ফিজিওথেরাপিস্টদের চাহিদা বাড়ছে

ফিজিওথেরাপি হলো শারীরিক চিকিৎসা। আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থায় একটি স্বতন্ত্র চিকিৎসা পদ্ধতি। শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। আর এই চিকিৎসাব্যবস্থা যারা দিয়ে থাকেন, তাদের ফিজিওথেরাপিস্ট বলে। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে এই ধরনের পেশাজীবীদের চাহিদা বেড়েই চলছে। তাই চাইলে আপনিও বেছে নিতে পারেন এই পেশা। লিখেছেন মো. মনিরুজ্জামান

উন্নত বিশ্বে ফিজিওথেরাপিস্ট অন্যতম পছন্দের পেশা হলেও বাংলাদেশে এ পেশা এখনো অনেক চ্যালেঞ্জিং অবস্থায় আছে। সরকার প্রতিবন্ধী ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প চালু করায় ফিজিওথেরাপিস্টদের জন্য সরকারি চাকরির সুযোগ বেড়েছে।

কাজের ক্ষেত্র

ফিজিওথেরাপির যথেষ্ট জ্ঞান ও দক্ষতা থাকলে আন্তর্জাতিক এনজিওতে উচ্চপর্যায়ে কাজ করা সম্ভব। এছাড়া, ফুটবল, হকি, ভলিবলসহ অন্যান্য জাতীয় দলে ফিজিও কনসালট্যান্টের কাজ করে গড়ে তোলা সম্ভব আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিজিওথেরাপি বিভাগের শিক্ষক কিংবা শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতায় ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সুযোগ আছে।

ফিজিওথেরাপিস্টরা কোন ধরনের সেবা দেন : নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার কারণে ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন হয়। স্পাইনাল কর্ড বা জয়েন্টের রোগ, বুক ও পিঠের ব্যথা, আঘাতজনিত ব্যথা, নার্ভের সমস্যা, সেরিব্রাল পালসি, শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক। অপারেশনের পর কোনো ডিসঅর্ডার। রোগীর সমস্যা বুঝে একেক ধরনের থেরাপি দেওয়া হয়।

সেবার ধরন

ফিজিওথেরাপিস্টরা সাধারণত ম্যানুয়াল থেরাপি, মোবিলাইজেশন মুভমেন্ট উইদ মোবিলাইজেশন, থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ, ইনফিলট্রেশন বা জয়েন্ট ইনজেকশন, পোশ্চারাল এডুকেশন, আরগোনমিক্যাল কনসালট্যান্সি, হাইড্রোথেরাপি ইলেকট্রোথেরাপি ইত্যাদি।

বাংলাদেশে বিভিন্ন মানের ফিজিওথেরাপিস্ট রয়েছেন।

১. কোয়ালিফাইড ফিজিওথেরাপিস্ট হতে চাইলে কমপক্ষে ৪ বছরের কোর্স ও ১ বছরের ইন্টার্নশিপসহ ফিজিওথেরাপি বিষয়ে ব্যাচেলর বা স্নাতক ডিগ্রি নিতে হবে। শুধু ফিজিওথেরাপি বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীকেই ‘ফিজিওথেরাপিস্ট’ বলা হয়।

২. যিনি ফিজিওথেরাপি বিষয়ে ৩ বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করেছেন, তাকে ডিপ্লোমা ফিজিওথেরাপিস্ট বলা হয়। তিনি একজন কোয়ালিফাইড ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে পারবেন।

৩. এছাড়া মাত্র ১ বছরের কোর্স সম্পন্ন করে অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিজিওথেরাপিস্ট হওয়া যাবে। তবে একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিজিওথেরাপিস্টকে অবশ্যই একজন

কোয়ালিফাইড ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিতে হবে।

কোথায় পড়বেন

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন (নিটোর) : সরকারি প্রতিষ্ঠান নিটোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের অধীনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করতে পারবেন। ৪ বছর মেয়াদি বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি কোর্সে ভর্তি হতে চাইলে প্রার্থীকে অবশ্যই জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন বিষয়সহ উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। ফিজিওথেরাপির ওপর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স পরিচালিত হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটির অধীনে।

সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি) : এ প্রতিষ্ঠানের অধীনে বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস ইনস্টিটিউটে স্নাতক ও ডিপ্লোমা পর্যায়ে ফিজিওথেরাপি বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। ভর্তি হতে ন্যূনতম উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষা পাস হতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক কোর্সগুলো পরিচালিত হয় সাভার ক্যাম্পাসে। অন্যদিকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের অধীন পরিচালিত ডিপ্লোমা প্রোগ্রামগুলো নেওয়া হয় মিরপুর ক্যাম্পাসে।

গণবিশ্ববিদ্যালয় : ঢাকার সাভারে অবস্থিত গণবিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিওথেরাপি বিষয়ে ইন্টার্নশিপসহ ৫ বছর মেয়াদি স্নাতক ও ২ বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর কোর্স চালু আছে। স্নাতক পর্যায়ে পড়ার ন্যূনতম যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক। অন্যদিকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ন্যূনতম যোগ্যতা এমবিবিএস অথবা বিএসসি ইন নার্সিং অথবা ফিজিওথেরাপি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি।

স্টেট কলেজ অব হেলথ সায়েন্সেস : ঢাকায় অবস্থিত স্টেট কলেজ অফ হেলথ সায়েন্সেস স্নাতক পর্যায়ে বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।

বেতনভাতা

শুরুতে একজন ফিজিওথেরাপিস্ট চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে মাসিক ১৭,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা উপার্জন করতে পারেন। তবে এনজিও ও বিভিন্ন পুনর্বাসন প্রকল্পে বেতন একটু বেশি। শুরুতেই ৩০,০০০ থেকে ৩৫,০০০ বেতন দেওয়া হয়। এর বাইরে একজন ফিজিওথেরাপিস্ট ব্যক্তিগতভাবে প্র্যাকটিস করেও আয় করতে পারেন। অন্যদিকে ডিপ্লোমা ফিজিওথেরাপিস্টদের শুরুতে জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেড অনুযায়ী বেতন দেওয়া হয়।