ফিচার আইফোন চুরি দূর করতে নতুন সুরক্ষা ফিচার চালু করতে যাচ্ছে টেক জায়ান্ট অ্যাপল। আইফোনে থাকা বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া থেকে অপরাধীদের দূরে রাখতে নতুন এই ফিচার। বাড়তি একটি ধাপ আছে, যা নিরাপত্তার অতিরিক্ত স্তর হিসেবে কাজ করবে।
আইফোন ব্যবহারকারীরা বর্তমানে কেবল একটি পাসকোড ব্যবহার করে ফোনে থাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য দেখতে পারেন বা ফোনের সেটিংসে আনতে পারেন পরিবর্তন। সাধারণত চার বা ছয় সংখ্যার পাসকোডটি ব্যবহৃত হয় ডিভাইস আনলক করা, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দেখা থেকে শুরু করে ফোনে সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড দেখাসহ আরও বিভিন্ন কাজে।
নতুন এই ‘স্টালেন ডিভাইস প্রোটেকশন’ ফিচার আসায় চোর যদি পাসকোডও হাতে পেয়ে যায় তবুও সুরক্ষিত থাকবে ব্যবহারকারীর তথ্য। প্রথাগত পাসকোডের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে, নতুন এই ফিচারে এখন তথ্য দেখা বা ফোনে পরিবর্তন আনার মতো কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে ‘ফেইস আইডি’ (চেহারা শনাক্তকরণ) বা ‘টাচ আইডি’ (আঙুলের ছাপ)-এর মাধ্যমে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করতে হবে।
অ্যাপল আইডির পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা, চেহারা অথবা আঙুলের ছাপ শনাক্তকরণ যুক্ত করা বা বাদ দেওয়া, ‘ফাইন্ড মাই আইফোন’ ফিচারটি বন্ধ করা বা এই নতুন ফিচারটিকে বন্ধ করার মতো সংবেদনশীল কিছু পরিবর্তন করতে হলে ব্যবহারকারীকে একবার বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদানের পর নিরাপত্তার স্বার্থে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। এরপর পুনরায় বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করে তবেই এসব পরিবর্তন আনতে পারবেন তারা।
সিএনএনকে দেওয়া বিবৃতিতে অ্যাপলের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘ব্যবহৃত ডিভাইসের প্রতি হুমকি বাড়তে থাকায়, আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে শক্তিশালী ও নতুন সব ফিচার তৈরি করছি ব্যবহারকারী ও তাদের তথ্যের সুরক্ষার জন্য। কিছু বিরল ক্ষেত্রে, চোর পাসকোডের সাহায্যে ব্যবহারকারীর ওপর নজর রাখতে ও ডিভাইসটি চুরি করতে পারে, সে ক্ষেত্রে এই ‘স্টোলেন ডিভাইস প্রোটেকশন’ সুরক্ষার অত্যাধুনিক স্তর হিসেবে কাজ করবে।’
অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি তখনই চালু হবে যখন ব্যবহারকারী তার কাজের জায়গা বা বাড়ির মতো পরিচিত অবস্থান থেকে দূরে যাবেন। আর এই অবস্থানগুলো ডিভাইসটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই শিখে নেবে ও সংরক্ষণ করবে। বর্তমানে শুধু পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ফিচারটি, তবে আসন্ন সফটওয়্যার আপডেটের অংশ হিসেবে ফিচারটি উন্মুক্ত করা হবে সব আইফোন ব্যবহারকারীর জন্য।