শরীয়তপুর সদর উপজেলার খাসচর তালেরপুল এলাকার শামীম খানের সঙ্গে মাদারীপুর খোয়াজপুর ইউনিয়নের মধ্যেরচক এলাকার হামিদা বেগমের নয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের এক পর্যায়ে হালিমা খাতুনের অন্যত্র বিয়ে হয়। বিয়ের পরও হামিদাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করতো শামীম। এ ঘটনায় গত ১৮ ডিসেম্বর শামীমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন হামিদা। মামলার একদিন পরেই গত ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাড়িতে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে তিনি। এদিকে উত্যক্তের বিষয়টি অস্বীকার করেছে শামীমের পরিবার।
আত্মহত্যার ঘটনায় গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শামীমের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে হামিদার পরিবার। এসময় তাদের বিরুদ্ধে গরু, ছাগল ও স্বর্ণালংকার লুট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলামান বলে জানান পুলিশ। হামলার বিষয়ে স্থানীয় ইসমাইল হোসেন বলেন, সন্ধ্যায় কয়েকজন লোক এসে শামীমের তিনটি ঘর ভাঙচুর করে। এছাড়া ঘরগুলোতে লুটপাট করে স্বর্ণালংকার, গরু-ছাগল নিয়ে যায়।
শামীম খানের মামা মো. আরিফ খান বলেন, নয় বছর আগে শামীম ও হামিদার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে সম্পর্ক ভেঙে হামিদা সিলেটের লিটন হোসেন নামের একজনকে বিয়ে করেন। সম্প্রতি তাদের সংসারে ঝামেলা চলছিল। হামিদার পরিবারের মতে, শামীমের জন্য তাদের সংসারে ঝামেলা। তাই শামীম ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে হামিদা মামলাও করেছেন। এখন আবার শুনেছি আত্মহত্যা করেছেন হামিদা। শামীম এইসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। বুধবার সন্ধ্যায় হামিদার পরিবারের লোকজন এসে শামীমের বাড়ি ভাঙচুর করেছে এবং স্বর্ণালংকার, গরু-ছাগল নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমরা মামলা করবো।
হামিদার ছোট বোন হালিমা আক্তার জানান, তার বোনের সঙ্গে বিয়ের আগে শামীমের ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। বোনের বিয়ের পরেও শামীম উত্যক্ত করতো। এ ঘটনায় গত ১৮ ডিসেম্বর শামীমদের বিরুদ্ধে বোন ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা করেন। সে কারণে শামীম আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। শামীমের কারনেই আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে। আমার বোনের মৃত্যুর বিচার চাই।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদারীপুর জেলায় ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা হয়েছে। সেই মামলার আসামীদের বাড়ি শরীয়তপুর সদরে। বুধবার সন্ধ্যায় বাদি পক্ষের লোকজন এসে আসামীর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে আমরা সংবাদ পেয়েছি। হামলার ঘটনায় এখনো অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় আসেননি। আসলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।