ঘরের মাঠে প্রথম দিনেই ৪০০ করে রেকর্ড গড়েছিল ভারত। ৪২৮ রানে থামার পর ইংল্যান্ড গুটিয়ে যায় মাত্র ১৩৬ রানে। ফলোঅন না করিয়ে ১৮৬ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন হারমানপ্রীত কৌররা। পাহাড়সম লক্ষ্যের বোঝা তাড়া করতে না পেরে ১৩১ রানেই থামে ইংলিশরা। তাতে মুম্বাইয়ে ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্টে ৩৪৭ রানের রেকর্ড গড়া জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা।
নারী টেস্ট ইতিহাসে এটিই রানের হিসাবে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড। একই সঙ্গে ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডকে হারাল ভারতের নারী দল। ১৯৯৮ সালে কলম্বোয় পাকিস্তান নারী দলকে ৩০৯ রানে হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা নারী দল। সেটিই ছিল এত দিন পর্যন্ত নারীদের টেস্ট ক্রিকেটে রানের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড। ২৫ বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে গেল এই ম্যাচে।
চারদিনের খেলাটা তিনদিনে শেষ করা ভারতীয় নারীদের এ জয়ের গল্পে প্রধান চরিত্র দীপ্তি শর্মা। দুই ইনিংসে ৬০ ও ২০ রানের ইনিংসের পর ম্যাচে একাই উইকেট নিয়েছেন ৯টি। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে দুই ডেব্যুটেন্টসহ চার ফিফটিতে প্রথম ইনিংসে ভারত তোলে ৪২৮ রান। জবাবে দীপ্তির দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৩৬ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৫.৩ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন দীপ্তি। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত ৬ উইকেটে ১৮৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করলে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রানের।
তাড়া করতে নেমে ফের দীপ্তির তোপের মুখে পড়েন ইংলিশ ব্যাটাররা। সঙ্গে জ্বলে ওঠেন পূজা ভাস্ত্রাকারও। ৩২ রান দিয়ে এবার ৪ উইকেট নেন দীপ্তি, পূজা নেন ৩টি। এতেই ১৩১ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। মূলত দীপ্তির দুর্দান্ত বোলিংয়েই দুই ইনিংস মিলিয়ে ইংল্যান্ডের ইনিংস টেকে মাত্র ৩৭৮ বল।
ম্যাচ শেষে দীপ্তি বলেছেন, ‘দারুণ লাগছে। এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমাদের পরিকল্পনা কার্যকর করতে পেরে ভাল লাগছে। নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছিলাম। ব্যাট করার সময় আমরা চেষ্টা করছিলাম জুটি গড়ার। সেটা পেরেছি। বল করার সময় পিচ আমাদের খুব সাহায্য করেছে। শুধু ঠিক জায়গায় বল রাখতে হয়েছে। হারমনপ্রীত আমাকে বলেছিল সঠিক লেংথে বল করতে। আমি সেটাই করেছি। আগামী দিনেও এই সাফল্য ধরে রাখার চেষ্টা করব।’
মেয়েদের টেস্টে ভারতীয়দের মধ্যে ম্যাচে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড বাংলার ঝুলন গোস্বামীর। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালে তিনি ১০ উইকেট নিয়েছিলেন। দীপ্তির দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট। দীপ্তি বলেন, ‘আমি জানতাম না যে রেকর্ডের সুযোগ রয়েছে। সেটা মাথায় রেখে বল করিনি।’
স্মরণীয় জয়ের পর ভারত অধিনায়ক হারমানপ্রীত বলেছেন, ‘দারুণ অনুভূতি হচ্ছে। এটা প্রমাণ করে যে আমরা কীভাবে ম্যাচ জিততে পারি। সবকিছু পরিকল্পনামতো হয়েছে এবং দলের প্রত্যেককে এ কৃতিত্ব দিতে হবে।’
ভারত সফরে এর আগে তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জেতে ইংল্যান্ড।