নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ: উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষক সমিতি

প্রশাসনিক অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে’র পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছেন শিক্ষক সমিতি। আইন ও বাংলা বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগে অপ্রয়োজনে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে উপাচার্য আইন লঙ্ঘন করেছেন বলে সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ শিক্ষকদের অভিযোগ। তবে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃ পক্ষের দাবি, নিয়োগসহ সকল কিছুই উপাচার্য বিধি মোতাবেক করেছেন।

মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল এগারোটায় চবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষক সমিতি।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল হকের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকীসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এসময় বিভিন্ন বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের অর্ধশতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি কাজী রবিউল ইসলাম বলেন, ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনগুলো ম্লান হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। ভিসি ও প্রো-ভিসির পদত্যাগে ক্যাম্পাসের সুস্থ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ পূরণ অবধি আন্দোলন অব্যাহত রাখবো।

কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, আইন লঙ্ঘন করে শিক্ষক নিয়োগসহ উপাচার্যের বিভিন্ন অনিয়মের কারণে আজ প্রধানমন্ত্রীর অর্জন পর্যন্ত ক্ষুন্ন হচ্ছে। আপনি ক্ষমতায় দম্ভ দেখাবেন না। প্রধানমন্ত্রী অনেক এমপি মেয়রকে হিরো থেকে জিরো বানিয়েছেন। চবি সংশোধনের আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে একই দিন বেলা সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্ত্বরে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে ‘উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবির বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে উপাচার্যপন্থী শিক্ষকবৃন্দ। 

এতে শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সজীব কুমার ঘোষের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সিন্ডিকেট সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. এনায়েত হক, শিক্ষক সমিতির সদস্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল আলম ও অধ্যাপক ড. রকিবা নবী, পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক শ্যামল রঞ্জন চক্রবর্তী, জিন প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজনীন নাহার ইসলাম, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম, চবি প্রক্টর ড. নুরুল আজিম সিকদারসহ সহকারী প্রক্টরবৃন্দ।

সমাবেশে পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক শ্যামল রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, কিছু ভিত্তিহীন দাবি নিয়ে তারা আজ প্রশাসন ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চায়।