দেশে শেফের চাহিদা বাড়ছে

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৫ এএম

শেফ বা কুক হোটেল ম্যানেজমেন্ট কোর্সের একটি অংশ। প্রশিক্ষিত শেফ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হলে ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন কোর্স শেষ করতে হয়। এই কোর্সের মধ্যে আছে বাংলাদেশি, চাইনিজ, ইটালিয়ান, ইউরোপিয়ান, ইন্ডিয়ান খাবার তৈরি, ডেকোরেশন, হাইজিন অ্যান্ড স্যানিটেশন। এসব বিষয়ে দুই মাসের কোর্স, ছয় মাসের কোর্স এবং এক বছরের সার্টিফিকেট কোর্স করে নিজেকে তৈরি করে নেওয়া যায়। এক্ষেত্রে প্রফেশনাল শেফ কোর্স নামে ডিপ্লোমা কোর্স ও আছে। তবে ভালো চাকরির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কোর্সগুলোই ভালো।

দেশে রেস্টুরেন্ট ও হোটেলের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি বর্ণিল খাবারের চর্চাও হচ্ছে। তাই একজন শেফের কাজের ক্ষেত্র অনেক। বিশেষ করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট, গেস্ট হাউজ, ফাস্টফুড, বেকারি, ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, বিমান সংস্থা, পর্যটনশিল্প ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারেন। বিদেশে শেফদের কদর আরও বেশি। পেশায় দক্ষতা অর্জন করতে পারলে কালিনারি জগতের মাস্টার শেফ হওয়ার জন্য সহজে বিদেশি প্রশিক্ষণ নেওয়ার বা কাজ করার সুযোগ আছে।

কাজের ধরন

একজন শেফ সাধারণত নামিদামি প্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট, ডাইনিং, ফাস্টফুড শপ, বেকারি, মোটেল, ট্যুরিজম, এজেন্সি, রিসোর্ট, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনীতে কাজ করতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের কুইজিনের খাবার রান্না করা, খাবারের পুষ্টিমান নিশ্চিত করা, রান্নাঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নতুন রেসিপি তৈরি, মেন্যু ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে কাজ করা, রান্নাঘরের সব উপকরণ ব্যবস্থাপনা, খাবার পরিবেশনকারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার কাজ করেন।

যোগ্যতা

সাধারণত এইচএসসি পাস করার পর হোটেল ম্যানেজমেন্টের ওপর অনার্স শেষ করে এ পেশায় আসতে পারেন। এছাড়া এসএসসি, এইচএসসি পাস করার পর কালিনারি আর্ট বা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশনের ওপর ডিপ্লোমা কোর্স করা যায়। আর এর মাধ্যমে একজন ভালো শেফ হওয়া যায়।

শেফের ধরন

বড় হোটেল আর রেস্টুরেন্টগুলোতে পুরো রান্নাঘরের কাজ কয়েকজন শেফের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। একজন থাকেন কামি শেফ। যিনি অ্যান্টি লেভেলের শেফ হিসেবে যোগদান করেন। শুরুতে তাকে একজন সিনিয়র শেফের তত্ত্বাবধানে কাজ করতে হয়। এরপর আছে ডেমি শেফ ও সিনিয়র শেফ। যখন নির্দিষ্ট কোনো পদ রান্নায় দক্ষ হবেন তখন ডেমি শেফ হিসেবে নিয়োগ পাবেন। কাজ প্রায় এক হওয়া সত্ত্বেও বহু প্রতিষ্ঠানে ডেমি শেফ ও সিনিয়র শেফদের আলাদাভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর কারণ হলো সিনিয়র শেফ সাধারণত রান্নাঘরের কোনো একটি অংশের পুরো দায়িত্ব পান। খাবারের বৈচিত্র্য অনুসারে  রান্নাঘরে একাধিক সিনিয়র শেফ থাকতে পারেন। এরপর আছে স্যু শেফ। যার কাজ হলো বিভিন্ন ডিশ ঠিকভাবে তৈরি করা হচ্ছে কি না দেখাশুনা করা। নতুন শেফদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। এক্সিকিউটিভ শেফের নির্দেশনা পালন করা। রান্নাঘরের সর্বোচ্চ পদাধিকারী হলেন এক্সিকিউটিভ শেফ। তার কাজ হলো রান্নাঘরের সামগ্রিক দায়িত্ব পালন করা। মেন্যু ও খাবারের ডিশ নির্বাচন করা। খাবার তৈরির জন্য শেফদের দিকনির্দেশনা দেওয়া। রান্নাঘরের শেফ ও কর্মীদের দায়িত্ব নির্ধারণ করা। নতুন নতুন রেসিপি নিয়ে পরীক্ষা চালানো।

এছাড়া খাবার তৈরির ওপর ভিত্তি করে শেফদের কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়। সেগুলো হলো ভেজিটেবল শেফ, পেস্ট্রি শেফ, সস শেফ, বেকারি শেফ, ফিশ সেফ, মিট শেফ, ফ্রাই শেফ, সুশি শেফ, গ্রিল শেফ, বুচার শেফ।

কোথায় পড়বেন

ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ইনস্টিটিউট অব ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেল ম্যানেজমেন্ট, বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট। এছাড়াও বেসরকারিভাবে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেসব জায়গায় শিখতে খরচ অপেক্ষাকৃত একটু বেশি।

উপার্জন কেমন

একজন শেফের মাসিক বেতন প্রতিষ্ঠান সাপেক্ষে বিভিন্ন রকম হতে পারে। কাজের শুরুতে ২০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা হয়। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী ৫০ থেকে ১ লাখ টাকা বেতন পাবেন। একজন শেফ ভালো কাজে দক্ষতা দেখাতে পারলে ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে সফল হতে পারবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত