ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে রাশিয়ার বিপুল সম্পত্তি জব্দ করা হয়। এখন এসব সম্পত্তি এখন ইউক্রেনকে দেওয়ার তোরজোড় চলছে । আর তা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ক্রেমলিন।তাছাড়া পাল্টা পদক্ষেপের পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার জব্দ করে বাইডেন প্রশাসন ও ইউরোপীয় নেতারা। এখন তারা এই অর্থ ইউক্রেনকে দিতে চাইছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন,’রাশিয়া তাদের ছেড়ে দেবে না।’
এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার জব্দ করা সম্পত্তির বিষয়ে জি৭ ভুক্ত দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাইডেন প্রশাসন। এসব সম্পত্তি ইউক্রেনের যুদ্ধ সহায়তায় ব্যয় করা যায় কি না তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
যদিও পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অনুমোদন দেননি। তবে আলোচনায় বেশ অগ্রগতি হয়েছে কারণ মার্কিন সামরিক প্যাকেজে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রিপাবলিকান পার্টি।
এ পরিস্থিতিতে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রুশ সম্পত্তি অবৈধভাবে জব্দ করা। আগামী ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আরও সম্পত্তি জব্দের জন্য ইউরোপকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যা রাশিয়ার কাছে অগ্রহণযোগ্য। তাছাড়া এমনটা করা হবে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক।
এছাড়া জব্দ করা সম্পদ ইউক্রেনকে দেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছেন রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ। তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অবশ্যই উচিত হবে না ঘোরের মধ্যে থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া। তাদের এটা মনে করা ঠিক হবে না যে তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক চালিয়ে নিতে মুখিয়ে আছে রাশিয়া।’
এদিকে আগামী বছর ইউক্রেন যুদ্ধে ও রাশিয়ার নিরাপত্তায় ১৫৭ বিলিয়ন (১৫ হাজার ৭০০ কোটি) ডলার ব্যয় করার ঘোষণা দিয়েছেন পুতিন। আগামী বছর সামরিকখাতে রাশিয়ার এই ব্যয় হবে স্নায়ুযুদ্ধের পর সবচেয়ে বেশি। আর চলতি বছরের ব্যয়ের চেয়ে তা ৭০ শতাংশ বেশি হবে।