ছয় দফা দাবি ঘোষণা 

জাবিতে ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস আন্দোলন’ প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ

আপডেট : ২০ মে ২০২৬, ০৪:৪৬ এএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস আন্দোলন’ নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছেন শিক্ষার্থীরা।  

মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যা ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদের নিচে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্ল্যাটফর্মটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সভায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, কোনো দলীয় ব্যানার বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়; বরং ভিকটিমের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার দাবিতে দীর্ঘমেয়াদি ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিরাপদ ক্যাম্পাস আন্দোলনের প্রাথমিক প্রতিনিধি দলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদের পাঁচজন নারী শিক্ষার্থী দায়িত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের প্রতিনিধি আফিয়া ইবনাত সামিহা (অর্থনীতি বিভাগ, ৫৩ ব্যাচ), কলা ও মানবিকী অনুষদের প্রতিনিধি মুখলাতুল জিনান তৃষা (প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, ৫১ ব্যাচ), আইন ও বিচার অনুষদের প্রতিনিধি জাইবা জাফরিন (আইন ও বিচার বিভাগ, ৫১ ব্যাচ), ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের প্রতিনিধি সুমাইয়া ইসলাম সামিয়া (অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ, ৫১ ব্যাচ) এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের প্রতিনিধি মীম খানম (উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, ৫১ ব্যাচ)।

প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে ছাত্র ও ছাত্রী উভয়ের অংশগ্রহণে এই দল আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
এসময় সমাজবিজ্ঞান অনুষদের প্রতিনিধি আফিয়া ইবনাত সামিহা বলেন, চলমান আন্দোলনে ভিকটিমের জাস্টিস ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নানাবিধ জটিলতা, রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে কোন্দল ও নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্বের কারণে মূল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে ছোট ছোট বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে বড় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পরিবর্তে অনেক শিক্ষার্থী আগের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তাই নতুন করে আন্দোলনকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে এই প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়েছে।

আন্দোলনকে গতিশীল করতে প্ল্যাটফর্মটি প্রাথমিকভাবে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছে। প্রথম দাবিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি ২১ মের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশাসনকে অপরাধী শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ এবং নেওয়া পদক্ষেপগুলো নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জানাতে বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় দাবিতে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান নিরাপত্তাকর্মীর শূন্য পদ দ্রুত পূরণ, নারী নিরাপত্তারক্ষীসহ পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা এবং নিরাপত্তা অবক্ষয়ের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

তৃতীয় দাবিতে ক্যাম্পাসের সীমানা নির্ধারণ ও প্রাচীর নির্মাণের দরপত্র দ্রুত প্রকাশ, সিঅ্যান্ডবি থেকে গেরুয়া সড়কের কাজ শুরু এবং ছাত্রী হলগুলোর নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। চতুর্থ দাবিতে সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে পাসকার্ড ব্যবস্থা চালু এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার নিয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি তোলা হয়।

পঞ্চম দাবিতে কুইক রেসপন্স টিম গঠন এবং এর কার্যপ্রণালি প্রকাশের কথা বলা হয়েছে। ষষ্ঠ দাবিতে সাম্প্রতিক ঘটনার ভিকটিমসহ সব ভিকটিমের জন্য আইনি ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিনিধিরা জানান, প্রতিটি দাবির দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীসহ যেকোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের শিক্ষার্থী স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে পারবেন।

 

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত