পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং

চীনের প্রস্তাবে ভারতের আপত্তি থাকলে বিবেচনা

তিস্তা প্রকল্পে চীনের প্রস্তাবে ভারতের আপত্তি থাকলে ভূরাজনৈতিক বিবেচনায় এগোতে হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরীন। গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাপ্তাহিক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ২১ ডিসেম্বর বলেছেন, ‘এরই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তিস্তা নদীবিষয়ক কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব আমরা পেয়েছি। আসন্ন নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছি। তিস্তা নদীর উন্নয়নে চীন কাজ করতে আগ্রহী। আশা করছি, আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর তিস্তা প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারব।’

চীনের রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য কী? বাংলাদেশ চীনের কাছে তিস্তা নদীর উন্নয়ন-সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাব করেছে কি না এই প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়কাল এবং ব্যয় কত এমন প্রশ্নের উত্তরে সেহেলী সাবরীন বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী দেশ। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে তারা সহযোগিতা করে আসছে। তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সহযোগিতা করার ব্যাপারেও চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বিবেচনা করে দেখবে।’

চীন বলছে, নির্বাচনের পর তিস্তা প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। কিন্তু চীন যেখানে তিস্তার কাজ করবে, তার থেকে শিলিগুড়ি করিডর খুব দূরে নয়। শিলিগুড়ি করিডরকে ভারত ‘চিকেন্স নেক’ নামেও অভিহিত করে। দেশটি মনে করে, তিস্তার উন্নয়ন কাজে নেমে চীন এটাকে নিজেদের কবজায় নিতে চায়। এ কারণে ভারত তার চিকেন নেকের সামনে চীনের উপস্থিতি দেখতে চায় না। এ ক্ষেত্রে তিস্তায় চীনের কাজ নিয়ে ভারতের আপত্তি কতটুকু আমলে নেওয়া হবে?

এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘এ রকম অনুমাননির্ভর প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা সহজ নয়। এ রকম কোনো প্রস্তাব যদি থাকে, তখন ভূরাজনৈতিক বিবেচনায় এগোতে হবে।’

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৩৫ দেশের ১৮০ পর্যবেক্ষকের আবেদন : সেহেলী সাবরীন বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে ৩৫টি দেশ থেকে ১৮০ জন পর্যবেক্ষক নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশ থেকে আরও ৩০ জন কর্মকর্তা নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে বাংলাদেশে আসবেন।

পর্যবেক্ষকদের জন্য ব্যয় বরাদ্দ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ প্রদানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

ভারতীয় সাংবাদিকরা নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, তারা এখনো অনুমতি পাননি এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মুখপাত্র সেহেলী বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন সংস্থার সাংবাদিকরা নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন। নির্বাচন কমিশন বিদেশি সাংবাদিকদের আবেদন নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করছে। ওই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে যাদের আবেদন গৃহীত হবে, তাদের অনুমতির প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যেই কিছুসংখ্যক সাংবাদিককে তাদের সংশ্লিষ্ট মিশনে ভিসার আবেদন পাঠাতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ইমেইলের মাধ্যমে অনুরোধ করেছে।