দুবাইয়ে আইসিসি একাডেমি মাঠে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে শিবলীর সেঞ্চুরির কীর্তিমাখা দিনে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এ জয়ে গ্রুপসেরা হয়ে যুব এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছাল যুবা টাইগাররা। সেমিফাইনালে শুক্রবার অন্য গ্রুপের রানার আপ ভারতের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ।
গতকাল টস জিতে লঙ্কানদের আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ১৯৯ রানে আটকে দেয় বাংলাদেশ। জবাবে আশিকুর রহমান শিবলীর যুব ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিতে ৫৫ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে গেল শ্রীলঙ্কা। ৩ ম্যাচ খেলা লঙ্কানদের এক জয়ে ২ পয়েন্ট। দিনের আরেক ম্যাচে জাপানকে ১০৭ রানে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক আমিরাত। তাদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।
দুশো রানের সহজ লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ শুরুটেই হোঁচট খায়। ইনিংসের প্রথম ওভারে কোনো রান না করে গারুকা সানকেথের বলে আউট হন জিশান আলম। তবে ফর্মের তুঙ্গে থাকা শিবলীর দারুণ ব্যাটিংয়ের সুবাদে এর কোনো ছাপ পড়েনি বাংলাদেশ ইনিংসে। তিনে নামা চৌধুরী রিজওয়ানের সঙ্গে ৭৪ রানের জুটি গড়েন তিনি।
রিজওয়ান ৩২ রান করে আউট হলেও আরিফুল ইসলাম ও আহরার আমিনের সঙ্গে আরও দুটি জুটি গড়ে অপরাজিত থেকেই দলকে জয় এনে দেন শিবলী। আমিরাতের বিপক্ষে ৭১ ও জাপানের বিপক্ষে অপরাজিত ৫৫ রানের ইনিংসের পর শিবলী এই ম্যাচে যুব ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি তুলে নেন ১১৯ বলে। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ১৩০ বলে ১১৬ রানে। ইনিংসটি সাজানো ছিল ১১টি চার ও ২টি ছক্কায়। ফরিদপুর ক্রিকেট একাডেমি থেকে উঠে আসা শিবলীর যুব ক্যারিয়ারে এর আগে চারটি ফিফটি ছিল। যার দুটিই এবারের এশিয়া কাপ আসরে।
এর আগে শ্রীলঙ্কা পুলিন্দু পেরেরা ও রবিশান ডি সিলভার উদ্বোধনী জুটিতে ৩৭ রান করেন। বাঁহাতি পেসার মারুফ মৃধা পেরেরাকে বোল্ড করে ভাঙেন সে জুটি। ২৮ রানে থামে পেরেরার ইনিংস। তিনে নেমে লঙ্কান অধিনায়ক সিনেত জয়াবর্ধনে ৩৭ রানের জুটি গড়েন ডি সিলভার সঙ্গে। ইনিংসের মাঝের দিকে বোলিংয়ে ম্যাচের চেহারা পাল্টে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহফুজুর রাব্বী ও লেগ স্পিনার ওয়াসি সিদ্দিকী। মাহফুজুরের বাঁহাতি স্পিনে ৩৭ বলে ২১ রান করে বোল্ড হন রবিশান। ২৫ রান করা জয়াবর্ধনেকেও ফেরান তিনি।
লঙ্কান ইনিংসের ২৯তম ওভারে কালুপাহানা ও মালশা থারুপতিকে পরপর দুই বলে আউট করেন ওয়াসি। হ্যাটট্রিক সম্ভাবনা জাগিয়ে সফল না হলেও টাইগারদের দিনের সেরা বোলার ওয়াসি তুলে নেন ৩ উইকেট। ১১৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে পুরো ওভার খেললেও ৯ উইকেটে ১৯৯ রানেই থামে লঙ্কান ইনিংস। রাব্বী ও মারুফ ২টি এবং জীবন ও বর্ষণ ১টি করে উইকেট পান।