গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এবং ইসরায়েল রাজি থাকলেও শর্ত নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। পুরোপুরিভাবে যুদ্ধ বন্ধ হলেই কেবল ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তিতে সায় দেওয়ার কথা বলেছে হামাস। যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে তোড়জোড়ের মধ্যে ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। এদিকে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি হত্যায় জাতিসংঘ ইসরায়েলকে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলাপ করতে মিসর সফরে যান হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়া। আবার ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট হেরজগও যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানান। ধারণা করা হচ্ছিল, ২০ হাজারের অধিক প্রাণকে হত্যার পর ইসরায়েলি আগ্রাসন সম্ভবত বন্ধ হবে।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে হামাসের পক্ষ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার বলা হয়, ‘ফিলিস্তিনে জাতীয় সিদ্ধান্ত হচ্ছে, পরিপূর্ণভাবে যুদ্ধ বন্ধ না হলে জিম্মি ও বন্দি বিনিময়ের মতো কোনো চুক্তিই হবে না।’
আবার বর্তমান সংঘাতের আরেকটি ছোট পক্ষ হচ্ছে প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদ। গত ৭ অক্টোবর হামাসের সঙ্গে তারাও ইসরায়েলের ভেতরে প্রবেশ করে কয়েকজনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। যুদ্ধবিরতি নিয়ে তাদের অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের নেতাও মিসরে যাবেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে।
গত নভেম্বরের শেষ দিকে ছয়দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, ১০৫ জন ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে কারাগার থেকে তিন শতাধিক ফিলিস্তিনি মুক্তি পান। ধারণা করা হচ্ছে, হামাসের হাতে আরও ১২০ জন ইসরায়েলি জিম্মি রয়েছেন।
হামাসের হাতে বন্দি থাকা তিন ইসরায়েলি সেনা ভুলক্রমে ইসরায়েলি গুলিতে নিহত হওয়ার পর ইসরায়েলের ভেতরে চাপ বাড়ে। জিম্মিদের স্বজনরা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর হামাসের সঙ্গে সমঝোতার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে। ফলে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির আলোচনায় আগ্রহী। তবে হামাসের শর্তে বিপাকেই পড়ল ইসরায়েল।
এদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্বামী আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এই হামলায় সময় তারা নিজেদের বাড়িতেই ছিলেন। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের বিমান বাহিনী হিজবুল্লাহর অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে একাধিক রকেট উৎক্ষেপণস্থলে হামলা চালানো হয়েছে।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় তাদের এক যোদ্ধা নিহত হয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে তারা শতাধিক যোদ্ধা হারিয়েছে। আবার ইসরায়েলের দাবি, লেবানন সীমান্তের ইসরায়েল অংশে এখন পর্যন্ত আট সেনা ও চার বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
নিরস্ত্র বেসামরিক হত্যার তদন্তের আহ্বান জাতিসংঘের ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক গত বুধবার অন্তত ১১ নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশন (ওএইচসিএইচআর) বলছে, গাজা শহরে পরিবারের সদস্যদের সামনে ১১ জন নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি পুরুষকে হত্যা করার অভিযোগ তদন্ত যেন শুরু করে ইসরায়েল।
ওএইচসিএইচআর আরও বলে, ইসরায়েলকে অবিলম্বে এই অভিযোগগুলোর স্বাধীন, স্বচ্ছ ও কার্যকর তদন্ত করতে হবে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজার ‘আন্নান বিল্ডিং’ নামের একটি ভবনে পরিবারের সদস্যদের সামনেই কমপক্ষে ১১ পুরুষকে গুলি করে হত্যা করেছিল। নিহতদের বয়স ২০ থেকে ৩০ এর মধ্যে।