চাই অর্থনৈতিক মুক্তির সঙ্গে বৈষম্য নিরসন

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:৪০ পিএম

পাকিস্তানিরা যখন চলে যায় তখন সবকিছু দুমড়েমুচড়ে ধ্বংস করে আগুন জালিয়ে নষ্ট করে দিয়ে যায়; এটাকে বলে ডিনায়েল পলিসি। অর্থনীতির কিছুই তখন আর অক্ষত ছিল না। মাঠে ফসল নাই, গুদামে খাদ্য নাই, বাংলাদেশ ব্যাংকের কোষাগারে মাত্র ৮৫ ডলার মজুদ আছে। এই নিয়ে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু। চারদিকে শুধু নাই, নাই আর নাই। মিল-কারখানা ব্যাংক-বীমা জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের তিন দিন আগে ৭ জানুয়ারি ১৯৭২-এ জাতীয়করণ করা হয়। কাজেই একমাত্র আশার আলো তখন ছিল জাতির পিতার ফিরে আসা; সমস্ত বিপদসংকুল পরিস্থিতি পার করে, প্রাণের ভয় তুচ্ছ করে, পৃথিবীজুড়ে মানুষের চাপে গণতন্ত্রের চাপে বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসার চাপে তিনি ফিরে এসেছেন। তাই বাংলাদেশের একমাত্র সম্পদ যেটা ছিল সেটা হলো বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন, তার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব এবং এই দেশের জনমানুষের বিশেষ করে তার ভাষায় চাষা-ভূষা এবং শ্রমজীবী মানুষ যারা তার বন্ধু তাদের উদ্যম, উৎসাহ এবং বঙ্গবন্ধুর পাশে দাঁড়িয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করা ছাড়া তখন বাংলাদেশের আর কিছুই ছিল না।

অভাব ছিল, হতাশা ছিল কিন্তু তিনি এসে সঙ্গে সঙ্গে গণখাতের ওপর আর পাবলিক সেক্টরের ওপর ভরসা রাখলেন। যদিও তিনি মনে করতেন এবং বিশ্বাস করতেন যে, প্রাইভেট সেক্টর ছাড়া এ দেশের অগ্রগতি হবে না। সমাজতন্ত্র তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন না, কিন্তু সমাজতান্ত্রিক ধারায় ব্যক্তি খাতের মাধ্যমেই দেশের অগ্রগতি করতে হবে বলে মনে করতেন।

তিনি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ করলেন। টিসিবি খাদ্যদ্রব্য, চিনি, ভোজ্যতেল, কেরোসিন এনে বাজারজাত করত। মনে রাখতে হবে, শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষ তখনো কেরোসিন দিয়ে বাতি জ্বালাত। এগুলো আমদানি করে আনা হলো এবং অনেকগুলো মঞ্জরি এলো। কনজ্যুমার্স সাপ্লাই করপোরেশন স্থাপন করলেন তিনি পাবলিক সেক্টরে। টিসিবি আমদানি করে আনল পণ্য আর মঞ্জরি হিসেবে তিনি যা পেলেন সেগুলো জনসাধারণের মধ্যে প্রায় বিনামূল্যে বিতরণ করা হলো। কৃষিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিলেন; সমস্ত উপকরণ প্রায় বিনামূল্যে দেওয়া শুরু করলেন।

সারা পৃথিবীতে তখন অসম্ভব মূল্যস্ফীতি, শেখ মুজিব সেটিকে ‘কুচ পরোয়া নেহি’ বললেন। অনেক দাম দিয়ে কিনে আনলেন পণ্য, টাকা ছাপালেন ইনফ্লেশন হলো বটে, কিন্তু মানুষের কাছে টাকা গেল তারা ধান চাল ফলাতে শুরু করল। তিনি বললেন, আমি শিল্প চাই বিশেষ করে কুটির শিল্প চাই, আমি চাই গ্রামীণ বিদ্যুৎ, আমি চাই হাঁস-মুরগির খামার, আমি চাই পরিকল্পিত জনসংখ্যা, আমি তাই স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা।

সবচেয়ে বড় কথা, পরিকল্পনা দলিলে লেখা হলো দারিদ্র্য নির্মূল এ দেশের সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য। তিনি বললেন, ফিসক্যাল পলিসিও এমন হবে। সর্বাগ্রে সমতাভিত্তিক বিতরণ হবে, বেশি বিত্তবানদের ওপর বেশি ট্যাক্স ধার্য করে সেই ট্যাক্সের টাকায় গরিব মানুষের জন্য স্কুল কলেজ মাদ্রাসা এবং উৎপাদনশীল কলকারখানা তৈরি করতে হবে। তিনি বললেন, আমার কৃষকরা যাতে ভালো থাকে তাদের পণ্যকে বেশি মূল্য দিয়ে কিনতে হবে তাদের ভর্তুকিমূল্যে জিনিসপত্র সরবরাহ করতে হবে।

চারদিকে তখন নিরাশা; যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক জনসন বাংলাদেশকে বললেন তলাবিহীন ঝুড়ি তাকে অনুকরণ করে ড. কিসিঞ্জারও বলতে শুরু করলেন এর (বাংলাদেশ) কোনো ভবিষ্যৎ নেই এবং হিউজ ফলেন এবং পালকিন সনের মতো অর্থনীতির প্রফেসররা বললেন বাংলাদেশের অর্থনীতি মোটেও টেকসই হবে না। তারা আরও বললেন, যদি বাংলাদেশের অর্থনীতি টেকসই হয় তবে যে কোনো অর্থনীতিই টেকসই হবে আর যদি হয়ও তবে তা হতে ২০০ বছর লাগবে। এর মধ্যেও বঙ্গবন্ধু কিন্তু আশাবাদী থাকলেন; তিনি সারাজীবনই আশাবাদ নিয়ে রাজনীতি করেছেন; ১৩ বছর জেলে থেকেছেন পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেছেন। তিনি বললেন, একদম কিচ্ছু হবে না। যখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয়েছিল তখনও কোর্ট থেকে বের হয়েই তিনি সবাইকে বলেছিলেন এই গান ধর ‘নওজোয়ান নওজোয়ান বিশ্বে জেগেছে নওজোয়ান। সবাই বলছে মুজিব ভাই করেন কি আমাদের জেল হবে ফাঁসি হবে কালকে ফাঁসি হতে পারে বললেন কুচ পরোয়া নেহি আমাদের কিচ্ছু হবে না আমরা দেশ স্বাধীন করব আমরা মানুষের মুখে হাসি ফুটাব, সোনার বাংলা করব। এমন ছিল তার প্রত্যয়। সত্যিকারভাবেই তাই হয়েছে।

‘তখন অর্থনীতি শতকরা ১৩ ভাগ সংকুচিত হয়েছিল, তখন বিশ্বব্যাংকের হিসেবে মাথাপিছু আয় ছিল ৮৫ ডলার সেটিই এখন ২ হাজার ৫৫৪ ডলার, তখন জিডিপি ছিল ৭শ কোটি ডলার এখন হয়েছে ৪১ হাজার ১০০ কোটি ডলার। বঙ্গবন্ধুর সময়েই ৭৪-৭৫ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয় রেকর্ড ৮ শতাংশ, যা অবাক হওয়ার মতো কাণ্ড। কাজেই তিনিই উচ্চ প্রবৃদ্ধির রাস্তা দেখিয়ে গিয়েছেন। তিনি জাতিসংঘে গেছেন, বলেছেন ভারতের সঙ্গে বার্মার সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ আছে তোমরা মেটাতে সাহায্য করবে। এমন প্রত্যেকটা ব্যাপারে কাজ শুরু করে গেছেন তিনি, সেই কাজই এখন সমাপ্ত হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু বোধহয় পৃথিবীতে একমাত্র নেতা, ক্ষমতার আগে এবং পরে যার কোনো পরিবর্তন নাই। আমরা ৩২ নম্বর থেকে গণভবনে আনতে পারি নাই উনাকে, তিনিও আসতে চান নাই বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবও আসতে দেন নাই। তিনি বলতেন, বাবা এই তোরা যদি আমাকে নিয়ে যাস, এই যে রমা বাজার করে নিয়ে আসছে, আমি তারে জিজ্ঞেস করি জোরে জোরে, এটার দাম কত ওটার দাম কত; ইচ্ছা করে করি, যাতে তোগো নেতা জানতে পারেন তার রাজত্বে কী হচ্ছে। কোন জিনিসের দাম কত। ওখানে চলে গেলে তো বাবা কয়েদখানা, কেউ শুনতেও তো পারবে না। এটা ছিল বঙ্গবন্ধুর মানুষের কাছাকাছি থাকা।

‘সবচেয়ে বড় বাধা ছিল যে পরাধীনতার শৃঙ্খল (১৯০ বছর ব্রিটিশ আর ২৪ বছর পাকিস্তান) যুক্ত হয়ে থেকে একটা জাতির জন্ম হয়েছে। তার মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল, তবে ম্যানেজমেন্ট ক্যাপাসিটি ছিল না, নিজের সম্পদকে নিজে ব্যবহার করব সে আদতও ছিল না আমাদের। সে জন্যই সবকিছু জাতীয়করণ করা হলো।’ ১০টা সেক্টর করপোরেশন করা হলো। ম্যানেজার বাড়ানোর চেষ্টা করা হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক স্থাপন করা হলো। ৬টি ব্যাংক বঙ্গবন্ধু নিজেই নাম দিলেন সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, উত্তরা ও পূবালী। সেভাবেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রচণ্ডভাবে শুরু করলেন তিনি। সবচেয়ে বড় অভাব ছিল দক্ষ জনবল এবং ব্যবস্থাপনা এবং আত্মবিশ্বাসের অভাব যেটা তিনি আমাদের মধ্যে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা মোটামুটিভাবে স্বাবলম্বী অর্থনীতি করব কিন্তু প্রয়োজনে আমরা বিশ্বব্যাংক ও দাতাবন্ধুদের থেকে অর্থনৈতিক সহায়তা নেব। বিশেষ করে প্রযুক্তি সহায়তা, ম্যানেজমেন্ট সহায়তা নেব। তাই সবচেয়ে বড় অসুবিধাই ছিল ম্যানেজমেন্ট ও এবং দক্ষ জনবলের তীব্র অভাব।

বঙ্গবন্ধুর আমলেই জিডিপিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছিল তবে উন্নয়নের জন্য নীতির আপস করেননি তিনি। অবিচল কাজ করে গেছেন কৃষক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের স্বার্থে। পাঁচ দশকে দেশের অর্থনীতির ঈর্ষণীয় উন্নতির পেছনেও শক্তি জুগিয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও সাহস। তবে এখন উন্নয়ন ভারসাম্যহীন হচ্ছে আর বৈষম্য অনেক বাড়ছে এটি বঙ্গবন্ধুর সাম্যবাদী নীতি দর্শনের সঙ্গে যায় না। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হলে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে শুধু তাদেরই পাশে রাখতে হবে, যারা নিঃস্বার্থ ও দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। 

আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাটা একটা গতিময় জিনিস। অর্থনীতি তখনকার তুলনায় এখন তো অনেক বড় হয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বা ব্যাংকিং ব্যবস্থার যে পরিধি সেটা কিন্তু তত বড় হয় নাই। কাজেই একটা টানাপোড়েন আছে। তার চেয়েও বড় কথা, ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কিছু লোক আর্থিকভাবে অন্যদের তুলনায় বেশি চাঙ্গা হয়। তারা বেশি বেশি লাভ নিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে থাকেন। বিদেশে অর্থ পাচার করেন দেশে ঋণ খেলাপি করেন ট্যাক্স দেন না এভাবেই আসলে বৈষম্য বাড়ে। এখন বৈষম্যই সবচেয়ে বড় অসুবিধা বলে মনে করি আমি। প্রবৃদ্ধির জন্য জনবন্ধু শেখ হাসিনাকে এবং তার সরকারকে অনেক ধন্যবাদ। ২০০৯ সাল থেকে একনাগারে শুধু একমুখী ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধি হচ্ছে কিন্তু এই প্রবৃদ্ধি মানবিক সমৃদ্ধিতে, মানবসম্পদে রূপান্তর এখনো হয় নাই; হতে বাকি আছে। কারণ এখনো দারিদ্র্য আছে, এখনো কর্মহীনতা আছে; সবচেয়ে বড় কথা এখনো ভয়াল বৈষম্য আছে। ৫০ বছর আগের ধনীর সঙ্গে তখনকার গরিবের যে ব্যবধান ছিল সেই তুলনায় এখন বিত্তবানের সঙ্গে গরিবের ব্যবধানটা অনেক বেড়ে গেছে। এটা মনুষ্যসৃষ্ট এবং এটাকে দমন করতে হবে।

আমাদের ব্যাংকের বন্ধুরা তারা খুব উৎসাহী বড় বড় ঋণ দিতে কারণ সেখানে হয়তোবা জানাশোনা বেশি আছে বা কিছু সুযোগ-সুবিধাও থাকতে পারে। কিন্তু যারা কুটির শিল্প করে অতি ক্ষুদ্রশিল্প করেন অথবা যারা মহিলা উদ্যোক্তা তাদের উদ্যোগগুলো ছোট হয় যদিও খাটনি নাকি সমানই এদের কিন্তু খেলাপি খুব কম হয় কাজেই এদের দিকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য প্রচলিত নীতি মনে হচ্ছে যথেষ্ট নয়।

কাজেই নতুন করে নীতি করতে হবে এবং নতুন করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা করতে হবে। তিনটি প্রতিষ্ঠান আছে পিকেএসএফ, এসএমই ফাউন্ডেশন এবং বিসিক বিসিককে সবাই বেশি ভালো সংস্থা বলে না, তবে আমি মনে করি বিসিককে আমূল পরিবর্তন করে সংস্কার করে বিসিককে লিড এজেন্সি করে কুটির, অতি ক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র শিল্পের পাইলট বানাতে হবে। এখানে শতকরা ২ থেকে ৩ ভাগ সুদে উদ্যোক্তারা সহজভাবে ঋণ পেতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। সেখানে শতকরা ৪০ ভাগ ঋণ যেন মহিলাদের জন্য আলাদাভাবে বরাদ্দ থাকে। এই যে বলা হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ অতি ক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আছেন তাদের মধ্যে প্রত্যেক বছর ৫ লাখ শনাক্ত করে তাদের ট্রেনিং দিতে হবে, উদ্যোক্তা বানাতে হবে এবং বিসিকের আমব্রেলায় ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে তাদের ঋণ দিতে হবে। তাদের প্রকল্প চিহ্নিত করতে হবে, প্রকল্প তদারকি করতে হবে এবং বাজারের কোনো অভাব নাই। যে সমস্ত কৃষিভিত্তিক শিল্প রয়েছে মূলধন কম লাগে বাজার আছে এতে প্রচুর কর্মসংস্থান হয় দারিদ্র্য নির্মূল হয় আয় রোজগার হয় এবং বৈষম্য দূর হয়। আমাদের গরিব মানুষ, যারা বাংলাদেশের প্রাণ বলে জাতির পিতা বলে গেছেন এবং জনবন্ধু শেখ হাসিনাও বিশ্বাস করেন তারা যখন আরও বড় হবেন তাদের অর্থনৈতিক অবস্থান যখন মজবুত হবে তখন তাদের ছেলেমেয়েদের তারা ভালো স্কুলে পাঠাতে পারবেন, ভালো কাপড় দিতে পারবেন, সুষম খাবার দিতে পারবেন; তখন তারা কিন্তু বিত্তবানদের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে সমানে সমানে টেককা দিয়ে চাকরি ব্যবসায় প্রতিযোগিতা করতে পারবেন।

বড় বড় মেগা প্রকল্প হয়েছে; কোনো উপায় ছিল না। করতেই হবে কারণ নাহলে নগর বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে। আর এগুলো তো প্রবৃদ্ধিতে শক্তির জোগান দেবে। বিশ্বখ্যাত বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ ২০১৫ সালে বলেছে বাংলাদেশে ১ কোটি ২০ লাখ লোক আছে যাদের মাথাপিছু আয় ৫ হাজার ডলার, তাদের সবারই ট্যাক্স নেওয়া যায়। প্রতিবছর আরও ২০ লাখ লোক যোগ হচ্ছে। তাহলে এখন দুই কোটি লোক ট্যাক্স দেওয়ার কথা কিন্তু দিচ্ছে ২০ লাখ। তারাই টাকা পাচার করছে, তারাই কর খেলাপি; এটা হতে পারে না। জোর করার কিছু নাই তাদের বোঝাতে হবে। তারা অবশ্য দুর্নীতির কথা বলে যে আমরা ট্যাক্স দেব আর লোকজন ২৭ কোটি টাকায় বালিশ কিনবে, এটা হতে পারে না। কাজেই সরকারি ক্রয়  বিশ্বমানে তুলনা করে উপযুক্ত মূল্য বেঁধে দিয়ে সেই দামেই টেন্ডার দিতে হবে। একটা রাস্তা বানাতে ১ কিলোমিটারে ১০০ কোটি টাকা লাগবে না, এটা ২০ কোটির মধ্যে সারতে হবে। এভাবে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থা করতে হবে।

আমি বারবার বলছি বঙ্গবন্ধুর কথা, মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং নিঃস্ব লোক এ দেশের প্রাণ। আর সঞ্চয়পত্রসহ অবসরভোগী মানুষের জীবন-জীবিকার মাধ্যমগুলোকে সোশ্যাল সিকিউরিটি সাপোর্ট হিসেবে দেখতে হবে। সব ক্ষেত্রে চিন্তাভাবনা করে নীতি কৌশল নিয়ে বাস্তবায়ন করে পেছনে পড়াদের সামনের কাতারে নিয়ে আসাই কাজ। কাউকে ওপর থেকে নিচে নামানোর দরকার নাই। নিচে যারা আছে তাদের শুধু উপরে ওঠাতে হবে এখন।

আমি মনে করি, ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকার যেভাবে গ্রোথ উইথ ইকুইটি নীতিকে প্রতিপাদ্য করে নিয়েছিলেন, শিল্পায়ন ও কাজের মাধ্যমে মানুষের হাতে অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন সেটিকে আবার আনা দরকার, তবেই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা আরও চাঙ্গা হবে এবং সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশ।

লেখক: বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর

(অনুলিখিত)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত