শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

টাঙ্গাইলের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমএসআর (মেডিকেল ও সার্জিক্যাল রিকুইজিট) টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে মেসার্স শামসুল হক ফার্মেসী ও মেসার্স সাঈদ মেডিকেল হল নামের দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সর্বনিম্ন দরদাতাদের পরিবর্তে উচ্চ দরদাতাদের টেন্ডার বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে সরকারের কয়েক কোটি টাকা ক্ষতি হবে। এই অভিযোগে আমার গত ৭ ডিসেম্বর হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিতে যাই। কিন্তু তিনি গ্রহণ করেননি। পরে অভিযোগটি ডাকযোগে পাঠানো হয়। এছাড়াও পুনর্মূল্যায়নের জন্য গত ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিট পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট টেন্ডারের কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোর্টের আদেশ অমান্য করে টেন্ডারের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং মালামাল গ্রহণ করছে।

তারা আরও বলেন, গত ১৫ অক্টোবর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের এমএসআর সামগ্রী ক্রয় করতে ঔষধ, লিলেন, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, গজ ব্যান্ডেজ, কটন, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট এবং আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য ৬টি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করেন। এই দরপত্রে টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ঠিকাদার অংশ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে মেসার্স শামসুল হক ফার্মেসী, মেসার্স শামসুল হক এন্টারপাইজ, মেসার্স সাঈদ মেডিকেল হল নামে আমরা টেন্ডারে অংশ গ্রহণ করি। শিডিউলে উল্লেখিত সকল শর্তাবলী পূরন করে আমরা তিন প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করি। দাখিলের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টেন্ডারগুলো অনলাইনে (ইজিপি) ওপেনিং শিট প্রকাশ করে। প্রকাশিত শিটে দেখা যায় নন ইডিসিয়েল মেডিসিন গ্রুপে ছয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহণ করে।

মেসার্স সাঈদ মেডিকেল হল এক কোটি ১৭ লাখ ৯১ হাজার ২৬৪ টাকা উল্লেখ করে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে প্রথম হয়। মেডিকেল যন্ত্রপাতি গ্রুপে পাঁচ জন অংশ নেয়। এদের মধ্যে এক কোটি ৬৫ লাখ ৬৯ হাজার ৫৯০ টাকা উল্লেখ করে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে প্রথম হয়। এছাড়াও গজ, ব্যান্ডেজ, কটন গ্রুপে ছয় গ্রুপ অংশ নেয়। এদের মধ্যে মেসার্স শামসুল হক ফার্মেসী ৭০ লাখ ৩৪ হাজার ৮৭১ টাকা উল্লেখ করে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে প্রথম হয়। লিলেন গ্রুপে ছয় জন ঠিকাদার অংশ গ্রহণ করেন। ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৯৫৩ টাকা উল্লেখ করে মেসার্স শামসুল হক ফার্মেসী সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে প্রথম হয়।

তবে নিয়ম উপেক্ষা করে সর্বোচ্চ দরদাতাদের টেন্ডার বরাদ্দ দিয়েছে হাসপাতাল পরিচালক। 

শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ড. মো আব্দুল কুদ্দুসের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।