প্রবাসে ছিলাম কিন্তু স্বপ্ন আমি ঠিকই দেখতাম

এ সময়ের আলোচিত কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে অন্যতম সোমনূর মনির কোনাল। সেরা কণ্ঠ দিয়ে আসা গায়িকা ছড়াচ্ছেন সুরের মূর্ছনা। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ২০২৩ সালে বৃহস্পতি ছিল তার সম্পূর্ণ অনুকূলে। গান ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কোনালের সঙ্গে কথা বলেছেন মাহতাব হোসেন

এ বছরটা আপনার কাছে কেমন ছিল?

২০২৩ সাল ছিল আমার জীবনের অন্যতম একটা প্রাপ্তির বছর। এই বছর আমাকে নিয়ে গেছে দেশের প্রত্যন্ত পর্যায়ের মানুষের কাছে। যারা কোনালকে চিনতেন না, তারাও সুরমা সুরমা, মেঘের নৌকা কিংবা প্রিয়তমা দিয়ে কোনালকে চিনেছেন। এই প্রাপ্তি অসামান্য, ব্যাখ্যা করার ভাষা আমার নেই।

বছরের শুরুটা, যেভাবে আসলেই শুরু হলো?

বছরের শুরুতেই ঈদে মুক্তি পেল সুরমা সুরমা গান। শাকিব ভাইয়ের লিডার আমিই বাংলাদেশ সিনেমার এই গান সবার মুখে ছড়িয়ে পড়ল। জাহিদ আকবর ভাইয়ের লেখা এই গান দিয়ে বছরের শুরু হয়। বলা যায় আমার ক্যারিয়ারের তরঙ্গ তৈরি করে দিয়ে যায় সুরমা সুরমা। এরপরে তো সবই জানেন।

প্রিয়তমা গানের কারণে কোনালের একটা নতুন পরিচিতি তৈরি হয়েছে, এ বিষয়ে কী বলবেন?

দেখুন, প্রিয়তমা গানটা সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে গেছে। দুই বছরের বাচ্চা থেকে একটি প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ কর্তা তিনিও শুনছেন। এমনই একজন আমাকে বললেন, জানো কোনাল আমি আর আমার স্ত্রী ঘুমাতে যাওয়ার আগে তোমার প্রিয়তমা গানটি শোনা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এরপর একটা ভিডিওতে দেখলাম, আফ্রিকান কয়েকজন এই প্রিয়তমা গান গাইছে, ও নাচ্ছে এমন অজস্র সুখময় অভিজ্ঞতা রয়েছে।

আপনার গাওয়া বছরের তিনটি গানের মধ্যে দুটোই শাকিব খানের। শিল্পী হিসেবে এটা আপনার দৃষ্টিতে চলচ্চিত্রে শাকিব খানের ভূমিকা এখনো কতটুকু রয়েছে?

ভারতে যেমন শাহরুখের ছবির জন্য সবাই অপেক্ষা করে, আমাদের দেশে শাকিবের সিনেমার জন্য সবাই অপেক্ষা করে। আমাদের শিল্পী থেকে কলাকুশলী সবাই অপেক্ষা করে। এ থেকে বোঝা যায় শাকিব খানের ভূমিকা ইন্ডাস্ট্রিতে কতটুকু।

আন্তর্জাতিক মিউজিক ও আমাদের মিউজিক দুটোকে আপনি কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

একটা সময় কিন্তু আমাদের গানেও দারুণ অর্কেস্ট্রেশন করা হতো। ব্যয়বহুল কিন্তু করা হতো। সময়টা এখন আর কাঁটাতারে সীমাবদ্ধ নয়। পাটুয়াটুলী থেকে ক্যাসেট কিনে এনে দেশের মানুষরাই শুনছে এমন নয়। এখন আমাদের মিউজিক বিশ্বের সবখানে পৌঁছে যাচ্ছে। বলেছিলাম, প্রিয়তমা গানটি আফ্রিকান কয়েকজন গাইছিলেন। এছাড়া ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের গান শুনেছেন। তবে আমাদের মিউজিক নিয়ে কিছু আফসোসও রয়েছে...

কী ধরনের আফসোস?

বাংলাদেশে সংগীত সংশ্লিষ্টদের সঠিক পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। এখানে পারিশ্রমিক যেটা দেওয়া হয় সেটা খুবই নগণ্য, কখনো পারিশ্রমিকও দেওয়া হয় না। এই অবমূল্যায়ন বন্ধ করা জরুরি। সংগীত সংশ্লিষ্টদের পারিশ্রমিক, রয়্যালটি এসব সুন্দরভাবে বণ্টন করা উচিত।

আপনি একটা সময় প্রবাসে ছিলেন, ভেবেছিলেন আজকের এই জনপ্রিয়তা আপনি ছুঁতে পারবেন?

দেখেন প্রবাসে ছিলাম, কিন্তু আমি স্বপ্ন ঠিকই দেখতাম। দূর পরবাসে বসেও আজকের এই অবস্থানে আসার স্বপ্নটা ঠিকই দেখেছি।