শতভাগ বেসরকারি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পথে চট্টগ্রাম বন্দর। এর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর প্রাতিষ্ঠানিক বন্দরের পরিবর্তে ল্যান্ডলর্ড পদ্ধতির বন্দরের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ২০২৪ সালে ২২ বছরের চুক্তিতে সৌদি আরবের রেড-সি গেটওয়েকে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগের যে সূচনা হয়েছিল, এর সর্বশেষ সংযুক্তি দেশীয় বহুজাতিক কোম্পানি এমজিএইচ। এর আগে আগামীর বন্দর বলে খ্যাত বে-টার্মিনালে পোর্ট অব সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং পতেঙ্গার লালদিয়ায় ডেনমার্কের এপি মুলারের মায়ের্সক, কর্ণফুলী নদীর ওপারে আনোয়ারা অংশে দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ড্রাইডক ইয়ার্ড নির্মাণ করে। এসবের সঙ্গে নতুন যুক্তের তালিকায় রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের আলোচিত চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)। এই টার্মিনালকেও ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অর্থাৎ, চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জোয়ার বইছে।
১৯৭৭ সালে মাত্র ছয়টি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্যে প্রবেশ করেছিল চট্টগ্রাম বন্দর। কনটেইনার পরিবহনে এই ৫০ বছরের পথচলায় দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর। বর্তমানে এই বন্দরে যেমন ৩৩ লাখ কনটেইনার ও ১৩ কোটি টন কার্গো পণ্য ওঠানামা করছে, তেমনিভাবে ৪ হাজার দেশি-বিদেশি মাদার ভ্যাসেল (বড় জাহাজ) ভিড়ছে। ৫০ বছর ধরে কনটেইনার পরিবহন করলেও এই বন্দরের ইতিহাস হাজার বছরের পুরনো। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বীকৃতি মেলে ১৩৯ বছর আগে ১৮৮৮ সালের ২৫ এপ্রিল। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ওঠানামা শুরু হয় ১৯৭৭ সালের ২২ মার্চ। উপমহাদেশের আলোচিত এই বন্দরকে পর্তুগিজ বণিকরা ষোড়শ শতকে নাম দিয়েছিল পোর্তে গ্র্যান্দো দি বেঙ্গলা, কিংবা অষ্টদশ শতকে ব্রিটিশদের ভাষায় গ্র্যান্ড পোর্ট অব বেঙ্গল।
সার্ভিস পোর্ট থেকে ল্যান্ড লর্ড পোর্ট : চট্টগ্রাম বন্দর প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে সার্ভিস পোর্ট হিসেবেই ছিল। যে বন্দরের সব খরচ ও আয় সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়, সেসব বন্দরকে সার্ভিস পোর্ট বলা হয়ে থাকে। বর্তমানে মোংলা বন্দর ও পায়রা বন্দর আমাদের সার্ভিস পোর্ট। ১৮৮৭ সালের ২৫ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দর প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৯১ সালে জেটিতে ক্রেন যুক্ত করা, ২০০৭ সালে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ ও ইকুইপমেন্ট সংযুক্তির মাধ্যমে টুলস পোর্টে প্রবেশ করেছিল চট্টগ্রাম বন্দর। আর তখন থেকেই স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে চলে বন্দরটি। বন্দরের সব উন্নয়ন কার্যক্রমও নিজস্ব অর্থায়নে হয়ে আসছে। সর্বশেষ পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের জন্য অধিগ্রহণকৃত ভূমির মূল্য পরিশোধ, বে-টার্মিনালের ভূমির অধিগ্রহণকৃত মূল্য চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব খাত থেকেই খরচ করা হয়েছে। টুলস পোর্ট হিসেবে নিজেদের অবস্থান মজবুতকরণের পর বিশ্বের আধুনিক বন্দরগুলোর মতো ল্যান্ডলর্ড পদ্ধতিতে প্রবেশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ল্যান্ডলর্ড পদ্ধতি হলো কর্তৃপক্ষ শুধু ভূমি দেবে এবং লজিস্টিক সাপোর্ট দেবে। প্রাইভেট বিনিয়োগকারীরা বন্দর নির্মাণ ও পরিচালনা করবে। বন্দর কর্তৃপক্ষকে চুক্তি অনুযায়ী রাজস্ব প্রদান করবে। এই প্রাইভেট বিনিয়োগ সরাসরি সরকারিভাবেও হতে পারে অথবা সরকারের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমেও হতে পারে। চট্টগ্রাম বন্দর এখন এই ল্যান্ডলর্ড পদ্ধতিতে প্রবেশ করেছে। এই পদ্ধতিতে বে-টার্মিনালের নির্মাণ হতে যাওয়া তিনটি টার্মিনালের দুটি টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য দেওয়া হচ্ছে পোর্ট অব সিঙ্গাপুর ও ডিপি ওয়ার্ল্ডকে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালনার আওতাধীন থাকা মাল্টিপারপাস টার্মিনালটিও বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়া হতে পারে।
ল্যান্ড লর্ডে প্রথম চুক্তি ডেনমার্কের এপি মুলারের সাথে : ল্যান্ডলর্ড পদ্ধতিতে বে-টার্মিনালের দুটি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য সরকার জিটুজি পদ্ধতিতে পোর্ট অব সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেও এই পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ চুক্তি সম্পাদন করেছে ডেনমার্কের এপি মুলারের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান মায়ের্সক শিপিং লাইন। বিশে^র দ্বিতীয় শীর্ষ এই শিপিং লাইন পতেঙ্গার লালদিয়ায় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করতে যাচ্ছে। গত বছরের ১৭ নভেম্বর লালদিয়ার চরে ৪৮ বছরের (নির্মাণকাল তিন বছর, ৩০ বছরের চুক্তি, মেয়াদ শেষে আরও ১৫ বছর বাড়ানো যাবে) জন্য টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি করে। এরই মধ্যে জায়গার দখল নিয়ে কাজ শুরুর পথে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এপি মুলারের সঙ্গে চুক্তির রেশ না কাটতেই গত ২০ এপ্রিল কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য চুক্তি করা হয় দেশীয় বহুজাতিক কোম্পানি এমজিএইচর সঙ্গে।
এপি মুলারের পর দেশীয় কোম্পানি এমজিএইচ : পতেঙ্গার লালদিয়ার চরে যে অংশে এপি মুলারকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার পাশেই ৭ একর জায়গায় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দেশীয় বহুজাতিক কোম্পানি এমজিএইচ গ্রুপকে। দেশে বেসরকারি উদ্যোগে প্রথমবারের মতো নির্মাণ হতে যাওয়া এই টার্মিনালে ২৫০ মিটারের একটি জেটি থাকবে, যেখানে একটি জাহাজ ভেড়াতে পারবে। ২০ বছরের চুক্তিতে বরাদ্দ দেওয়া এই টার্মিনাল নির্মাণে ১৮ মাস সময় লাগতে পারে। টার্মিনাল নির্মাণে প্রাথমিকভাবে এখানে ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হতে পারে। টার্মিনালটিতে মাসে ৪০ হাজার একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং করার সক্ষমতা করে তৈরি করা হচ্ছে।
কর্ণফুলীর ওপারে গড়ে উঠেছে কর্ণফুলী ডকইয়ার্ড
দেশীয় আরেক বিনিয়োগকারী কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স নদীর ওপারে ইছানগর এলাকায় গড়ে তুলেছে কর্ণফুলী ড্রাইডক। এই ড্রাইডকের সঙ্গে রয়েছে দুটি জেটি, যেখানে দুটি জাহাজ ভিড়তে পারে। এখানে প্রায় সাড়ে ১১ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারে। মোহনার কাছাকাছি হওয়ায় সময়ও কম লাগে। বেসরকারি এই জেটিতে প্রথম জাহাজ ভেড়ানো হয় ২০২১ সালের ৩০ মার্চ। পানামা পতাকাবাহী দিনা ওশেন নামের জাহাজটি ১৫ হাজার ২২১ টন স্ক্র্যাপ নিয়ে জেটিতে ভিড়ে। এর পরের দিন থেকেই জেটিতে পণ্য খালাস শুরু হয়। সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফটের (পানির নিচের অংশ) জাহাজটি ১৫৪ ফুট লম্বা। ইস্পাত তৈরির দেশীয় প্রতিষ্ঠান বিএসআরএমের স্ক্র্যাপ নিয়ে জাপানের চিবা বন্দর থেকে ছেড়ে আসা জাহাজটি ওই বছরের ২৩ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে প্রবেশ করে। এরপর থেকেই বেসরকারি এই জেটিতে জাহাজ ভেড়ানো ও পণ্য খালাস কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই জেটির দৈর্ঘ্য আরও বাড়িয়ে ৫৭০ মিটারে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে। আর তা হয়ে গেলে বড় আকারের তিনটি মাদার ভেসেল সহজেই ভিড়তে পারবে। এই জেটি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে কর্ণফুলী ড্রাইডকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে বর্তমানে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ কনটেইনার নিয়ে একটি জাহাজ ভিড়তে পারে। কিন্তু আমাদের এই জেটিতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কনটেইনার নিয়ে বড় জাহাজগুলো ভিড়তে পারবে। এতে পণ্যের পরিবহন খরচ কমে আসবে এবং ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।
অন্যদিকে, বেসরকারি বিনিয়োগে নির্মিত এই জেটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন,‘বন্দরে বেসরকারি বিনিয়োগ যত বাড়বে, বন্দরের প্রবৃদ্ধি তত বাড়বে। একইসঙ্গে কর্ণফুলী ড্রাইডকের ইয়ার্ডে যদি বেশি জাহাজ ভেড়ার সুযোগ পায় এর সুবিধা তো চট্টগ্রাম বন্দরই পাবে।’
এনসিটিতেও আসছে বিদেশি বিনিয়োগ
নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ১৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে কথা বলেন। তিনি সংবাদিকদের বলেন, এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবনা রয়েছে। তাদের প্রস্তাবনার শর্তগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশের স্বার্থ প্রাধান্য দিয়েই বরাদ্দের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বরাদ্দের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ প্রায় ১১ দিন চট্টগ্রাম বন্দর অচল করে রেখেছিল অন্তর্বর্র্তী সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে। তখন সরকার এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি বিনিয়োগ স্থগিত করলেও বাস্তবে এর আলোচনা থেমে নেই। চুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে ঠিকই আলোচনা চলছে। নৌমন্ত্রীর কথায়ও এমনই আভাস পাওয়া যায়।
বেসরকারি বিনিয়োগে গতি আসবে বন্দরের
চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন জাফর আলম। তার সময়েই মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে যায়। বে-টার্মিনালে বিদেশি বিনিয়োগের শুরুও হয়েছিল তখন। চট্টগ্রাম বন্দরের দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সম্পর্কে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর একসময় সার্ভিস পোর্ট ও টুলস পোর্ট হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু সময়ের আবর্তনে আমরা এখন ল্যান্ডলর্ড পদ্ধতিতে যেতেই হবে। আর এরই আলোকে সরকারকে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে পলিসি নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। সেই পলিসি অনুযায়ী বিনিয়োগকারীরা কার্যক্রম করছে কিনা, তা মনিটরিং করবে। চট্টগ্রাম বন্দরের ক্ষেত্রেও এমনটাই হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ বেশি এলে দেশের সার্বভৌমত্ব চলে যাচ্ছে এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। বিনিয়োগকারী বেশি হলে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে এবং দেশের ব্যবসায়ীরা দ্রুত সেবা পাবেন। এতে আমাদের ব্যবসা বাণিজ্যেরই কিন্তু লাভ হবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে যত বিনিয়োগকারী আসবে, তারা তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পণ্যও কিন্তু নিয়ে আসবে। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের সামনে ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হচ্ছে। সিঙ্গাপুর যেমন ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হিসেবে কাজ করছে তেমনি আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো এখানে বিনিয়োগ করলে চট্টগ্রাম বন্দরেরও এমন সুযোগ রয়েছে। আর আমরা সেদিকেই যাচ্ছি।
৬৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের স্বপ্ন
চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনালে পিএসএ সিঙ্গাপুর এবং ডিপি ওয়ার্ল্ড উভয় প্রতিষ্ঠান ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার করে মোট ১ হাজার ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করার কথা রয়েছে প্রাক্কলিত চুক্তি অনুযায়ী। এ ছাড়া মাল্টিপারপাস টার্মিনালেও প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হতে পারে। অন্যদিকে লালদিয়ায় এপি মুলারের মায়ের্সক ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে রেডসি গেটওয়ে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে ডিপি ওয়ার্ল্ড ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের কথা রয়েছে। এ ছাড়া বে-টার্মিনালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বিশ^ব্যাংক থেকে ৬৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং নদীর ওপারে কর্ণফুলী ড্রাইডকে বিদেশি বিনিয়োগ আছে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সব মিলিয়ে ৩ হাজার ৮৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আসছে বিদেশ থেকে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৬ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। এ ছাড়া মাতারবাড়ীতে জাইকার বিনিয়োগ অছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা, পতেঙ্গার লালদিয়ায় এমজিএইচ বিনিয়োগ করবে ৫০০ কোটি টাকা এবং কর্ণফুলী ড্রাইডক এরই মধ্যে বিনিয়োগ করেছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক ৬২ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হতে যাচ্ছে।