জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ টমাস ডুলির মেয়াদ আসলে কতদিন? এই এক প্রশ্ন এখন দেশের ফুটবল অঙ্গনে রীতিমতো ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। বাফুফে সভাপতির দেওয়া আগের ঘোষণার সঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর আজকের বক্তব্য পুরোপুরি সাংঘর্ষিক হওয়ায়, বাফুফে ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভেতরের সমন্বয়হীনতা এবার প্রকাশ্য রূপ নিল।
গত ১০ মে রাজধানীর একটি রিসোর্টে জাতীয় দল কমিটির বৈঠক শেষে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, নতুন কোচের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করা হচ্ছে। সেই মোতাবেক গতকাল ঢাকায় পা রাখার পর মার্কিন এই কোচকে বেশ আড়ম্বরপূর্ণভাবে বরণও করে নেওয়া হয়। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার হতেই পুরো দৃশ্যপট বদলে দিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
আজ এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, নতুন কোচ টমাস ডুলিকে মূলত 'অন টেস্ট' বা পরীক্ষামূলকভাবে আনা হয়েছে। আগামী ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটিই হবে তাঁর ভাগ্যনির্ধারণী পরীক্ষা। এই ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখেই বাফুফে তাঁর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে। শুধু তাই নয়, এর চেয়ে ভালো মানের কোনো কোচ পাওয়া গেলে তাঁকে দ্রুততম সময়ে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বাফুফে সভাপতিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, "যে কোচ এসেছেন, তাঁর ব্যাপারে আমরা বাফুফেকে বলেছি সামনের ম্যাচটি ‘অন টেস্ট’ হিসেবে দেখতে। এরপরই ফেডারেশন তাঁর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। পাশাপাশি আমরা বাফুফে সভাপতিকে বলেছি আরও ভালো কোচ খুঁজতে থাকতে, যাতে সুযোগ আসামাত্রই তাঁকে আনা যায়।"
মন্ত্রণালয়ের সাথে বাফুফের কোনো দূরত্ব নেই দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি মহল জলঘোলা করার চেষ্টা করছে। তবে তাঁর এই ‘এক ম্যাচ’ তত্ত্বের পর খোদ বাফুফের ভেতরেই তীব্র অসন্তোষ ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন এই বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "এক ম্যাচের জন্য কোচ আনা হয়েছে এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই। আমাদের জানামতে, দু-এক দিনের মধ্যেই কোচের সঙ্গে চুক্তি সই হওয়ার কথা। আগামীকাল আমাদের জাতীয় দল কমিটির সভাও রয়েছে।"
চুক্তি সই না হলেও শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাফুফে ভবনে স্থানীয় কোচদের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন নতুন কোচ টমাস ডুলি।