গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ আসনের নিহত এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার উপজেলার বামনডাঙ্গায় আশরাফ আলী হিমাগার চত্বরে আয়োজিত স্মরণসভায় মানসিক হয়রানির অভিযোগ করেছেন লিটনের সহধর্মিণী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি।
তিনি লিটনের অকালে মৃত্যু ও পিতৃহারা একমাত্র পুত্র সন্তানের ওপর মানসিক নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগ করেন।
প্রয়াত এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের স্ত্রী সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, দুর্বৃত্তরা যেমন তার স্বামীকে হত্যা করেছে, তেমনি প্রয়াত লিটনের বড়বোন তাকে মানসিক নির্যাতন ও হয়রানি করছেন। তার নামে মামলা দিয়ে তাকে হেনস্থা ও হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি এ অবস্থা থেকে মুক্তি চান। তিনি স্বামীর হত্যাকারীদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করারও দাবি জানান।
স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এম.এ মতিন। বক্তাব্য দেন আলমগীর কবীর হান্নান, সৈয়দ মাসুদা খাজা, আশিকুর রহমান আশিক, মিজানুর রহমান লিটু, শাহ আলম, আশিকুজ্জামান প্রামাণিক তুহিন, হাবিবুর রহমান হবি, ফয়সাল সাকিদার আরিফ, প্রয়াত লিটনের পুত্র উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব সাদনান রাতিন প্রমুখ। এর আগে বামনডাঙ্গার মাস্টারপাড়ায় নিজবাড়িতে এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের কবরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন ও সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের শাহবাজ গ্রামের মাস্টারপাড়ার বাড়িতে লিটনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডা. আবদুল কাদের, তার একান্ত সহকারী মো. শামছুজ্জোহা, গাড়িচালক আবদুল হান্নান, গৃহকর্মী মেহেদি হাসান, দূর সম্পর্কের ভাগ্নে ও বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক শাহীন মিয়া, সাবেক পোশাকশ্রমিক আনোয়ারুল ইসলাম রানা ও পলাতক চন্দন কুমার রায়কে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে রায় দেন আদালত।