার্গেট করে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র দেশব্যাপী সক্রিয় হয়। এর ধারাবাহিকতায় চক্রটি দেশের বিভিন্ন স্থানে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের টার্গেট করে। তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে প্রতারণা করছে। তারা কখনো প্রধানমন্ত্রীর সচিব, একন্ত সচিব, এনএসআই ডিডি, এপিএস ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করে আসছে। 

ওই নেতা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অনুতপ্ত কিনা- সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হারুন অর রশীদ বলেন, এ বিষয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে ভুক্তভোগী নিজেই অনেক অনুতপ্ত হয়েছেন। তিনি (ভুক্তভোগী) রাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি জানান। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললে দুই দিনের মধ্যে প্রতারকদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তার নুরুল হাকিমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি ৮ম শ্রেণি পাস হলেও সচিব পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করছেন। বাকিরা এসএসসি পাস উল্লেখ করে ডিবি প্রধান আরও বলেন, যারাই আমাদের কাছে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে জানিয়েছেন আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রতারকদের আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। এমন প্রতারণার শিকার আরও কেউ থাকলে আমাদের জানাতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।