সমাজে দরকার আদর্শ ও মূল্যবোধের চর্চা

বিজয় দিবস উপলক্ষে যখন আমরা চিন্তা করি, মতপ্রকাশ করি তখন অবশ্যই আমাদের একটা ইতিহাস সচেতন থাকা উচিত এবং ইতিহাস সচেতনতা হবে ভবিষ্যৎমুখী। আমাদের এখানে সমাজ কাঠামো ছিল জমিদারতন্ত্রিক। ব্রিটিশ আমলে যা উঠে যায় এবং খাজনা আদায় শুরু হয়। পরবর্তীকালে পাকিস্তান আমলে ১৯৫১ সালে এ জমিদারি ব্যবস্থা পার্লামেন্টে আইন করে বাতিল করা হয়।

পাকিস্তান ছিল একটা অস্বাভাবিক রাষ্ট্র। এককথায় বলতে গেলে সেই রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনেরও আগে থেকে পাকিস্তান হওয়ার পরেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আন্দোলন চলছিল। সেই আন্দোলনের ধারায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ আমলে সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশে বঙ্গবন্ধুর শাসন কাজ একটা সার্বিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে। দেশকে শৃঙ্খলায় আনতে বঙ্গবন্ধুর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সফল হননি। বিশৃঙ্খলাগুলো আওয়ামী লীগের নাম করে, বঙ্গবন্ধুর নাম দিয়েই করা হচ্ছিল। ১৯৭৪ সালে তাজউদ্দীন আহমদকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে বের করে দেওয়া হলো। তখন প্রায় সব পত্রিকায় লেখা হয়েছে যে, তাজউদ্দীনকে বের করে দেওয়া মানে সরকারের ভেতর থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই মন্ত্রিপরিষদ থেকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়। নীতি আদর্শ মূল্যবোধ এসবের মধ্য দিয়ে আমি বলতে চাই, বঙ্গবন্ধুর শাসনকালে সরকার এখানে সুসংঘবদ্ধ হয়নি এবং সরকার অল্পই আইনের শাসন কার্যকর করতে পেরেছিল।

স্বাধীনতা লাভের পরপরই বাংলাদেশ বিশৃঙ্খলায় কেন পড়ল? কেন বঙ্গবন্ধু, শেখ ফজলুল হক মনি, আবদুর রব সেরনিয়াবাত এ তিনটা পরিবারকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছিল? এ হত্যাযজ্ঞের কার্যকারণকে ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে বিচার বিবেচনা করে দেখতে হবে রাজনৈতিক প্রয়োজনে। এর সামাজিক ক্ষতিটাও কম নয়। শুধু কোর্ট-কাচারির বিচার দিয়ে হবে না, এখানে একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দরকার। এরপর মিলিটারি শাসক জিয়াউর রহমান আসলেন ক্ষমতায়। মাঝখানে কিছুদিন বিচারপতি সাত্তার ছিলেন রাষ্ট্রপতি। তারপরই চলে এলেন জেনারেল এরশাদ। এ সময়টায় জিয়াউর রহমানের আমলে, এরশাদের আমলে শুরু হয় বিশ^ব্যাংকের ভাষায় যাকে বলে ‘উন্নয়ন কার্যক্রম’। শুরু হয় জিয়াউর রহমানের আমল থেকে, যা এরশাদের আমলেও অব্যাহত থাকে। সমাজ, রাজনীতি, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ইত্যাদি পেছনে পড়ে যেতে থাকে। এরপর আবার মিলিটারি শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়, পরিণতিতে এরশাদ পদত্যাগ করেন। ক্ষমতায় আসেন খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা, আবার খালেদা জিয়া তারপর একটানা ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনা।

আজকের বাংলাদেশে কিছু বিষয়ের অভাব রয়েছে। প্রথমত যে দলের নেতৃত্বে দেশটা স্বাধীন হলো সেই রাজনৈতিক দলের গঠনে মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, নৈতিকতার চর্চা হয়নি। দলের নেতাদের মধ্যে এসব অনুভবে আসেনি, ফলে সেই অনুযায়ী আইনকানুন পরিবর্তন করে কার্যকর করার কাজটা প্রথম থেকেই হয়নি। দেশটাকে চালিয়ে নেওয়ার যাওয়ার জন্য যা কিছু দরকার ছিল, তার মধ্যে এগুলো যথেষ্ট বিবেচনা পায়নি। আমাদের দিবসগুলো যখন জাতীয়ভাবেই উদযাপন করা হয় তখন আমাদের উচিত ইতিহাসকে বিকৃত না করে, যা ঘটেছে তার বিবরণটি জনগণের সামনে তুলে ধরা। ইতিহাসের বিকৃত করে মিথ্যাকে স্থান দিলে যেকোনো দেশের ক্ষেত্রে তা ক্ষতিকর হয়, আমরা তেমন একটা ক্ষতির মধ্যে আছি। এর সঙ্গে আদর্শ, নৈতিকতার প্রশ্নও জড়িত। রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার আগেই শৃঙ্খলা, কিছু নীতি, কিছু চিন্তা, আদর্শের সমন্বয়ে রাজনৈতিক দল গঠন করা লাগে। কিন্তু সেভাবে আওয়ামী লীগ বা পরে অন্য কোনো দল চিন্তা করেনি। রাষ্ট্র গঠনে তেমন দল না থাকলে যা হয়, আমাদেরও তা হয়েছে।

এরশাদের বিরুদ্ধে ৯ বছর ধরে তীব্র আন্দোলন হয়েছে। এ আন্দোলন নিয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বামপন্থি দল এ তিন জোটের পক্ষ থেকে প্রকৃতপক্ষে কোনো বক্তব্য তখন প্রকাশ করা হয়নি। ‘এক দফা এক দাবি এরশাদ তুই কবে যাবি’ এটা হলো যখন, তখন আন্দোলনটি ক্লাইমেক্সে পৌঁছে গেছে। এরশাদ যখন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ফেলেছেন তখন এই তিন জোট একটা রূপরেখা দিয়েছে। এটি উপস্থিত অস্থিরতার মধ্য দিয়ে করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের জন্য সিপিবি কখনো কখনো কথা বলেছে, কিন্তু আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কি বলেছে এটিকে বাস্তবায়িত করার কথা?

একটি জাতির রাজনীতিকে সুষ্ঠু ধারায় চালাতে হলে ভেতর থেকে নীতি, নৈতিকতা, আদর্শ ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে পলিটিক্যাল পার্টি গঠিত হওয়া দরকার। সেই আলোকে পার্টি ক্ষমতায় গিয়ে দেশ ও সমাজ এগিয়ে নেবে বা এ জন্য দরকারি পরিবর্তনগুলো করবে। আর যদি পার্টিগুলোর ভেতরকার সেই প্রস্তুতি না থাকে তাহলে নেতা যত জনপ্রিয় হয়েই চেষ্টা করুন না কেন, তিনি সফল হতে পারেন না। এই দুর্বলতাটা আমাদের রাজনীতিতে ছিল এবং আছে। বামপন্থি দলগুলো চিন্তা করেছিল, অতি অল্প সংখ্যা জনগণের মাঝে প্রচারিত হয়েছে, ফলে কার্যকর হয়নি। তবে আওয়ামী লীগই প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক দল ছিল। আর তাদের চিন্তা ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধতাও অনেক বেশি ছিল। বিএনপি তখনো রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে ওঠেনি। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া, দুজনেরই চেষ্টা ছিল দল গঠন করার। কিন্তু এখন কি আওয়ামী লীগ, কি বিএনপি পরিবারতন্ত্র এমনভাবে সবকিছু গ্রাস করে দিয়েছে যে, এখানে নীতি, নৈতিকতা, রাজনৈতিক ভালোমন্দ বিচারের সুযোগ কমতে কমতে নেই হয়ে গিয়েছে। একটি দলের সব ক্ষমতা সভাপতি বা চেয়ারপারসনের হাতে।

আগের জমিদারতন্ত্রের মতোই এ পরিবারতন্ত্র। সমাজও সেখানে আটকে আছে। রাজনৈতিক দল হচ্ছে সবচেয়ে বড় সামাজিক সংগঠন। তারা সমাজ গঠন এবং সমাজ বিনির্মাণকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতেই রাষ্ট্রক্ষমতায় যায়। সমাজে নীতি-নৈতিকতা, মূল্যবোধ, আদর্শের ধারা রাজনৈতিক দল বহন ও ধারণ করে। এগুলোর অনুপস্থিতিতে যে রাজনীতি তার দ্বারা অর্থনৈতিক উন্নতি, রাজনৈতিক উন্নতি, সংস্কৃতিক উন্নতি যথাচিতভাবে হয় না। এটা ঠিক কথা যে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক উন্নতি করেছে কিন্তু এ উন্নতি তো আফ্রিকার দুর্বল জাতিগুলোও করেছে। এই যে কাজগুলো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তখনো হয়নি, এখনো হচ্ছে না।

দ্বিতীয়ত বলা যায় অন্য সব রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় নেই, তৃতীয়ত বলা যায় জনসাধারণ। বিশেষ করে জনসাধারণের মধ্যে যারা ধনী যারা যত শিক্ষিত তাদের দায়িত্ব বেশি আর যারা দুর্বল অবস্থানে আছে, শিক্ষালাভ করার সুযোগ পায়নি, তাদের এখানে গুরুত্ব কম। এই ব্যক্তিতান্ত্রিক, পরিবারতান্ত্রিক চিন্তাভাবনা এবং স্বার্থবুদ্ধির ভেতর স্বাধীন বাংলাদেশ যে চেতনায় আত্মপ্রকাশ করেছিল, তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার ব্যাপারগুলো আছে। আমি বলতে চাই যে, ছয় দফা আন্দোলনের কালেও আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে ভেতর থেকে গড়ে ওঠেনি, ছাত্রলীগ যেমন ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে অন্যরকম হয়ে গিয়েছে। সেই শৃঙ্খলা নেই ছাত্রলীগের মধ্যে। গত ১৫ বছর থেকে কি ছাত্রলীগ ঠিকভাবে চলছে? শ্রমিক লীগ বলে সংগঠন থেকে হয়তো কমিটি একটি আছে, কিন্তু বাস্তবে নেই। কৃষক লীগের একটা সংগঠন আছে কাগজে-কলমে কিন্তু বাস্তবে নেই। আমাদের সংবিধানে লেখা আছে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। এখন কোনো নেতা, দল যদি প্রকৃতপক্ষে কাজ করতে চায় তাহলে জাতীয় আদর্শ হিসেবে এতগুলো বিষয় সামনে রেখে কি কাজ করতে পারবে? ধর্মের পক্ষে লোক আছে, সেকুলারিজমের পক্ষে লোক আছে, সমাজতন্ত্রের পক্ষে লোক প্রায় নেই, গণতন্ত্রের কথা সবাই মুখে মুখে বলে। তো রাষ্ট্রীয় আদর্শকে যখন এতভাবে ঢিলেঢালা করা হয়, বিচার ভাবনা এত কম হয় তখন ঠিক রাজনৈতিক দল গড়ে উঠেছে এমনটা ভাবা যায় না। গড়ার একটা আকাক্সক্ষা আছে, এটিকে গঠন করার জন্য নেতৃত্বের দিক থেকে কোনো চিন্তাভাবনা নেই। আমি মনে করি যে, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ভেতরে, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার ভেতরে, আওয়ামী লীগের ৬ দফার ভেতরে এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যে ১১ দফা ছিল, এই দফাভিত্তিক কর্মসূচির মধ্যে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল। তাজউদ্দীন সরকার এই বিষয়গুলোকে পটভূমিতে রেখেই স্বাধীন রাষ্ট্র চালিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা করেছিল। এ বিষয়গুলোতে আওয়ামী লীগ বিশ^স্ত নয় আর বিএনপি তো তখন দল হিসেবে গড়েই ওঠেনি। পরবর্তীকালে সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের মাধ্যমে যেটুকু অগ্রগতি হয়েছিল, সেটাও গত ১৫ বছরে শেষ হয়ে যাওয়ার অবস্থায়। এ অবস্থা থেকে বের হওয়ার সংকল্প সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে থাকা উচিত।

অন্যদিকে বুদ্ধিজীবী হিসেবে যারা পরিচিত, যারা চিন্তাবিদ, যারা বিচার বিবেচনা করে চিন্তা করেন, সৃষ্টি করেন, গবেষণা করেন। দেশ গঠন, সমাজ নির্মাণ, রাষ্ট্র পরিচালনা, রাজনীতি নিয়ে তাদের লেখা কই? সেদিকে তাদের নজর চোখে পড়ে না। যাদের লেখা পড়ে রাজনৈতিক দল কাজ করতে পারে। এখন বিশিষ্ট নাগরিক বলে যারা মাঝেমধ্যে বিবৃতি দেন বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে এ বিশিষ্ট নাগরিকদের চিন্তা কি জনগণের চিন্তার সঙ্গে সংগতি রেখে অগ্রসর হচ্ছে? প্রকৃতপক্ষে এনজিও এবং সিভিল সোসাইটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। এই সিভিল সোসাইটি একটু আড়ালে থেকে কাজ করে এবং এনজিওকে যারা ফিন্যান্স করে, সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনগুলোকেও তারাই ফিন্যান্স করে। দেশ, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, নীতি, নৈতিকতা, আদর্শ, সমাজ গঠন এখানে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।

আজকে আমেরিকা যেভাবে এসে, ইউরোপিয় ইউনিয়ন এখানে এসে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, এটা তো একটা স্বাধীন দেশে হওয়ার মতো ব্যাপার নয়। ১৯৯০-এর দশকে এবং তারপরও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুটো দলের যারাই ক্ষমতার বাইরে ছিল, তারাই এম্বাসিতে এম্বাসিতে দৌড়াদৌড়ি করেছে। ঢাকায় পশ্চিমা বৃহৎ শক্তিগুলোর দূতাবাসের লোকজনের কাছে গিয়ে অনুরোধ করেছে যেন বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সাহায্য চেয়েছে। জনগণের কাছে গিয়ে যেভাবে দল গঠনের কথা, রাজনীতি পুনর্গঠনের কথা, সমাজ গঠনের কথা; আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সেদিকে যায়নি। তাদের রাজনীতি দূতাবাসমুখী হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশ যদি রাষ্ট্র হিসেবে যথেষ্ট স্বাধীন হতো তাহলে এমন হতে পারত না। জনজীবন উন্নত করা এবং রাষ্ট্রকে সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী করার চিন্তা আওয়ামী লীগেও নেই, বিএনপিতে আরও নেই, অন্য যেসব দল আছে তাদের মধ্যেও অল্পই আছে অথবা নেই।

গণতন্ত্র মানে শুধু নির্বাচন না। নির্বাচন গণতন্ত্রের একটা অপরিহার্য অংশ মাত্র, আরও অনেক কিছু আছে। প্রতিবারই তো নির্বাচনের সময় ভীষণ সংকটে পড়ে আমাদের জাতি, রাষ্ট্র। বর্তমানের নির্বাচন নিয়ে যে জটিলতা, যেভাবে এটার সমাধান হবে তা দিয়ে কি আমাদের রাজনীতির উন্নয়ন হবে? সমাজ চরিত্র বদলাবে? এই ইলেকশন যত ভালোভাবেই হবে হোক, এ দিয়ে কি রাজনীতির চরিত্রের উন্নতি হবে? হবে না।

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের একটা চেতনা ছিল, একটা মনোভঙ্গি ছিল মানুষের ভালো করার। এটা থেকে আমাদের দেশ তো ১৯৭২ সাল থেকেই সরে যেতে থাকে। বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় থেকেই সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের গোটা ব্যাপারটা বিশৃঙ্খলায় পড়ে গেছে। মিলিটারি শাসক জিয়াউর রহমান, এরশাদ একরকম শৃঙ্খলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে যে শৃঙ্খলার দরকার সেটা জিয়াউর রহমান বা এরশাদ করতে পারেননি বা তারা সেভাবে চিন্তা করেননি। মূল্যবোধ, নৈতিকতা, আদর্শ, কর্মসূচি এগুলো অবলম্বন করেই রাজনীতি ও রাজনৈতিক দল। আমাদের রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদের এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা দরকার।

(অনুলিখিত)