১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
ওই আলোচনা সভায় সাঁথিয়ার একমাত্র শহীদ বুদ্ধিজীবী পাবনার এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষক খন্দকার আবুল কাশেমের স্ত্রী মৌলুদা বেগমকে (সাদা শাড়ি পরিহিত) সংবর্ধনা জানানো হয়।
পরে ওইদিন সন্ধ্যায় সাঁথিয়া প্রেসক্লাবেও খন্দকার আবুল কাশেমকে নিয়ে আলোচনা এবং তার স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান খন্দকার সোহেল কাশেম কনককে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
জানা যায়, ১৯৭১- এ মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় খন্দকার আবুল কাশেম স্ত্রী মৌলুদা বেগমকে নিয়ে পাবনা শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। মুক্তিযোদ্ধারা তাদের বাসায় থেকে যুদ্ধে অংশ নিতেন। মৌলুদা বেগম তখন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে একদিন সাঁথিয়ায় গ্রামের বাড়িতে মাকে দেখতে যাওয়ার নাম করে বের হন আবুল কাশেম। আর কখনো ফেরেননি। পরে জানা যায়, যুদ্ধে গিয়ে নিহত হয়েছেন অধ্যাপক আবুল কাশেম। তার মরদেহের সন্ধানও মেলেনি।
মৌলুদা বেগম স্মৃতিচারণ করে বলেন, মাকে দেখতে যাওয়ার নাম করে স্বামী খন্দকার আবুল কাশেম তার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় বলেছিলেন, আমি যদি আর ফিরতে না পারি, তাহলে আমাদের ছেলে বা মেয়ে যাই হোক, নাম রেখো 'কনক'। ৪ মাস পরই তার কোল আলো করে পৃথিবীতে আসে কনক; কিন্তু হায়েনাদের নির্মম শিকার হওয়া বাবাকে আর দেখা হয় না তার।
নিভৃতচারী-প্রচারবিমুখ মাকে অনেক বুজিয়ে এদিন প্রথমবারের মতো কোনো সংবর্ধনায় নিয়ে আসতে পেরে স্বাধীনতার সমান বয়সী কনক আজ তাই বেশ আনন্দিত।