নিষ্ক্রিয়রা বাদ সক্রিয়দের ডাক

সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি আদায়ে সমমনা দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। এ আন্দোলনে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে দায়িত্বশীল নেতারা যথাযথ ভূমিকা পালন করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা রাজপথে থাকছে কি না, তার খোঁজ করা হচ্ছে। নিষ্ক্রিয়দের বাদ দিয়ে সক্রিয়দের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে এ কথা বলেন বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা। তারা বলেন, ‘অবরোধ, হরতাল চলাকালে রাজপথের চিত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেসব নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা চিহ্নিত করছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের নেতারা এখন সার্বক্ষণিক নজরাধীন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যেমন আমাদের নজরে রাখে তেমনিভাবে দলের পক্ষ থেকেও নেতাদের নজরাধীন রাখা হয়েছে। আন্দোলনে তাদের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নিষ্ক্রিয়দের বাদ দিয়ে সক্রিয়দের হাতে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রতিদিনই কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করছেন।’

গত ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে বিএনপি। দলটির অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পূর্ব পরিকল্পনামাফিক সমাবেশে আসা নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে মিথ্যা মামলায় তাদের কারাগারে নেয়। এরপর ১০ দফায় ২১ দিন অবরোধ ও তিন দফায় ৪ দিন হরতাল পালন করে বিএনপি। আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে আবার অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে।

ঢাকা মহানগর বিএনপির একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আওতাধীন বিভিন্ন থানার আন্দোলন ও অন্যান্য কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নেতাদের কয়েকটি করে থানার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্দোলন করতে গিয়ে যারা কারাবন্দি হয়েছেন, তাদের পরিবারের পাশে থাকারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজধানী ঢাকার আন্দোলন-সংগ্রাম মনিটরিং করা হচ্ছে। কারা কারা রাজপথে ছিলেন এবং থাকছেন তার খোঁজ নিচ্ছেন তারেক রহমান। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন থানার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে করার জন্য নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগে পুরো সময় আত্মগোপনে থাকতে বললেও এখন আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে রাজপথে মিছিল করে আবার আত্মগোপনে যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে। গ্রেপ্তার এড়ানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। কারণ ২৮ অক্টোবরের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জ্যেষ্ঠ নেতাসহ সারা দেশের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।’

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের আন্দোলন-সংগ্রামের সচিত্র খবর রাখেন। এগুলোর পর্যালোচনা হয়। কোথায় কী ঘাটতি, কোথায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা দায়িত্ব পালন করছেন না তার তালিকা করছেন। বিভিন্ন ইউনিটের নেতাদের মধ্যে যারা কারাগারে আছেন তাদের জায়গায় পরবর্তী নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। সে মোতাবেক দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হচ্ছে।’

গত দুদিনে যত দায়িত্ব বণ্টন : গতকাল সোমবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নেতাদের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের কথা জানানো হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে চলমান রাজনৈতিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য পাবনা জেলা বিএনপির সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক ও ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল জেলে থাকায় মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন শিকদারকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর পৌরসভা বিএনপির সভাপতি হযরত আলী মিয়া অসুস্থ থাকায় তার জায়গায় জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আলী আজম সিদ্দিকীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছিল। তিনি সুস্থ হওয়ায় আবার তাকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গত ১০ ডিসেম্বর পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক সভাপতি আবদুস সালামকে চলমান রাজনৈতিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য জেলা বিএনপির সমন্বয়ক করা হয়েছে। আবদুস সালাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক প্রকৌশলী এটিএম আকরাম হোসেন তালিমের সঙ্গে আলোচনা করে রাজনৈতিক কর্মসূচির সমন্বয় করবেন। সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তারিকুল হাসানকে রাজনৈতিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য জেলা বিএনপির সহ-সমন্বয়ক করা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল জেলে থাকায় জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহামুদুল হক শানুকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন জেলে থাকায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশকে ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব করা হয়েছে। ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এএফএম কাইয়ুম জঙ্গী জেলে থাকায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবি সিদ্দিক মিতুলকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা হয়েছে।