ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজা উপত্যকা এবং মিসরের মধ্যকার সীমান্ত অঞ্চলটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েল নিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজার ‘অসামরিকীকরণ’ নিশ্চিত করতেই এমন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধের ১৩তম সপ্তাহে প্রবেশ উপলক্ষ্যে একটি সংবাদ সম্মেলন এ পদক্ষেপের কথা জানান নেতানিয়াহু।
রবিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।
সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ফিলাডেলফি করিডোর (গাজার দক্ষিণে ক্লোজিং পয়েন্ট) অবশ্যই আমাদের হাতে থাকতে হবে। এটা বন্ধ করা আবশ্যক। এটা স্পষ্ট যে অন্য কোনো ব্যবস্থায় গাজার নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।‘
তিনি আরও বলেন, তারা গাজায় হামাসকে ধ্বংস করতে চায় এবং এই অঞ্চলটিকে নিরস্ত্রীকরণ করতে চায়।
সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে নির্মূল করে গাজায় বন্দী ইসরায়েলি জিম্মিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি পুনর্নবীকরণ করেন।
তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধ এখন চরমে। আমরা সব ফ্রন্টে লড়াই করছি। বিজয় অর্জনের জন্য সময় লাগবে। যেমনটি ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ বলেছেন, যুদ্ধ আরও অনেক মাস ধরে চলবে।”
এ সময় ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ আক্রমণ অব্যাহত রাখলে ইসরায়েল সরাসরি ইরানে আক্রমণ চালাবে বলেও হুমকি দেন নেতানিয়াহু।
ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে প্রায় তিন মাস ধরে অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। তাদের চালানো এই নিঃসংশ হামলায় নিহত হয়েছেন ২১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি।
গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটিতে চলমান ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ২১ হাজার ৬৭২ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু।