সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি : সিংড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত নাটোর-৩ আসন। এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নৌকা ও সদ্য পদত্যাগকারী সিংড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিকের ঈগল প্রতীকের লড়াই হবে জমজমাট। নাটোর জেলা আ.লীগের সহসভাপতি জুনাইদ আহমেদ পলক টানা চতুর্থবারের মতো নৌকার মনোনয়ন পেয়ে ভোট করছেন। টানা তিনবারের এই সংসদ সদস্য দ্বিতীয় মেয়াদে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শফিকুল ইসলাম শফিক এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করছেন।
দৃশ্যমান উন্নয়ন ও বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতের জন্য হাইটেক পার্ক করার জন্য নতুন ও তরুণদের ভোট টানবেন পলক, অপরদিকে ১৫ বছরে সুবিধা ও দলের পদবঞ্চিতদের ভোট টানবেন শফিক এমনটাই শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া দলের অধিকাংশ নেতা পলকের পক্ষে। অপরদিকে অল্পসংখ্যক ও পদবঞ্চিত নেতারা শফিকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
নাটোর-৩ (সিংড়া) একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো নৌকা প্রতীক নিয়ে জুনাইদ আহমেদ পলক জয়লাভ করেন। এরপর এলাকায় নিজের ও দলের মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলেছেন।
তবে অভিযোগ আছে, সিংড়া উপজেলা প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী পলককে নিয়ে নিয়মিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও এসব অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিককে বিশেষ অতিথি হিসেবেও রাখেন না। সম্প্রতি উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের কমিটিতে পলকের কাছের মানুষদের সব পদ দিতে গিয়ে দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে।
সিংড়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পলক অনুসারীদের বিরোধ তৈরি হয়। ওই নির্বাচনে শফিক নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হন।
সিংড়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. রকি হোসেন নামের একজন নতুন ভোটার বলেন, ‘আমি নতুন ভোটার হিসেবে পলককে নৌকা মার্কায় ভোট দেব। কারণ তিনি সিংড়ায় দৃশ্যমান অনেক উন্নয়ন করেছেন। আমাদের মতো তরুণদের নিয়ে তিনি ভাবেন। বেকার ও তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য পলক হাইটেক পার্ক ও শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার করেছেন।’
পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আরেকজন নতুন ভোটার সাব্বির হোসেন বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম একজন নম্র ও ভদ্র মানুষ। এ জন্য আমি প্রথম ভোট তাকেই দেব।’
পলকের সমর্থক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিংড়া পৌরসভার মেয়র মো. জান্নাতুল ফেরদৌস এমপির উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরেন।
অপরদিকে শফিকের সমর্থক সিংড়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) কামরুল হাসান কামরান বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে সিংড়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তিনি তৃণমূল আওয়ামী লীগ ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। জননেতা শফিক সিংড়ার জনগণের ভালোবাসায় একবার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে প্রায় ১৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পৌর আ.লীগের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে দলে তার কোনো পদ-পদবি নাই।’
এই আসনে এই দুজন ছাড়াও সাতজন প্রার্থী রয়েছেন।