ওয়ানডে বিশ্বকাপের ব্যর্থতার রেশ এখনো কাটেনি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গঠন করা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি এখনো অধিনায়কের সাক্ষাৎকারই নিতে পারেনি। তবুও সময় তো থেমে থাকে না। কদিন বাদেই নতুন বছর, ২০২৪ এর জুন মাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আজ থেকে শুরু হওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে তারই প্রস্তুতি শুরু বাংলাদেশের।
কোচ চ-িকা হাথুরুসিংহে কাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে বলেছেন, ‘এখন থেকে বিশ্বকাপ পর্যন্ত ১১টি ম্যাচ আছে আমাদের হাতে। এই আছে আমাদের সূচিতে, এই সংখ্যাটা আদর্শ কি না সেই প্রসঙ্গে যাব না। আমাদের খেলোয়াড়দের যার যার ভূমিকা এবং দায়িত্ব সবকিছুই এই সময়ের ভেতরেই ঠিক করে ফেলতে হবে।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩টি, এবং মার্চ-এপ্রিলে দেশে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩টি ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫টি টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ। এই প্রস্তুতি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজে হতে যাওয়া ২০ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে চ-িকা হাথুরুসিংহের দল।
ওয়ানডে দল থেকে টি-টোয়েন্টি দলে বেশ পরিবর্তন আছে দুই দলেই। বাংলাদেশ দলে রনি তালুকদার, শামীম হোসেন, তানভীর ইসলামরা যুক্ত হয়েছেন। বেশিরভাগেরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা অল্পদিনের। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডে ড্যারিল মিচেল, গ্লেন ফিলিপসরা ফিরেছেন। আইপিএলে মিচেলকে দলে নিতে রীতিমতো কাড়াকাড়িই লেগেছিল। ফিলিপস এবং মিচেল, দুজনেই টি-টোয়েন্টিতে ফ্র্যাঞ্চাইজি দুনিয়ায় চাহিদাসম্পন্ন ক্রিকেটার। ডানেডিনে শেষ যে ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে ৯৮ রানে অলআউট করেছিল বাংলাদেশ, তার চেয়ে টি-টোয়েন্টির দলটা যে আলাদা এবং অনেক শক্তিশালী সেটা খেলোয়াড়দের নামের তালিকায় চোখ রাখলেই বোঝা যায়। তবু হাথুরুসিংহে মনে করছেন, জয়ের স্মৃতি মানেই বাড়তি আত্মবিশ্বাস, ‘যখন ভালো একটা জয়ের স্মৃতি পেছনে থাকবে, তখন খেলোয়াড়রা সবাই চনমনে থেকেই মাঠে নামে। আগের ম্যাচে যা করা হয়েছে, তারই পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাই, কোন সংস্করণ এসব নিয়ে ভাবতে চাই না। ওয়ানডে জয়ের স্মৃতি আমাদের টি-টোয়েন্টিতে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।’
জুলাইতে দেশে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে আর কোনো টি-টোয়েন্টিই খেলেনি বাংলাদেশ দলের মূল খেলোয়াড়রা। যদিও অনেকেই ছিলেন এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট দলে। তাই লম্বা বিরতিটা কোনো ছন্দপতনের কারণ হিসেবে দেখছেন না হাথুরুসিংহে, ‘ওদের অনেকেই গত কয়েক মাসে টি-টোয়েন্টি সংস্করণেই খেলেছে। তারা তাদের ভূমিকাটা জানে, আমরাও তাদের শক্তির জায়গা জানি। এজন্যই ওরা দলে এসেছে।’
বিশ্বকাপের পর সাকিব আল হাসান চোট এবং নির্বাচনী ব্যস্ততায় ক্রিকেট থেকে দূরে। অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন নেতৃত্বের ভূমিকায় আগামীতে আর না থাকার কথাও। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে দেশে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডেতে প্রথম জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় শান্তই অধিনায়ক কি না এমন প্রশ্নে হাথুরুসিংহের উত্তর, ‘অধিনায়কত্ব নিয়ে বলতে গেলে, যেভাবে সে নিজেকে পরিচালিত করছে আর খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরা বের করে আনছে, যোগাযোগ বজায় রাখছে; সব নিয়ে আমি খুবই খুশি। সবশেষ ম্যাচে সে যেভাবে বোলারদের ব্যবহার করেছে, সত্যিই অসাধারণ।’
ঘুরেফিরে চলে আসছে বিশ্বকাপের প্রসঙ্গই। এবারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব, মূলপর্ব সেসব আর নেই। ২০ দলের আসর, ৫ দলের চারটা গ্রুপ। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল খেলবে সুপার এইটে। সেখানে ঠাঁই করে নেওয়াটাই হবে নিঃসন্দেহে প্রথম লক্ষ্য, তারপর বাদবাকি কারণ টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান খুব একটা ওপরে নয়। বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কান এই কোচ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বলেছিলেন প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময়ের অভাবসহ বেশ কিছু কারণের কথা। এবার অবশ্য সেসব অজুহাতের সুযোগ নেই। হাথুরুসিংহে জানালেন, ‘এখন আর আগামী মিলিয়ে ১১টা ম্যাচ আছে, আর আছে বিপিএল। এটাই আমাদের জাতীয় দল। এই দলটারই সমন্বয় যা ঠিক করার আস্তে আস্তে করে ফেলতে হবে। খেলোয়াড়দের তাদের ভূমিকাটা বুঝিয়ে দিতে হবে।’
অধিনায়ক শান্ত অবশ্য বর্তমানেই চোখ রাখছেন, ‘আমার মনে হয় খুব ভালো একটা সুযোগ, সবাই অনেক রোমাঞ্চিত এই সিরিজটা খেলার জন্য। দল হিসেবে খুব ভালো প্রস্তুতি হয়েছে। টি-টোয়েন্টির কিছু খেলোয়াড় আগে এসেছে, এসে প্রস্তুতি নিয়েছে। আশা করছি যে সবাই একসঙ্গে হয়ে খুব ভালো একটা ম্যাচই খেলবে।’
নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কেই তিন টি-টোয়েন্টির সিরিজের প্রথমটি। যে মাঠে সবশেষ ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষের ১০ উইকেটই নিয়েছেন পেসাররা। টি-টোয়েন্টিতে শান্ত পেসারদের পাশাপাশি স্পিনারদেরও সাফল্য দেখতে চান, এখানে পেস বোলারদের তো বাড়তি একটু সুবিধা থাকেই। তারপরও ভিন্ন সংস্করণে খেলা। পেস, স্পিন দুই বিভাগেই আশা করছি তারা দলের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করবে।’
বিদায়ী বছরে তেমন টি-টোয়েন্টি খেলা হয়নি বাংলাদেশের। ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করে শুরু করা বাংলাদেশ ১১ ম্যাচের ৯টিতেই জিতেছে। হেরেছে মাত্র দুটি।