বগুড়ার শেরপুরে বিএনপিকর্মী আবদুল মতিন (৫০) হত্যার ঘটনার তিন সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও মামলার অজ্ঞাত আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। নিহত আবদুল মতিন পেশায় গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, আতঙ্ক ছড়াতে সরকারি দল অথবা কোনো বাহিনীই মতিনকে হত্যা করেছে। তাই পুলিশ খুনি শনাক্ত করতে পারছে না।
মামলার এজাহারে প্রকাশ, উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের মান্দাইল গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মতিন বুধবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বাড়ি থেকে গরম কাপড় নিয়ে বের হন। সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি এলাকায় ব্যবসায়িক কাজে ঘোরাফেরা করেন। সন্ধ্যার পর শেরপুর শহরে মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি যাননি। তার মেয়ে রাতে বারবার ফোন দিয়েও তাকে ফোনে পাননি। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল ৮টায় উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের মান্দাইল গ্রামের পূর্বপাড়ার সরিষা ক্ষেত থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মেয়ে মৌসুমী (৩২) বাদী হয়ে একইদিন রাতে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে শেরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মামলার বাদী ও নিহতের মেয়ে মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘আমার বাবাকে কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে হত্যা করেছে, পুলিশ তা খুঁজে পায়নি। উপরন্তু তারা আমার ভাইকে সন্দেহ করছে। তাকে মাদকাসক্ত প্রমাণের চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাবার হত্যার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত আসামিরা ধরা না পড়ায় হত্যার সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠা কাজ করছে’।
মতিনের ছেলে মিলন রহমান (৩০) বলেন, ‘পুলিশ আমাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। প্রত্যেকবারই আমি মাদকের টাকার জন্য আমার বাবাকে হত্যা করেছি-এমন ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করছে।’
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শেরপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশ-আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় বিভিন্ন এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা হয়। ১৫ নভেম্বর আবদুল মতিনসহ স্থানীয় উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে বিস্ফোরণ ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা করে শেরপুর থানা পুলিশ। মামলায় আবদুল মতিন ৬৪ নম্বর আসামি ছিলেন। তখন থেকেই তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে রাতে বাড়িতে থাকতেন না। কখনো কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে আবার কখনো পাশে ঝিনাগাড়ি পুকুর পাড়ে রাত্রিযাপন করতেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাঈফ আহমেদ দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘আসামিদের ধরার ব্যাপারে তারা তৎপর রয়েছেন’।
জানতে চাইলে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘মতিন হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ নিরন্তর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে। আমরা অচিরেই খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হব।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) সজীব শাহরীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সবকিছু মাথায় নিয়ে এ হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছি।’ অজ্ঞাতরা কোনোভাবেই পার পাবে না বলে জানান তিনি।