বসুন্ধরা গ্রুপ দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগ ২০২২-২৩ প্রতিযোগিতার বিভিন্ন খেলায় অবৈধ খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করানোর জন্য বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) ফুটবল দলের ওপর এক বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লক্ষ টাকা আর্থিক জরিমানা করেছে বাফুফে। ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ নভেম্বর দ্বিতীয় বিভাগ লিগে আরামবাগ ফুটবল একাডেমি বনাম বিকেএসপির ম্যাচে। সেই ম্যাচে বিকেএসপির হয়ে মাঠে নামেন মোঃ ইকরামুল ইসলাম। যিনি তাহসান হোসেন নামে বসুন্ধরা গ্রুপ তৃতীয় বিভাগ অ-১৭ ফুটবল লিগে এরই মধ্যে খেলেছেন। অবৈধ খেলোয়াড় অংশগ্রহণের এ বিষয়ে আরামবাগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হলে ডিসিপ্লিনারী কোড এর ধারা-৫৭, ৫১, ৩১, ৩০ ও ২৮ অনুযায়ী বিকেএসপির বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক শাস্তি জারি করে বাফুফের ডিসিপ্লিনারি কমিটি।
এছাড়াও মোঃ তাসিন সাহেব, ইহসান হাবিব রিদুয়ান ও মোঃ রিফাত কাজী এর আগে মে মাসে অনুষ্ঠিত বসুন্ধরা গ্রুপ তৃতীয় বিভাগ অ-১৭ ফুটবল লিগে চকবাজার কিংস ক্লাবের হয়ে ভুয়া পরিচয়ে ম্যাচ খেলেন। চকবাজারের ক্লাবটি বিকেএসপি থেকে মোঃ নাইমুর রহমান, মোঃ হাসান মিয়া ও মোঃ জিফাতকে নিজেদের দলে নিবন্ধন করালেও তারা ম্যাচ খেলেননি। এ তিনজনের নাম ব্যবহার করে ম্যাচ খেলেন তাসিন, রিদুয়ান ও রিফাত। পরবর্তীতে এ তিনজন দ্বিতীয় বিভাগে নিবন্ধন করতে গেলে বাফুফে তাদের নিষিদ্ধ করে। একই সঙ্গে কোচ হিসেবে মিথ্যা তথ্য প্রদান ও দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হওয়ায় বিকেএসপির সিনিয়র কোচ মোঃ শাহীনুল হক ও প্রশিক্ষক জনাব মোঃ রবিউল ইসলামকে ফুটবল সংশ্লিষ্ট সকল ধরনের কার্যকলাপ হতে আগামী এক বছর নিষিদ্ধের পাশাপাশি পঁচিশ হাজার টাকা করে আর্থিক জরিমানা করেছে বাফুফে।
দ্বিতীয় বিভাগে আরামাবগের ওই ম্যাচের পাশাপাশি বিকেএসপির ভবিষ্যত সূচীর ম্যাচগুলোর সব প্রতিপক্ষকে ৩-০ গোলে বিজয়ী ঘোষণা করেছে বাফুফে। যেসব ম্যাচে বিকেএসপির হয়ে অবৈধ খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেছে সেই ম্যাচ থেকে দলটির ৭ পয়েন্ট কর্তন করা হয়েছে। এছাড়াও বিকেএসপির ওই চার খেলোয়াড়ের ওপর ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বাফুফে। বিজ্ঞপ্তিতে আগামী এক মাসের মধ্যে আর্থিক জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বাফুফের পক্ষ থেকে।