চোখে পোকা ‘অবসরে’ সৌম্য

নেপিয়ারে গতকাল নিউজিল্যান্ডকে স্রেফ ৯৮ রানে অলআউট করে দিয়ে ব্যাটিংয়ে সতর্ক শুরু করে বাংলাদেশ। প্রথম চার ওভার নির্বিঘ্নে পার হওয়ার পর তৈরি হয় ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি। পঞ্চম ওভারের চতুর্থ বলের পর চোখে পোকা ঢোকায় সমস্যা বোধ করতে থাকেন সৌম্য। শুরুতে পানি দিয়ে চোখ পরিষ্কার করার চেষ্টা করলেও তাতে কাজ হয়নি। আরেকটি বল খেলার পর ফের অস্বস্তি লাগলে মাঠে যেতে হয় ফিজিওকে। এই দফায় চোখে ড্রপ দিয়েও কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে সৌম্যকে মাঠ ছাড়তে হয়। স্কোরকার্ডে তার নামের পাশে লেখা হয় রিটায়ার্ড হার্ট। 

তিন সংস্করণ মিলিয়ে সৌম্য হলেন নবম বাংলাদেশি যিনি রিটায়ার্ড হার্ট হলেন। আগের ৮ জন হচ্ছেন আফতাব আহমেদ, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, শরীফুল ইসলাম, ইয়াসির আলী। এই ৯ জন মিলে মোট ১৩ বার রিটায়ার্ড হার্ট হয়েছেন। এর মধ্যে লিটন ও মুশফিক সবার ওপরে। দুজনেই ৩ বার করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরেছেন।

ওয়ানডেতে মোট ৬ বার এভাবে ড্রেসিংরুমে ফিরতে দেখা গেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। এর মধ্যে লিটন একাই দুবার ২০২০ সালের মার্চে সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ১২৬ রান করে প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে ;আর টিকতে পারেননি লিটন। ফিজিওর সঙ্গে কথা বলে মাঠ ছেড়েছিলেন। পরের ঘটনাটি গত বছর আগস্টে হারারেতে সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই। ৮১ রান করার পর ‘মাসল পুল’ করায় স্ট্রেচারে করে মাঠ ছেড়েছিলেন লিটন। ওয়ানডেতে একবার করে এই সংস্করণে রিটায়ার্ড হার্ট হয়েছেন মিরাজ, মুশফিক, সাকিব এবং গতকাল সৌম্য।

মিরাজ গত সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপে লাহোরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওপেন করে ১১২ রানে থাকতে রিটায়ার্ড হার্ট হন। মুজিব উর রহমানকে ছক্কা মারতে গিয়ে আঘাত পেয়েছিলেন বাঁ হাতে। মুশফিক ওয়ানডেতে রিটায়ার্ড হার্ট হয়েছেন ২০১৬ সালে ক্রাইস্টচার্চে এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই (৪২*)। সাকিব এর তিন বছর পর ২০১৯ সালে ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। ব্যক্তিগত ৫০ রানে সাইড স্ট্রেইন চোটের পূর্ব সতর্কতা হিসেবে মাঠ ছেড়েছিলেন সাকিব।

টেস্টে বাংলাদেশের মোট ৬ ব্যাটসম্যান একবার করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়েছেন। শুরুটা আফতাব আহমেদকে দিয়ে। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চট্টগ্রামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত ২১ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হন আফতাব। জ্যাক ক্যালিসকে পুল করতে গিয়ে মাথায় বল লেগেছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম রিটায়ার্ড হার্ট ব্যাটসম্যানও আফতাব। লিটন এই সংস্করণে একবার রিটায়ার্ড হার্ট হয়েছেন ২০১৯ সালে ইডেন গার্ডেনসে সেই দিবারাত্রির টেস্টে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে মোহাম্মদ শামির বলে কপালে আঘাত পাওয়ার পর ব্যক্তিগত ২৪ রানে মাঠ ছেড়েছিলেন।