একটা সময় বলিউডে ডাক পেতেন না ববি দেওল। রোম্যান্টিক ‘চকোলেট বয়’ হিসেবে সুনাম ছিল তার। ‘গুপ্ত’, ‘সোলজার’, ‘বিচ্ছু’র মতো কিছু সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু কয়েকটা সিনেমার পরই হারিয়ে গিয়েছিলেন ববি। পরিচালক-প্রযোজকদের ফোন করেও কাজ পেতেন না। বলিউড যেন তাকে বের করে দিয়েছিল। নিরুপায় হয়ে হোটেলে-হোটেলে ডিজে হিসেবে কাজ করেন ববি। সুনামও কুড়িয়েছেন। সেই ববিকেই ফের আবিষ্কার করে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। ‘আশ্রম’ ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে নিজের জাত চিনিয়ে দেন তিনি।
এরপর মাসের পর-মাস কেটে গেল। পরের কাজের আশায় বুক বাঁধলেন তিনি। এল ‘অ্যানিমেল’ সিনেমায় নির্বাক খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ। তিন ঘণ্টা ২০ মিনিটের সিনেমায় মাত্র ১৫ মিনিটের দৃশ্য। তাতেই হিরো রণবীরকে ছাপিয়ে গেলেন। নেটিজেনদের একাংশ তাই বলছে, কামব্যাক করতে হলে ববির মতো করা উচিত।
তবে ববির কামব্যাকের গল্প মেলোড্রামাটিক। হাতে কাজ নেই। বসে আছেন বাড়িতেই। হতাশা গ্রাস করেছে। হতাশা ভুলতে দিনরাত মদপান করতেন। তাতে হতাশা আরও বাড়ছিল। অশ্রদ্ধায় কুকঁড়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় ধাক্কা দেয় ছেলের দুটি বাক্য। যে কারণে কামব্যাকের জন্য ছেলেকেই কৃতিত্ব দেন ববি।
একদিন ববির উদ্দেশে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে ছেলে বলল, ‘বাবা তো বাড়িতেই বসে থাকে। মা বাইরে কাজ করে। আমার বাবা মায়ের পয়সায় বসে-বসে খায়।’ নিজের রক্তের সন্তানের কাছ থেকে এমন কথা শুনে সইতে পারেননি তিনি। গর্জে ওঠে তার ভিতরের অ্যানিমেল।
এ ঘটনার পর নিজেকে পাল্টে ফেলেছিলেন ববি। বলিউডের প্রত্যেক পরিচালক-প্রযোজকের দরজায়-দরজায় ঘুরেছেন। সবাইকে বলেছেন, কাজ করতে চাই। এর মধ্যে ছিলেন করণ জোহরও। কিন্তু সফল কামব্যাকের পর ববি তাকে এটাও বলেন, ‘কাজ চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে পাত্তা দাওনি।’