যাদের লেখায় শক্তি রয়েছে, তাদের বই প্রকাশ করি

১. মুক্তিযুদ্ধ আর মুক্তচেতনা, দুয়ের প্রত্যয়ে আমাদের প্রকাশনা এই স্লোগান নিয়ে আমরা প্রকাশনায় নতুন ধারার সৃষ্টি করে সৃজনশীল সাহিত্যের সর্বাধিক বই প্রকাশ করেছি। বঙ্গবন্ধু-মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও গল্প, উপন্যাস, রাজনীতি, ভ্রমণকাহিনী, স্মৃতিকথা, সাক্ষাৎকার, প্রবন্ধসহ সৃজনশীল সব শাখায় আমাদের প্রকাশনা রয়েছে। প্রকাশনা শুধু ব্যবসা নয়, সমাজ বিনির্মাণেও প্রকাশকের ভূমিকা রয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

২. অমর একুশের বইমেলা শুধু বইমেলা নয়, সাংস্কৃতিক উৎসবও। এই বইমেলা বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে এবং সমৃদ্ধ করেছে।

আমরা এক মেলা শেষ করে পরের মাস থেকে পরবর্তী মেলার কাজ শুরু করি। সেই হিসেবে ইতিমধ্যে অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। গতবারের মতো এবারও বইমেলায় ১০০-এর অধিক বই প্রকাশিত হবে। আমাদের বিবেচনায় সবগুলো বই উল্লেখযোগ্য। বরাবরের মতো প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদ এবং আহমদ শরীফের সব বই তো থাকছেই।

৩. প্রচারণার বিষয়টি এখনো অনলাইন নির্ভর। আমরা প্রতিটি বই ফেসবুকসহ অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমে প্রচারের উদ্যোগ নিচ্ছি।

৪. জীবনের সবক্ষেত্রেই সমস্যা যেমন রয়েছে, সম্ভাবনাও রয়েছে। সৃজনশীল প্রকাশক হিসেবে আমি আশাবাদী মানুষ। আশা না থাকলে সৃজনশীল প্রকাশনা করা সম্ভব নয়। সৃজনশীল প্রকাশকদের সমিতিকে আমরা রক্ষা করতে পারিনি। যেই সমিতি সৃজনশীল প্রকাশনায় পেশাদারিত্ব সৃষ্টিসহ নানা দিক নিয়ে কাজ করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। বর্তমান সরকার আন্তরিক হলেও গ্রন্থ উন্নয়ন এবং মুদ্রণ শিল্পের উন্নয়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র মন্ত্রণালয় নির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তাদের কাজ এই শিল্পে কোনো সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারছে না। আশা করি, প্রতিষ্ঠানটি গতিশীল হবে এবং এই শিল্পের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

৫. যারা বই লিখতে আগ্রহী তাদের প্রথমে পত্র-পত্রিকার সাহিত্য পাতা, লিটলম্যাগ নিয়মিত পড়া দরকার। অর্থাৎ লিখতে হলে প্রথমে ভালো পাঠক হতে হবে। পত্রপত্রিকা, লিটলম্যাগ, সাহিত্য পত্রিকায় নিয়মিত লেখালিখি করে প্রত্যেকের নিজস্ব পাঠক গোষ্ঠী তৈরি করা দরকার। যাদের লেখায় শক্তি রয়েছে, মেসেজ রয়েছে তাদের বইই আমরা প্রকাশ করি। সরকারের পাঠাভ্যাস তৈরির যে কর্মসূচি রয়েছে, আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টা নিলে সামনে সৃজনশীল প্রকাশকদের আরও সুদিন আসবে।