বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল। লুসাইল স্টেডিয়ামে ম্যাচের বয়স তখন ১২৩ মিনিট। খেলায় তিন তিনে সমতা। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সেকেন্ড কয়েক আগে স্তব্ধ হয়ে হয়ে যায় গোটা বিশ্ব। ফ্রান্সের ফুটবলার কোলো মুয়ানির পায়ে বল। সামনে একা আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। মুয়ানি শট নিলেন, বাঁ পায়ে ঠেকিয়ে দিলেন এমি। রুদ্ধশ্বাস কয়েক সেকেন্ড আর অবিশ্বাস্য এক সেভ!
ভক্তরা এমির এই সেভকে শতাব্দীর সেরা সেভ হিসেবে আখ্যাতি করছেন। বিশ্বে এমন অনেক খেলা হবে, এমন অনেক সেভ হবে, কিন্তু শেষ মুহূর্তের এমন সেভ শুধু গোল রক্ষা করেনি, এনে দিয়েছে শিরোপা।
কাতার বিশ্বকাপের পুরো আসরেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। বিশেষ করে ফাইনাল ম্যাচের শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্য এই সেভ করে দলকে রক্ষা করেন তিনি। এই সেভ এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ যে প্রত্যেক আর্জেন্টাইন ভক্ত হৃদয় দিয়ে সেটা উপলব্ধি করতে পারেন।
এমির কাছেও এটি শুধুই একটি গোল বাঁচানো নয়। তার জীবনের ‘সেরা সেভ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এটিকে। আর্জেন্টাইন একটি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমি বলেন, “আমি হয়তো আরও অনেক ভালো সেভ করতে পারব। এর আগেও করেছি। তবে বিশ্বকাপ ফাইনালে এটিই আমার জীবনের সেরা সেভ হয়ে থাকবে। আমার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে এটি।”
এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমি শান্ত ছিলাম। খেয়াল করেছিলাম মুয়ানি আমার বাম পায়ের দিকে টার্গেট করছে। আমি চোখ বন্ধ করি, পা এগিয়ে দেই। গোলটা বেঁচে যায়। গোলরক্ষক হিসেবে এটি আমার জীবনের সেরা মুহূর্ত।”
মেসি এই মেসি সেভ নিয়ে বলেছিলেন, ‘এত দ্রুত পুরো ব্যাপারটি ঘটে গিয়েছিল যে ওটা নিয়ে ভাবার সুযোগই হয়নি। ওই সেভের পরের মুহূর্তেই আমরা একটা পাল্টা আক্রমণে উঠি। পরে যখন আমি মার্টিনেজের সেভটির ভিডিও ফুটেজ দেখেছি, তখন বরং বেশি আতঙ্কিত হয়েছি। বুঝতে পেরেছি, মার্তিনেজের সেভ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
শুধু ম্যাচে নয়, এরপর টাইব্রেকারেও আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন মার্টিনেজ। মাইন্ড গেম খেলে ফরাসি ফুটবলারদের মনোযোগ নষ্ট করেছেন। একটি নিজে ঠেকিয়েছেন আরেকটি বাইরে মারতে বাধ্য করেছেন মার্টিনেজ।
আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করা সেই সেভের ট্যাটু এঁকেছেন বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য পাপু গোমেজ। মার্টিনেজের সম্মানার্থে তাকেই শরীরে ধারণ করেছেন সতীর্থ গোমেজ। ঊরুতে এঁকেছেন মার্টিনেজের সেই সেভের ট্যাটু। নিচে লেখা ওই সেভের সময়- ১২২ মিনিট, ৪৩ সেকেন্ড।