সিরাজগঞ্জ সদরের হাট বয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দুইটি শূন্য পদে পরীক্ষার আগেই কোন প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হবে তা চূড়ান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২২ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে এ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চাকরি প্রার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ৬ জন চাকরি প্রার্থী। তারা ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন।
চাকরি প্রার্থীরা জানান, আগামীকাল শনিবার হাট বয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী ও আয়া পদে নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। গত বুধবার এ পদ দুটিতে আবেদনকারীদের বিদ্যালয়ে ডেকে পরীক্ষার তারিখ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু এর আগেই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মঞ্জুর রহমান বকুল, প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম যোগসাজশ করে নৈশ প্রহরী পদে একজনের কাছ থেকে ১২ লাখ ও আয়া পদে একজনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে তাদের নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিষয়টি ওই দুই প্রার্থীর ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগের সূত্র ধরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েক মাস আগে হাট বয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী ও আয়া পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে নৈশপ্রহরী পদে ৭ জন ও আয়া পদে ৮জন চাকরির আবেদন করেন। গত দুই সপ্তাহ ধরে পদ দুইটিতে নিয়োগের জন্য ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে গত বুধবার অনেকটা হুট করেই ৩০ ডিসেম্বর বিকেল ২টায় নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের কথা জানানো হয়।
তিন চাকরিপ্রত্যাশী নাইম আহমেদ, ছাকমান আলী ও শান্তি রেজা জানান, গত দুই সপ্তাহ আগে এলাকাবাসীর মধ্যে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি জানাজানি হয়। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনজুর রহমান বকুল ও প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের নির্দেশে সহকারী শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম ফরিদ নৈশ প্রহরী পদে নওদাশৈলাবাড়ী গ্রামের আনিছুর রহমানের পুত্র মো. উজ্জল হোসেনের কাছ থেকে ১২ লাখ ও আয়া পদে খলিশাকুড়া গ্রামের জিয়া শেখের স্ত্রী সাথী খাতুনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে সকলের মধ্যে জানাজানি হয়।
এমতাবস্থায় বৃহস্পতিবার ছয়জন চাকরিপ্রত্যাশী ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি তদন্তের জন্য জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর আবেদন করেন। এ ছয় চাকরি প্রার্থী হলেন, রিমন, শান্তি রেজা, কায়ফা, মো. ছাকমান আলী, নাইম ও রায়হান আলী।
নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্য। একাধিক সদস্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে মোবাইলে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য গোলাম মওলা বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের মধ্যে থেকে একজনকে নিয়োগ কমিটিতে রাখতে মিটিং ডেকেছিল। মিটিংয়ে কথা কাটাকাটি হওয়ায় মিটিং অসমাপ্ত রয়েছে। কিন্তু এখন শুনছি, সেই মিটিংয়ের উপস্থিতি স্বাক্ষর রেজ্যুলেশনে দেখিয়ে নিয়োগ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিয়োগের বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির ৫ জন সদস্যের কোনো মতামত গ্রহণ করা হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত নই। অভিযোগ দাখিল করা হলে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে পরবর্তী সকল কার্যক্রম পরিচালনা করব।
এ ব্যাপারে নিয়োগ কমিটির সভাপতি মনজুর রহমান বকুল এর মোবাইলে বারবার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এলিজা সুলতানা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কাজি সলিমুল্লাহ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি দেরিতে দিয়েছে। অভিযোগের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।