খাগড়াছড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে জাবিতে মানববন্ধন

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) চার নেতাকে হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও পাহাড়ি এলাকা থেকে সেনা শাসন অপসারণের দাবিও তুলেছেন তারা। মানববন্ধনে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

মানববন্ধনে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদেও আহ্বায়ক আলিফ মাহমুদ বলেন, ‘গতকালের হত্যাকান্ড বাংলাদেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। পাহাড়ি এলাকার মানুষেরা প্রতিনিয়ত তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ১৯৯৭ সালে তাদের সুরক্ষার জন্য যে শান্তিচুক্তি করা হয়েছিল সেই চুক্তির বাস্তবায়ন আমরা লক্ষ্য করিনি। এই হত্যাকান্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের দ্রুত বিচার করতে হবে। এই ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক কনোজ কান্তি রায় বলেন, ‘গতকাল রাতে এমন কয়েকজন মানুষের উপর হামলা করা হয়েছে যারা মানুষের অধিকার আদায়ের কথা বলে। এদেশের আদিবাসিদের মুক্তির জন্য, পাহাড়ি মানুষের মুক্তির জন্য সেনা শাসন অপসারণ করতে হবে। তাদের উপর নির্মম হত্যাকান্ড বন্ধ করতে হবে।’

উল্লেখ্য খাগড়াছড়ির পানছড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ব্যক্তিরা হলেন, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি বিপুল চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা সহ সভাপতি লিটন চাকমা, পিসিপির কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি সুুনীল ত্রিপুরা ও ইউপিডিএফের সদস্য রুহিনসা ত্রিপুরা। এ ছাড়া পিসিপির সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য হরি কমল ত্রিপুরা ও নীতিদত্ত চাকমা নামের দুজন নিখোঁজ আছেন।