‘বিপর্যয়কর’ খাদ্য সংকটে গাজার ৬ লাখ মানুষ

ইসরায়েলি আগ্রাসনে মানবিক সংকটে গাজা। ফিলিস্তিনি এ অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটির ২৬ শতাংশ বা পৌনে ৬ লাখ বাসিন্দা বিপর্যয়কর ক্ষুধা ও ভয়াবহ খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। জাতিসংঘের এক রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরুদ্ধ গাজার পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ ‘বিপর্যয়কর ক্ষুধার’ মুখোমুখি হয়েছেন। বলে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে। আর গাজার সব বাসিন্দাই তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সংকটে রয়েছে বলে ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) রিপোর্টে বলা হয়েছে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)সহ জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা ও বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) তথ্য অন্তর্ভুক্ত করে আইপিসি এই রিপোর্ট তৈরি করেছে। আইপিসি হচ্ছে একটি বহু-অংশীদার ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক মান অনুযায়ী ক্ষুধা সংকটের তীব্রতা এবং মাত্রা নির্ধারণ করতে তথ্য বিশ্লেষণ করে থাকে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজার ২৬ শতাংশ মানুষ - প্রায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৬০০ বাসিন্দা - তাদের খাদ্য সরবরাহ এবং সংকট মোকাবিলা করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। তারা বিপর্যয়কর ক্ষুধা (আইপিসি ফেজ ৫) এবং অনাহারের সম্মুখীন হয়েছে।’ টানা আড়াই মাস গাজায় আকাশ ও স্থলপথে নির্বিচারে হামলা করে চলেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে করে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ওই ভূখণ্ডটিতে তীব্র মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে।

যদি ‘তীব্র সংঘাত এবং সীমিত মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার’ বর্তমান পরিস্থিতির মতো অব্যাহত থাকে, তাহলে আইপিসি ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছে, ‘আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেখানে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি রয়েছে।’

ডব্লিউএফপি খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন যে, সংঘাতের মধ্যে বেঁচে থাকতে গাজাবাসীরা ‘তাদের সকল সম্পদই ব্যবহার করেছে, সেখানে জীবিকা ধ্বংস হয়ে গেছে, বেকারি ধ্বংস হয়ে গেছে, দোকানগুলোও খালি হয়ে গেছে এবং মানুষ খাবার খুঁজে পাচ্ছে না,’ বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গাজার  বাসিন্দারা ডব্লিউএফপি কর্মীদের জানিয়েছেন, তারা প্রায়ই পুরো দিন না খেয়ে থাকেন এবং অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিজেরা ক্ষুধার্ত অবস্থায় থেকে যান যাতে শিশুরা কিছু খেতে পারে।