অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে স্বপ্ন ছুঁয়েছেন ভ্যানচালক বাবার ছেলে মো. সানাউল্লাহ। গার্মেন্টস শ্রমিক মা ও ভ্যানচালক বাবার কঠোর পরিশ্রম আর ত্যাগের ফসল হিসেবে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তার এ সাফল্যের খবরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের উত্তর পাড়া এলাকায় বইছে আনন্দের জোয়ার।
ভ্যানচালক সুরুজ আলীর ছোট ছেলে মো. সানাউল্লাহ এবছর এমবিবিএস/বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের সীমা নেই।
স্থানীয়রা জানান, ভ্যানচালক সুরুজ আলী দীর্ঘদিন ধরে চরম কষ্ট ও অভাবের মধ্য দিয়ে সংসার চালিয়ে আসছেন। কোনো পুঁজি না থাকলেও অটুট মনোবল নিয়ে তিনি জীবন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। একসময় দৈনিক ১০০ টাকা জমা শর্তে পা-চালিত ভ্যান চালানো শুরু করেন। পরে মোটরচালিত ভ্যান ও কখনো দিনমজুরের কাজ করে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। অন্যদিকে সানাউল্লাহর মা পোশাক কারখানায় কাজ করে সংসারের হাল ধরেন।
গ্রামবাসীরা জানান, সানাউল্লাহ হাজী ছোট কলিম স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং ময়মনসিংহের সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ- ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর মেডিকেলে ভর্তির লক্ষ্যে নিরলস পরিশ্রম চালিয়ে অবশেষে সফল হন।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল সরকার বলেন, ‘সুরুজ আলী প্রায় আড়াই দশক আগে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা গ্রাম থেকে শ্রীপুরে এসে জীবন সংগ্রাম শুরু করেন। তার সততা ও পরিশ্রমের ফল আজ সবাই দেখছে। আমরা তাদের সাফল্যে গর্বিত।’
ভ্যানচালক সুরুজ আলী বলেন, ‘পাঁচ সদস্যের সংসারে প্রতিদিনের খরচ জোগানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও সন্তানদের পড়াশোনা থামাইনি। আজ আমার ছোট ছেলে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েছে- এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
মেডিকেলে চান্স পাওয়া সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমি শুধু বাবার স্বপ্ন পূরণ করতেই নয়, সমাজের অসহায় মানুষদের সেবা করার লক্ষ্য নিয়ে পড়াশোনা করেছি। বাবা-মা ও ভাই-বোনদের ত্যাগই আমাকে এই জায়গায় এনেছে। আমি একজন মানবিক চিকিৎসক হয়ে মানুষের পাশে থাকতে চাই।’
হাজী ছোট কলিম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হান্নান সজল বলেন, ‘সানাউল্লাহ আমাদের প্রতিষ্ঠানের গর্ব। আমরা আশা করি সে একজন আদর্শ ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
সানাউল্লাহর সাফল্যের খবরে পুরো গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।
